দেনা-পাওনা
দেনা-পাওনা
বছর দশেক পর নিজের শহরে ফিরেছিল অরুণ। পুরোনো বাজারের মোড়ে দাঁড়াতেই চোখে পড়ল ছোট্ট চায়ের দোকানটা।
দোকানের মালিক তাকে দেখে বললেন,
— “চিনতে পারছিস?”
অরুণ একটু ইতস্তত করে বলল,
— “মনে হচ্ছে… কিন্তু ঠিক…”
লোকটি হেসে বললেন,
— “তোর কলেজের শেষ পরীক্ষার ফি দেওয়ার টাকা ছিল না। মনে আছে?”
অরুণের চোখ বড় হয়ে গেল।
সেই মানুষটিই তো একদিন তাকে চুপচাপ টাকা দিয়েছিলেন।
— “কত টাকা ছিল বলুন, আজই দিয়ে দিচ্ছি।”
লোকটি মাথা নাড়লেন।
— “টাকাটা অনেক আগেই শোধ হয়ে গেছে।”
— “কীভাবে?”
— “গত বছর আমার ছেলে পড়াশোনা ছেড়ে দিতে চেয়েছিল। তুই ওকে বুঝিয়ে আবার কলেজে ভর্তি করেছিলি। সেদিনই তোর দেনা-পাওনার খাতা বন্ধ হয়ে গেছে।”
অরুণ কিছু বলতে পারল না।
চায়ের কাপটা হাতে নিয়ে শুধু মনে হলো—
জীবনের সব দেনা টাকা দিয়ে শোধ হয় না। কিছু পাওনা ফিরে আসে অন্য কোনো মানুষের হাসিতে।
