অভিশপ্ত
অভিশপ্ত
গ্রামের একেবারে শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে ছিল একটি পুরোনো জমিদারবাড়ি।
লোকেরা বলত, বাড়িটি অভিশপ্ত।
সন্ধ্যার পর জানালায় নাকি আলো জ্বলত। মাঝরাতে শোনা যেত পায়ের শব্দ। কেউ কেউ বলত, বাড়ির শেষ জমিদার মৃত্যুর আগে এমন এক অভিশাপ দিয়ে গিয়েছিলেন, যার হাত থেকে কেউ রেহাই পাবে না।
বহু বছর পর শহর থেকে গ্রামে ফিরল অয়ন। তার ঠাকুরদার পুরোনো বাড়ির কাগজপত্র খুঁজতে গিয়ে সে জমিদারবাড়িটির একটি পুরোনো নথি পেল।
কৌতূহলী হয়ে সেদিন রাতেই সে বাড়িটিতে ঢুকল।
একটি ঘরের মেঝের নিচে পাওয়া গেল একটি লোহার বাক্স। ভিতরে ছিল কিছু চিঠি।
চিঠিগুলো পড়তে পড়তে অয়নের মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল।
জমিদার অভিশাপ দেননি।
বরং মৃত্যুর আগে লিখে গিয়েছিলেন—
“যাদের কাছ থেকে অন্যায়ভাবে জমি নিয়েছি, তাদের সন্তানদের যেন একদিন তা ফিরিয়ে দেওয়া হয়।”
অয়ন বুঝল, বহু বছর ধরে যে “অভিশাপ”-এর গল্প গ্রামে ঘুরছে, তার ভিতরে লুকিয়ে আছে এক অসমাপ্ত অপরাধের ইতিহাস।
পরদিন সে গ্রামের মানুষের সামনে নথিগুলো তুলে ধরল।
বছরের পর বছর জমে থাকা অন্যায়ের হিসাব খুলতে শুরু করল।
সেদিন সন্ধ্যায় জমিদারবাড়ির জানালায় আর কোনও আলো জ্বলল না।
গ্রামের বৃদ্ধ মধুসূদন বললেন,
“দেখলে? অভিশাপ কেটে গেছে।”
অয়ন মৃদু হেসে বলল,
“না কাকু। অভিশাপ ছিল না। ছিল একটা অন্যায়, যার বিচার হয়নি।”
দূরে তখন ঢাক বাজছিল।
আর অয়ন ভাবছিল—
কোনও কোনও অভিশাপ ভাঙতে মন্ত্র লাগে না; সত্যকে শুধু একবার আলোয় আনতে হয়।
