বোধন
বোধন
গ্রামের পুরোনো দুর্গামণ্ডপে তখনও প্রতিমার চোখ আঁকা হয়নি।
প্রতিবছর ষষ্ঠীর সন্ধ্যায় সেখানে বোধন হয়। গ্রামের মানুষ নতুন জামাকাপড় পরে আসে, ঢাক বাজে, প্রদীপ জ্বলে ওঠে।
কিন্তু এ বছর মণ্ডপের এক কোণে চুপ করে বসেছিল রূপা।
তার বাবা কয়েক মাস ধরে অসুস্থ। সংসারের দায়িত্বও প্রায় তার কাঁধে। পুজোর আনন্দ যেন তার কাছে অনেক দূরের কোনো শব্দ।
পুরোহিত মন্ত্র পড়ছিলেন।
হঠাৎ রূপার চোখ গিয়ে থামল দেবীর মুখের দিকে।
তার মনে হল—দেবী যেন তাকিয়ে আছেন তার দিকেই।
রূপা মনে মনে বলল,
“মা, আমার সমস্যাগুলো তুমি কি বদলে দেবে?”
কোনও উত্তর এল না।
কিন্তু কিছুক্ষণ পর তার ভিতর থেকে আরেকটি প্রশ্ন উঠল—
“তুই নিজে কী বদলাবি?”
রূপা চমকে উঠল।
পরদিন থেকেই সে কাজ খুঁজতে শুরু করল। পাড়ার কয়েকটি শিশুকে পড়াতে শুরু করল। নিজের পুরোনো সেলাই মেশিনটাও বের করে নিল।
কয়েক মাস পরে সংসারে খুব বেশি স্বচ্ছলতা না এলেও রূপার মুখে আর সেই অসহায় ভাবটি ছিল না।
ষষ্ঠীর সন্ধ্যায় সে আবার মণ্ডপে এসে দাঁড়াল।
পুরোহিত বললেন,
“আজ দেবীর বোধন।”
রূপা মৃদু হেসে মনে মনে বলল—
“মা, এবার বুঝেছি। তোমার বোধনের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ভিতরেও কিছু একটা জেগে ওঠে। সেই জাগরণটাকেই হয়তো শক্তি বলে।”
বাইরে তখন ঢাক বাজছিল।
আর রূপার ভিতরে—
নিঃশব্দে শুরু হয়েছিল আরেকটি বোধন।
