ফাঁসির দড়ি
ফাঁসির দড়ি
জেলের সেই ঘরটায় একটি মোটা দড়ি রাখা ছিল।
প্রতিদিন সেটি দেখে বন্দিরা মুখ ফিরিয়ে নিত। কেউ নাম দিত—“ফাঁসির দড়ি”, কেউ বলত—“শেষ বিচার”।
কিন্তু বৃদ্ধ কারারক্ষী হরিদাস দড়িটাকে অন্য চোখে দেখতেন।
তিনি বলতেন,
“দড়িটা কাউকে মারে না। মানুষকে মারে তার নিজের কাজ।”
একদিন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এক বন্দি তাঁকে জিজ্ঞেস করল,
“কাকু, আমার কি আর কোনো সুযোগ নেই?”
হরিদাস উত্তর দিলেন না।
শুধু জানালার বাইরে তাকিয়ে বললেন,
“সুযোগ ছিল। যখন প্রথম অন্যায়টা করেছিলে। তারপর দ্বিতীয়বার। তারপর তৃতীয়বার। মানুষ ভাবে শেষ মুহূর্তটাই তার বিচার। আসলে বিচার শুরু হয় অনেক আগেই।”
বন্দি মাথা নিচু করল।
সেদিন রাতে সে প্রথমবার নিজের অপরাধের কথা ভাবল না—ভাবল সেই মানুষগুলোর কথা, যাদের জীবন তার একটি সিদ্ধান্তে বদলে গিয়েছিল।
ভোরে হরিদাস যখন ঘরে ঢুকলেন, বন্দিটি বলল,
“আমি শাস্তিকে ভয় পাচ্ছি না। ভয় পাচ্ছি—আমার জন্য যারা কেঁদেছে, তাদের কাছে কোনোদিন ক্ষমা চাইতে পারব না।”
হরিদাস চুপ করে রইলেন।
বাইরে তখন সূর্য উঠছিল।
আর ঘরের কোণে পড়ে থাকা দড়িটা যেন নিঃশব্দে বলে যাচ্ছিল—
মানুষের সবচেয়ে কঠিন ফাঁসির দড়ি কখনও গলায় পড়ে না;
কখনও কখনও তা সারাজীবন বিবেকের ভিতরে ঝুলে থাকে।
