প্রেতাত্মা
প্রেতাত্মা
পুরোনো বাড়িটা নিয়ে পাড়ায় অনেক গল্প ছিল।
রাত হলেই নাকি দোতলার বন্ধ ঘর থেকে পায়ের শব্দ শোনা যায়। কখনও জানালায় ছায়া দেখা যায়। কেউ কেউ বলত, বহু বছর আগে সেই ঘরে এক বৃদ্ধ একা মারা গিয়েছিলেন। তারপর থেকেই তাঁর প্রেতাত্মা নাকি বাড়িটা ছেড়ে যায়নি।
অভীক এসব বিশ্বাস করত না।
এক বর্ষার রাতে তাকে সেই বাড়িতেই রাত কাটাতে হলো। বিদ্যুৎ চলে গেল প্রায় মধ্যরাতে।
হঠাৎ—
ঠক... ঠক... ঠক...
দোতলার বন্ধ ঘরের দরজায় শব্দ।
অভীক টর্চ হাতে সিঁড়ি দিয়ে উঠল।
আবার শব্দ।
দরজার কাছে গিয়ে বলল,
— “কে?”
কোনো উত্তর নেই।
দরজাটা ধীরে ধীরে খুলে গেল।
ঘরের ভিতর একটা পুরোনো টেবিল, কয়েকটা বই আর দেওয়ালে ঝুলতে থাকা একটি বিবর্ণ ছবি।
ছবিটা দেখে অভীক থমকে গেল।
ছবির মানুষটি তার দাদু।
কিন্তু দাদুর পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আরেকজনকে সে চিনতে পারল না।
টেবিলের ওপর একটা পুরোনো ডায়েরি পড়ে ছিল।
পাতা উল্টাতেই একটি বাক্য চোখে পড়ল—
“যে সত্যিটা আমি বলতে পারিনি, একদিন সে-ই ফিরে আসবে।”
ঠিক তখনই পিছন থেকে ফিসফিস শব্দ—
“অভীক...”
সে ঘুরে দাঁড়াল।
কেউ নেই।
শুধু মেঝেতে পড়ে আছে একটা পুরোনো চিঠি।
চিঠিটা খুলে অভীক জানতে পারল—তার দাদু জীবনের সবচেয়ে কাছের বন্ধুর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলেন। সেই বন্ধুটি অপমান আর অভিমানে বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছিল। আর কখনও ফিরে আসেনি।
শেষ পাতায় লেখা—
“ভূতকে ভয় পেয়ো না। মানুষের করা অন্যায়কে ভয় পেয়ো। কারণ তার হিসাব কোনো অন্ধকারেই হারিয়ে যায় না।”
সেই রাতের পর বাড়িতে আর কখনও পায়ের শব্দ শোনা যায়নি।
অভীক শুধু একটি প্রশ্নের উত্তর আজও জানে না—
সেদিন রাতে সে কি সত্যিই কোনো প্রেতাত্মার সঙ্গে দেখা করেছিল, নাকি বহু বছরের অপরাধবোধই তাকে সেই চিঠির কাছে নিয়ে গিয়েছিল?

