কাঠপুতুল
কাঠপুতুল
শহরের এক পুরোনো গলিতে ছোট্ট একটা পুতুলের দোকান ছিল। দোকানের সবচেয়ে সুন্দর কাঠপুতুলটির নাম দিয়েছিল দোকানি—মাধবী।
লাল শাড়ি, কপালে ছোট্ট টিপ, হাতে কাঁচের চুড়ি।
সুতো টানলেই সে মাথা নোয়াত, হাত তুলত, ঘুরে দাঁড়াত।
প্রতিদিন কত মানুষ তাকে দেখে মুগ্ধ হতো।
একদিন এক ছোট মেয়ে দোকানে এসে মাধবীকে দেখে বলল,
— “কাকু, পুতুলটা কি নিজের মতো করে হাঁটতে পারে?”
দোকানি হেসে বলল,
— “না মা, সুতো নাড়ালেই ও হাঁটে।”
মেয়েটা কিছুক্ষণ চুপ করে মাধবীর দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর বলল,
— “তাহলে ও হাসে কীভাবে?”
দোকানি উত্তর দিতে পারল না।
সেদিন রাতে দোকান বন্ধ করার পর বৃদ্ধ দোকানি একা বসে মাধবীর দিকে তাকিয়ে রইল।
হঠাৎ তার নিজের জীবনটার কথা মনে পড়ল।
বাবা চেয়েছিলেন সে ব্যবসা করুক।
সে ব্যবসা করেছিল।
স্ত্রী চেয়েছিলেন অন্যরকম জীবন।
সে সেটাও মেনে নিয়েছিল।
ছেলে চেয়েছিল বিদেশে যেতে।
সেও সাহায্য করেছিল।
সবাইকে খুশি করতে করতে একদিন সে বুঝল—
নিজের ইচ্ছেটা সে শেষ কবে জিজ্ঞেস করেছিল, মনে নেই।
পরদিন সকালে সেই ছোট মেয়েটি আবার দোকানে এল।
বৃদ্ধ দোকানি মাধবীকে তার হাতে দিয়ে বলল,
— “নাও।”
মেয়েটি অবাক হয়ে বলল,
— “সুতো?”
বৃদ্ধ ধীরে ধীরে সুতোটা খুলে ফেললেন।
বললেন,
— “আজ থেকে ও নিজের মতো করে দাঁড়াক।”
মেয়েটি পুতুলটাকে বুকে জড়িয়ে নিল।
আর বৃদ্ধ দোকানি প্রথমবার নিজের জন্য একটা সিদ্ধান্ত নিলেন।
দোকানের দরজায় একটা কাগজ টাঙালেন—
“আজ দোকান বন্ধ। আজ আমি নিজের সঙ্গে দেখা করতে বেরিয়েছি।”
