নীলকণ্ঠ
নীলকণ্ঠ
গ্রামের মানুষ তাকে ডাকত নীলকণ্ঠ বলে।
কেউ জানত না কেন।
সে কারও বিপদে কখনও পিছিয়ে যেত না। কারও সংসারে অশান্তি হলে ছুটে যেত, কারও ছেলে চাকরি হারালে নিজের পরিচিতদের কাছে কথা বলত, আবার কারও চোখে জল দেখলে চুপচাপ পাশে বসে থাকত।
অথচ নিজের জীবনের কথা কেউ জানতে চাইলে সে হেসে বলত, — “আমার আবার কী!”
একদিন গ্রামের এক বৃদ্ধ তাকে বললেন,
— “তুই সবার কষ্ট নিজের মধ্যে জমাস কেন?”
লোকটি মৃদু হেসে বলল,
— “সব কষ্টের উত্তর দেওয়া যায় না। কিছু কষ্ট শুধু পাশে বসে সহ্য করতে হয়।”
বৃদ্ধ দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন,
— “তুই জানিস, এভাবে চলতে চলতে তোর নিজের গলাটাই একদিন নীল হয়ে যাবে?”
লোকটি আকাশের দিকে তাকিয়ে বলল,
— “হোক। যদি আমার নীল হয়ে যাওয়ায় কারও পৃথিবীটা একটু রঙিন হয়।”
বৃদ্ধ আর কিছু বললেন না।
শুধু বুঝলেন—
নীলকণ্ঠ হওয়া মানে বিষ পান করা নয়; নিজের যন্ত্রণাকে অন্যের ওপর ছড়িয়ে না দেওয়ার ক্ষমতা।
