যে মানুষটি ফিরে আসেন
যে মানুষটি ফিরে আসেন
পিতৃপক্ষের সকাল।
অয়ন বহু বছর পর গ্রামের বাড়িতে এসেছে। উঠোনের এক কোণে বাবা বসে আছেন—চুপচাপ। হাতে পুরোনো একটি অ্যালবাম।
অয়ন বলল,
— “কী দেখছ?”
বাবা একটা ছবির দিকে আঙুল দেখালেন।
ছবিতে অয়নের ঠাকুরদা। সাদা ধুতি-পাঞ্জাবি, মুখে গম্ভীর হাসি।
বাবা বললেন,
— “তোর ঠাকুরদাকে তো তুই দেখিসনি। কিন্তু জানিস, এই মানুষটাই আমাকে শিখিয়েছিলেন—অভাব থাকলেও কারও প্রাপ্য আটকে রাখতে নেই।”
অয়ন চুপ করে শুনছিল।
বাবা আবার বললেন,
— “মানুষ চলে যায়। কিন্তু তার শেখানো কথাগুলো থেকে যায়।”
সেদিন অয়ন প্রথমবার বুঝল—পিতৃপক্ষ শুধু চলে যাওয়া মানুষদের স্মরণ করার সময় নয়।
এটা নিজের ভিতরে ফিরে তাকানোর সময়ও।
সন্ধ্যায় অয়ন শহরে ফেরার আগে বাবার হাতে একটা খাম দিয়ে বলল,
— “এটা কী?”
— “তোমার নাতির পড়াশোনার জন্য।”
বাবা অবাক হয়ে তাকালেন।
অয়ন হেসে বলল,
— “তুমি তো বলেছিলে, আমাদের পাওয়া ভালো জিনিসগুলো পরের প্রজন্মকে দিয়ে যেতে হয়।”
বাবার চোখ ভিজে উঠল।
দূরে তখন সন্ধ্যার আলো জ্বলেছে।
অয়ন মনে মনে বলল—
“ঠাকুরদা, তোমাকে আমি দেখিনি। কিন্তু তোমার একটা অংশ আজও আমাদের মধ্যে বেঁচে আছে।”
হয়তো এটাই উত্তরাধিকার।
রক্তের নয় শুধু—
মূল্যবোধেরও।
