মহালয়ার ভোর
মহালয়ার ভোর
ভোররাত। রেডিওতে মহালয়ার স্তোত্রের সুর ভেসে আসছে।
অর্ক চুপচাপ বারান্দায় বসে শুনছিল। বহু বছর পর আজ সে আবার মহালয়ার ভোরে ঘুম থেকে উঠেছে।
ছোটবেলায় এই দিনটায় মা তাকে ঘুম থেকে তুলে দিতেন।
“ওঠ, মহালয়া শুরু হয়ে গেছে।”
অর্ক তখন বিরক্ত হয়ে বালিশে মুখ গুঁজে বলত,
“আর একটু ঘুমোতে দাও না!”
মা হেসে বলতেন,
“একদিন বুঝবি, এই ভোরটা আর ফিরে পাবি না।”
সত্যিই তো।
আজ মা নেই।
রেডিও চলছে, আকাশে আলো ফুটছে, দূরে কোনো বাড়িতে শিউলি ঝরছে—সবই আগের মতো। শুধু পাশে বসে শোনার মানুষটি নেই।
অর্ক হঠাৎ উঠে ঘরের পুরোনো আলমারি খুলল। মায়ের শাড়ির নিচে একটা ছোট্ট কাপড়ের ব্যাগ পেল।
তার ভিতরে ছিল একটি পুরোনো রেডিওর ব্যাটারি আর কাগজে লেখা কয়েকটি লাইন—
“অর্ক যেন কোনোদিন মহালয়ার ভোরটা ভুলে না যায়।”
চোখের কোণে জল এসে গেল তার।
সে রেডিওর শব্দটা একটু বাড়িয়ে দিল।
তারপর মনে হলো, মা যেন ঠিক পাশেই বসে আছেন।
অর্ক ধীরে বলল,
“মা, বুঝেছি। সত্যিই বুঝেছি।”
বাইরে তখন সূর্যের প্রথম আলো।
অন্ধকার সরে যাচ্ছিল।
আর অর্ক বুঝল—
কিছু মানুষ চলে গেলেও কিছু ভোর তাদের রেখে যাওয়া আলোয় চিরকাল জেগে থাকে।
