তন্ত্রসাধনা
তন্ত্রসাধনা
গ্রামের শেষ প্রান্তে ছিল একটি পুরোনো শ্মশান। তার পাশেই ভাঙাচোরা একটি ছোট মন্দির। সন্ধ্যার পর সেই পথে কেউ যেত না।
এক বর্ষার রাতে শহর থেকে আসা অর্ক সেখানে গিয়ে দেখল, মন্দিরের সামনে এক বৃদ্ধ সাধু বসে আছেন। সামনে প্রদীপ, ধূপ আর একটি তামার পাত্র।
অর্ক সাহস করে জিজ্ঞেস করল,
“আপনি এখানে তন্ত্রসাধনা করেন?”
সাধু মৃদু হেসে বললেন,
“হ্যাঁ।”
“তাহলে কি আপনি ভূত-প্রেত ডাকেন?”
সাধু কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন,
“না। আমি নিজের ভয়কে ডাকি।”
অর্ক অবাক।
সাধু বললেন,
“মানুষ বাইরে অশুভ শক্তিকে জয় করতে চায়। অথচ তার সবচেয়ে বড় অন্ধকার থাকে নিজের ভিতরে—লোভ, রাগ, অহংকার, প্রতিহিংসা আর ভয়। তন্ত্রসাধনা যদি সত্যিই সাধনা হয়, তবে প্রথম যুদ্ধটা সেই অন্ধকারের সঙ্গে।”
সেদিন রাতে অর্ক অনেকক্ষণ সাধুর পাশে বসে রইল।
ভোর হওয়ার আগে সাধু প্রদীপটি নিভিয়ে বললেন,
“অন্ধকারকে ভয় পেয়ো না। তাকে চিনতে শেখো। কারণ যে নিজের ভিতরের অন্ধকারকে চিনতে পারে, তার কাছেই আলো অর্থপূর্ণ হয়ে ওঠে।”
শহরে ফিরে অর্ক বহুদিন পর আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখল।
সেদিন প্রথমবার তার মনে হল—
সাধনা হয়তো মন্দিরে শুরু হয়, কিন্তু তার আসল পরীক্ষা মানুষের নিজের ভিতরেই।
