কালো জাদু
কালো জাদু
গ্রামের শেষ প্রান্তের পুরোনো বাড়িটাকে সবাই এড়িয়ে চলত।
লোকমুখে শোনা যেত, বাড়িটির শেষ মালিক কালো জাদু করতেন। তাঁর মৃত্যুর পরও নাকি মাঝরাতে জানালায় আলো জ্বলত, কারও পায়ের শব্দ শোনা যেত।
নতুন শিক্ষক অরিন্দম এসব বিশ্বাস করতেন না।
এক মহালয়ার রাতে তিনি সাহস করে বাড়িটির সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন।
হঠাৎ ভিতর থেকে একটা শব্দ এল—
“কে?”
অরিন্দম থমকে গেলেন।
তারপর দরজা খুলে বেরিয়ে এলেন এক বৃদ্ধা।
তিনি বললেন,
“ভয় পেয়েছ?”
অরিন্দম বললেন, “লোকেরা বলে এখানে কালো জাদু হয়।”
বৃদ্ধা মৃদু হেসে বললেন,
“হয়। তবে মন্ত্র-তন্ত্রের নয়।”
“তাহলে?”
“মানুষের ভয় দিয়ে মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করার জাদু।”
বৃদ্ধা জানালেন, বহু বছর আগে তাঁর স্বামী অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। গ্রামের মানুষ বলেছিল, কেউ কালো জাদু করেছে। চিকিৎসার বদলে পরিবার ভয় আর কুসংস্কারে ডুবে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত মানুষটিকে বাঁচানো যায়নি।
“সেদিন থেকেই বুঝেছিলাম,” বৃদ্ধা বললেন, “অন্ধকারের সবচেয়ে বড় শক্তি অন্ধকারে নয়—মানুষের ভয়েই।”
অরিন্দম চারদিকে তাকালেন।
ঘরের কোণে একটি প্রদীপ জ্বলছিল।
বৃদ্ধা বললেন,
“এই প্রদীপটা প্রতিরাতে জ্বালি। ভূত তাড়ানোর জন্য নয়। নিজেকে মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য—আলো জ্বাললে অন্ধকারের ক্ষমতা কমে যায়।”
বাইরে তখন মহালয়ার চণ্ডীপাঠের সুর ভেসে আসছিল।
অরিন্দম বুঝলেন—
কালো জাদু হয়তো মানুষের বিশ্বাসের গল্প; কিন্তু ভয়কে জয় করার শক্তিটাই মানুষের সত্যিকারের জাদু।
