বৈরাগ্য
বৈরাগ্য
স্টেশনের শেষ বেঞ্চটায় বৃদ্ধ মানুষটি প্রতিদিন বিকেলে এসে বসেন। হাতে কোনো ব্যাগ নেই, চোখে কোনো অপেক্ষাও নেই। তবু সবাই ভাবে, তিনি নিশ্চয়ই কারও জন্য অপেক্ষা করছেন।
একদিন এক কিশোর জিজ্ঞেস করল, “কাকু, আপনি কাকে খুঁজছেন?”
বৃদ্ধ হেসে বললেন, “আগে মানুষ খুঁজতাম। এখন নিজেকে খুঁজি।”
ছেলেটা অবাক হলো।
বৃদ্ধ ধীরে বললেন, “যা চলে গেছে, তাকে ধরে রাখতে গিয়ে অনেক বছর নষ্ট করেছি। একদিন বুঝলাম, নদীকে মুঠোয় ধরা যায় না। তখন থেকে শুধু তার বয়ে যাওয়া দেখি।”
সেদিন ট্রেন এলো, মানুষ নামল, মানুষ উঠল। বৃদ্ধও উঠে দাঁড়ালেন।
কোথাও গেলেন না।
শুধু আকাশের দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বললেন, “সব পাওয়া নয়, সব ছেড়ে দেওয়াও এক ধরনের প্রাপ্তি।”
সেদিন কিশোর প্রথম বুঝল—বৈরাগ্য মানে পৃথিবী ছেড়ে যাওয়া নয়, পৃথিবীর শোরগোলের মধ্যে নিজের নীরবতাকে খুঁজে পাওয়া।
