রাজহংসী
রাজহংসী
রাজহংসী
আমিই বপন করেছি সময়, কোয়ার্কের রং, ব্রহ্মান্ড,
আর জীবনের বীজ ।
আমি কেবল জুড়ে যাই পেরিয়ে আসা সময়, বিগ বাং, কৃষ্ণ গহ্বর।
হাঁসদের স্মৃতি, প্রেম , কষ্ট, দুঃখ, ছোট ছোট গল্প
তারা হঠাৎই নির্মাণ করেছিলো এক দিব্য পুরুষকে,।
আদতে সে ছিলো যে স্বর্গ থেকে বিতাড়িত পুরুষ,
সৃষ্টির রহস্য উন্মোচনে সদাই ছিলো সে ব্যস্ত।
প্রতিদিনই সে হারিয়ে যাচ্ছে এখন আমার থেকে,
যেমন নীল সাগরে, এক কণা, মুক্তোর মতোই হারিয়ে যায়।।
হাঁসেরা এখনও ঘুরে বেড়ায় রাজহংসীর চারিদিকে ,
তারা কেনো রাজহংসীর কাছে দু-দণ্ড জিরিয়ে নেবে না?
কুর্নিশ জানাবে না তারা ,এখনও তাদের রানীর সিংহাসন কে?
চারধারে নোংরা রাজনীতির খেলা, কুশীলবদের
অভিমুন্যর মত, চক্রবুহে তখন একাই রাজহংসী ।
এখন তাই আমার পালা। আমি তো জানতাম যুদ্ধের ফল।
হে দিব্য পুরুষ , তুমিও মৌন ছিলে রানীর অপমানেও?
একটা রাজহাঁস হতে তোমাকে না তো কেউ করেনি।
গভীর তুষারপাতে, যেখানে আমার দৃষ্টি, আর প্যাঁক প্যাঁক কখনোই পৌঁছোবে না , সেটা তো আমি জানতামই ,
অথচ বাঘটি সেখানেই তার থাবার একটি ছাপ দিয়ে গেলো
আর হঠাৎ এক লাফে লণ্ডভণ্ড করে দিলো
কবিতার সব ঐকতান ,কবিতা দিয়ে সাজানো , ঘর আমার,
চারধারে তখন সব দশাননের "সীতা কুঞ্জের " অসুর।
তাই হয়তো বা ছিলো আমার পালা ,দুর্গা হতে।
হে দিব্যপুরুষ ,তুমি কিন্তু তখনও অবতার হয়ে এলে না।
কলির পশুগুলো এখনও জন্মায়নি, ব্রহ্মা বলেছিলো।
সবই কি ছিল তবে রাজহংশীর মনের ভুল আর ভুল?
আর সেই টক্সিক পরিবেশটাও? ইগো আর রেসপেক্ট এর ট্যাগ অফ ওয়ার,
"আগে তো পালাও রাজহংসী" , ময়দান ছেড়ে।
এক রাজহাঁসের ফিস ফিস "পরাজয় মেনে নিয়েই "
যদিও আমার একটা খাঁচার পরিকল্পনাও ছিল
"তাই হয়তো বা এখন আমার দেখানোর পালা "আমিও পারি।"
তোমাদের বলছি, আমিই সেই রাজহংসী।
আমারও কিন্তু একটা গল্প বলার ছিল সবাইকে ।।
বলেছি কি গল্পটা তোমাদের? সিংহাসনে বসে।
অথচ শুনলো কি কেউ গল্পটা ? বুঝিনি তো।
শিরদাঁড়া সোজা রেখেই বসেছি আর হেঁটেছি প্রতিদিন।
চটি চেটে, শিরদাঁড়া বিক্রি করে, কিছু চাইনি কোনোদিন।
ঘন্টাটিও এখনও বাজাবো আমি।
যখন তুমিও, হ্যাঁ পুরুষ, ব্রহ্মাকে বিশ্বাস করতে শুরু করবে
যখন তুমিও হয়তো শুনতে শুরু করবে।
এখন তো আঁখির প্রতিশোধের পালা।।
আমি কিন্তু বেঁচেই আছি, বা বেশ ভালোই আছি।
দূর থেকেই দেখছি এখনও তোমাকে,
"চাঁদের নিয়ম " গুলো তুমি জানো কিনা, জানিনা!
জানিতো বলবে ! "সূর্যের নিয়ম" নিয়েই ব্যস্ত তুমি?,
রুক্ষ আর কঠিন পথেই তোমার সকল গমন,
সময় কোথায়, তোমার আকাশের চাঁদকে জানতে?
ভালবাসার মানে তুমি কিছুই কি জানো হে পুরুষ?
স্নিগ্ধ ভালোবাসার মধ্যে ডুবে থাকাটাই চাঁদের ধর্ম
সূর্য জ্ঞানের থেকে চাঁদের জ্ঞান অনেক সহজ সরল।
চাঁদের থেকে মুখ ঘুরিয়ে রইলে চিরকাল
দিব্য পুরুষ! আমি ছিলাম এক রাজহংসী, চাঁদেরই পথযাত্রী
শোনো অভিমানে, আঁখির চোখের জলেও মিশে থাকে ভালোবাসা।
শেষমুহূর্তেও দিব্য পুরুষ তুমি কিন্তু মৌনতা ভাঙলে না।।
শোনো হে, পুরুষ হয়তো বা ভালবাসি, তোমাকেও
এ ছাড়া কোনো কারণ, বা গোপন উদ্দেশ্য
তো নেই রাজহংশীর এই ভালবাসায়;
হৃদয়ের ভালোবাসা থেকে, না বাসায়,
প্রতীক্ষা থেকে একসময় নির্লিপ্ততায়, শীতলতা থেকে
আগুন-লাল আঁচে যাতায়াত করে।
কখনো বা, অনুভবে অশেষ ঘৃণাও লেগে থাকে,
যেভাবে গ্রীষ্মের দিন গ্রাস করে নেয় উন্মাতাল আলো,
হয়ত সেভাবেই, তোমার নির্লিপ্ততা চুরি করে নেবে
আমার তাবৎ হৃদয়ের গভীর, নিটোল সুস্থিরতা।
