সুঁই-সুতোর সংসার
সুঁই-সুতোর সংসার
ঠাকুমার কাঠের সিন্দুকটা বহুদিন খোলা হয়নি।
একদিন নাতনি মেঘলা সিন্দুক খুলে দেখল, পুরোনো শাড়ির টুকরো জোড়া দিয়ে তৈরি একটি নকশীকাঁথা।
সে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল—
“এত পুরোনো কাঁথা রেখে দিয়েছ কেন?”
ঠাকুমা মৃদু হেসে বললেন—
“এটা কাঁথা নয় রে, এটা আমাদের সংসারের ডায়েরি।”
মেঘলা ভালো করে তাকিয়ে দেখল।
এক কোণে লাল ফুল—মায়ের বিয়ের শাড়ির অংশ।
নীল টুকরোটা বাবার প্রথম পাঞ্জাবির কাপড়।
সবুজ অংশে ছিল কাকিমার আঁচল।
প্রতিটি সেলাইয়ের সঙ্গে একটি গল্প জড়িয়ে আছে।
ঠাকুমা বললেন—
“যেদিন মন খারাপ হতো, সেদিন একটা নতুন নকশা তুলতাম। তাই দুঃখগুলোও এখানে ফুল হয়ে ফুটে আছে।”
বছর কেটে গেল।
ঠাকুমা একদিন চলে গেলেন।
মেঘলা সেই নকশীকাঁথাটা নিজের মেয়ের গায়ে জড়িয়ে দিল।
ছোট্ট মেয়েটা ঘুমিয়ে পড়ল।
মেঘলা বুঝল—
কিছু উত্তরাধিকার সোনায় নয়, সুঁই-সুতোর ফোঁড়ে লেখা থাকে।
সেদিন সে প্রথমবার নিজের হাতে নতুন একটি ফুল এঁকে দিল।
নকশীকাঁথা আবার একটি নতুন প্রজন্মের গল্প লেখা শুরু করল।
