শেষ সিলমোহর
শেষ সিলমোহর
পুরোনো কাঠের আলমারিটা খুলতেই একটা ছোট্ট লাল কাপড়ে মোড়া বাক্স বেরিয়ে এল।
ঋতুপর্ণা ভেবেছিল, হয়তো কোনো পুরোনো গয়না।
খুলে দেখল—একটি সোনার মোহর।
মোহরটির সঙ্গে ভাঁজ করা একটি চিঠি।
চিঠিটা তার ঠাকুরদার লেখা।
“এই মোহর তোমার জন্য রেখে গেলাম। এর দাম সোনায় নয়। যেদিন বুঝবে বিশ্বাসের মূল্য টাকার চেয়ে বড়, সেদিন এটাকে নিজের কাছে রেখো।”
ঋতুপর্ণা অবাক হয়ে মোহরটা হাতে নিল।
সেই দিনই অফিসে একটা বড় প্রলোভন এসেছিল। একটি মিথ্যা কাগজে সই করলে অনেক টাকা পাওয়া যেত।
মুহূর্তের জন্য সে দোটানায় পড়েছিল।
হঠাৎ পকেটের ভেতর মোহরটার স্পর্শ পেল।
সে সই করল না।
বাড়ি ফিরে আবার চিঠিটা পড়ল।
শেষ লাইনে লেখা ছিল—
“মানুষের জীবনে একবার যদি সততার মোহর পড়ে, তাকে আর কোনো লোভ কিনতে পারে না।”
ঋতুপর্ণা বুঝল—
সোনার মোহর উত্তরাধিকার হতে পারে।
কিন্তু বিবেকের মোহর অর্জন করতে হয়।
সেদিন সে বাক্সটা আবার বন্ধ করল।
তবে মোহরটা আর আলমারিতে রাখল না।
হৃদয়ের ভেতর রেখে দিল।
