শেষ ট্রেনের অপেক্ষা
শেষ ট্রেনের অপেক্ষা
স্টেশনের ঘড়িতে রাত সাড়ে দশটা।
শেষ লোকাল ট্রেন আসতে এখনও দশ মিনিট বাকি।
প্ল্যাটফর্মে বসে ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক অনন্তবাবু। হাতে একটি পুরোনো কাপড়ের ব্যাগ। আজ তিনি কাউকে বিদায় দিতে আসেননি, কাউকে আনতেও নয়।
তবু তিনি এসেছেন।
পাশের বেঞ্চে বসা চায়ের দোকানদার হেসে বলল, “কাউকে অপেক্ষা করছেন?”
অনন্তবাবু একটু হেসে বললেন, “হ্যাঁ, তবে সে মানুষ নয়।”
ছেলেটি অবাক।
কিছুক্ষণ পরে অনন্তবাবু গল্প শুরু করলেন।
“চল্লিশ বছর আগে, এই প্ল্যাটফর্মেই প্রথম ওর সঙ্গে দেখা। শেষ ট্রেন মিস হয়েছিল দুজনেরই। সেই অপেক্ষার দশ মিনিট থেকেই শুরু হয়েছিল আমাদের সংসার।”
স্ত্রী চলে গেছেন পাঁচ বছর হলো।
তবু প্রতি বছর, একই দিনে, একই সময়ে তিনি এই স্টেশনে আসেন।
শেষ ট্রেন ঢুকল।
দরজা খুলল।
মানুষ নামল, মানুষ উঠল।
অনন্তবাবু উঠে দাঁড়ালেন।
চোখ বন্ধ করে যেন কারও কণ্ঠ শুনলেন—
“এত দেরি করলে কেন?”
তিনি মৃদু হেসে বললেন—
“এবার আর দেরি করিনি।”
ট্রেন চলে গেল।
প্ল্যাটফর্ম আবার নীরব।
চায়ের দোকানদার দেখল, বৃদ্ধের চোখে জল আছে, কিন্তু মুখে এক অদ্ভুত শান্তি।
সেদিন সে বুঝল—
সব অপেক্ষা মানুষকে ক্লান্ত করে না; কিছু অপেক্ষা মানুষকে তার সবচেয়ে প্রিয় স্মৃতির কাছে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।

