এক কাপ চায়ের দূরত্ব
এক কাপ চায়ের দূরত্ব
সৌম্যর জীবনে বড় বড় সাফল্যের তালিকা ছিল।
পুরস্কার ছিল।
সম্মান ছিল।
কিন্তু আজ বেঙ্গালুরুর ফ্ল্যাটে বসে সে বুঝল, সবচেয়ে বড় অভাবের কোনো সার্টিফিকেট হয় না।
টেবিলে দুটি কাপ।
একটিতে চা।
অন্যটি খালি।
অভ্যাসবশত সে দ্বিতীয় কাপটাও বের করে ফেলেছিল।
মৃদুলা কলকাতায়।
ফোনে কথা হয়।
হাসিও হয়।
তবু কিছু নীরবতা ফোনের তার বেয়ে আসে না।
সেদিন Bailey অসুস্থ ছিল।
হাসপাতালের করিডরে দাঁড়িয়ে সৌম্য প্রথমবার বুঝেছিল, “পাশে থাকা” আর “ভালোবাসা”—দুটো আলাদা শব্দ হলেও, একজন সহধর্মিনী তাদের এক করে দেন।
রাতে ভিডিও কলে মৃদুলা শুধু বলেছিল—
“খেয়ে নিও।”
মাত্র দুটি শব্দ।
অদ্ভুতভাবে সেই কথার মধ্যে ছিল বিশ্রাম, সাহস, বাড়ি আর আশ্বাস।
কয়েকদিন পরে মৃদুলা ফিরল।
দরজা খুলতেই Bailey লেজ নাড়ল।
সৌম্য হেসে বলল—
“ঘরটা আজ আবার ঘর হলো।”
মৃদুলা মুচকি হেসে উত্তর দিল—
“ঘর তো ছিলই। আমরা শুধু আবার একসঙ্গে হলাম।”
সেদিন সৌম্য বুঝেছিল—
সহধর্মিনী সেই মানুষ, যিনি জীবনের বোঝা কাঁধে তোলেন না; বোঝাটাকে দুজনের মধ্যে ভাগ করে দেন।

