একদিনের বাজার
একদিনের বাজার
বুধবার মানেই গ্রামের হাট।
সকাল থেকেই কাঁচা রাস্তা ধরে মানুষ আসতে শুরু করে। কারও মাথায় বাঁশের ঝুড়ি, কারও হাতে কাঁসার থালা, কেউ আবার ছাগলের দড়ি ধরে হাঁটছে।
ঋত্বিক শহর থেকে বহু বছর পরে গ্রামে ফিরেছে।
ছোটবেলায় বাবার হাত ধরে এই হাটে আসত। তখন তার সবচেয়ে বড় আনন্দ ছিল বাঁশির দোকান আর জিলিপির গন্ধ।
আজ সেই একই হাটে দাঁড়িয়ে সে দেখল—অনেক কিছু বদলেছে, তবু কিছুই বদলায়নি।
এক বৃদ্ধ কুমোর মাটির কলস সাজিয়ে বসে আছেন। তাঁকে দেখে ঋত্বিক বলল,
“কাকু, এখনও কলস বিক্রি হয়?”
বৃদ্ধ হেসে উত্তর দিলেন,
“জল রাখার পাত্র কমেছে বাবা, কিন্তু স্মৃতি রাখার মানুষ এখনও আছে।”
হাটের মাঝখানে হঠাৎ দেখা হয়ে গেল স্কুলের বন্ধু নিতাইয়ের সঙ্গে।
দুজনেই প্রথমে চিনতে পারেনি।
তারপর একসঙ্গে হেসে উঠল।
এক কাপ লাল চা, দুটো গরম সিঙাড়া, আর অর্ধঘণ্টার গল্পে যেন পঁচিশ বছরের দূরত্ব গলে গেল।
ফেরার সময় ঋত্বিক কিছুই বেশি কিনল না।
শুধু একটা মাটির বাঁশি কিনল।
বাড়ি ফিরে সে বাঁশিটা জানালার ধারে রেখে দিল।
সন্ধ্যার বাতাসে হালকা সুর উঠতেই তার মনে হলো—
হাট থেকে সে জিনিস নয়, ফিরে পাওয়া মানুষগুলোকে নিয়ে এসেছে।
সেদিন সে বুঝল—
হাটের আসল কেনাবেচা পণ্যের নয়; মানুষের হৃদয়ের।
