শূন্যের মূল্য
শূন্যের মূল্য
স্কুলে সবাই তাঁকে “শূন্যবাবু” বলত।
আসল নাম অমরেশ চক্রবর্তী। অঙ্কের শিক্ষক।
ক্লাসে ঢুকেই তিনি ব্ল্যাকবোর্ডে বড় করে একটা ০ লিখতেন।
একদিন রুদ্র জিজ্ঞেস করেছিল,
“স্যার, শূন্য দিয়ে ক্লাস শুরু করেন কেন?”
স্যার হেসে বলেছিলেন,
“কারণ শূন্যকে যে সম্মান করতে শেখে, সে একদিন পূর্ণসংখ্যার মূল্যও বুঝবে।”
তখন কথাটার মানে কেউ বোঝেনি।
বছর কেটে গেল।
রুদ্র বড় হয়ে ইঞ্জিনিয়ার হলো।
একদিন অফিসে বড় ভুল হয়ে গেল। সবাই দোষ চাপাতে ব্যস্ত।
ঠিক তখনই তার মনে পড়ল স্যারের কথা—
“ভুলকে লুকিও না। অঙ্কে যেমন ভুল ধরা পড়ে, জীবনে তেমনই।”
রুদ্র নিজের ভুল নিজেই স্বীকার করল।
বকুনি খেল, কিন্তু সম্মান হারাল না।
অনেক বছর পরে স্কুলে ফিরে সে দেখল, পুরোনো ব্ল্যাকবোর্ড নেই।
অমরেশ স্যারও অবসর নিয়েছেন।
তবু যেন বোর্ডের ওপর সেই গোল শূন্যটা এখনও আঁকা আছে।
রুদ্র বুঝল—
স্যার তাকে শুধু গণিত শেখাননি।
তিনি শিখিয়েছিলেন—
শূন্য থেকে শুরু করেও মানুষ বড় হতে পারে।
