মেঘবতী
মেঘবতী
বৃষ্টি পড়তে শুরু করেছে আজ,
সেই ভোর থেকে,
হৃদয়ে আমার আজ অদ্ভুত এক চিন্তা ঠক ঠক করছে! না ঠিক চিন্তা বললে ভুল হবে, ডাহা ভুল হবে,
হৃদয়......
আমার আজ মেতে উঠেছে অদ্ভুত এক প্রাপ্তির ভাবনাতে,
সারাটা দিন জানালার পাশে পড়তে থাকা, বৃষ্টির ফোঁটাগুলোকে দেখে মন কিছুটা উদাস হয়ে বৃষ্টি হওয়ার আকাশকুসুম ভাবনার সুরা পান করে নেশায় মত্ত হয়েছে, গগনে বাতাসের তীক্ষ্ণ শব্দ মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের সৃষ্টি করছে!
বারবার তাকে বারণ করে বলি,আরে আদৌ এ কল্পনা করে লাভটা কি? কিন্তু,এই ভাবনার সুর সশব্দে থামাবে কে?
ভাবতে ভাবতে হৃদয় মন্দির থেকে অদ্ভুতভাবে উত্থিত হলো,
আচ্ছা,যদি বৃষ্টি হতাম,তোমার হাতের ওই আলতো ছোঁয়া বর্ষার প্রতিটা দিনেই হয়তো পেতাম!
যদি,বৃষ্টি হতাম, জানালার ধারে বসে এই আমাকে আনমনে দেখতে দেখতে তুমি শান্ত হয়ে যেতে।
যদি,বৃষ্টি হতাম, তোমার আনন্দাশ্রু হয়ে তোমাকে ভিজিয়ে রাঙাতাম।
যদি,বৃষ্টি হতাম,তোমার বিরহে চোখ থেকে গরিয়ে পড়া টুপ টুপ কান্নার বিমর্ষ ফোঁটা হতাম।
যদি,বৃষ্টি হতাম,তোমার বেনি গাথা ভেজা চুলের পাশে শান্ত হয়ে বসে রইতাম।
যদি,বৃষ্টি হতাম, তুমি সর্দি থেকে নিজেকে মুক্ত করতে ব্যস্ত হাতে নেওয়া দুধচায়ের কাপের প্রতিটা চুমুকের পর, ঠোটে লেগে থাকা গরম ভাবটা হতাম!
যদি,বৃষ্টি হতাম,সবার সামনে আলতো করে তোমাকে জড়িয়ে ধরে বলতাম বেশ তীব্রভাবেই বেঁধেছো আমায় তোমার তীব্রতার মাঝে!!
যদি,বৃষ্টি হতাম, সবার সামনে তোমার ভেজা নীল শাড়িটার উপর মাথা রেখে তোমার বুকে মুখ লুকিয়ে তোমার স্নিগ্ধতা অনুভব করতাম।
যদি,বৃষ্টি হতাম,তোমার জন্য তোমার জানালার পাশের হাসনাহেনা গাছ টার ফুলে জমে থাকা বৃষ্টির চক চকে ফোঁটা হতাম।
যদি,বৃষ্টি হতাম,তোমার সাথে মেঘমিলনে তেষট্টি কোটি বছরের যেই অপেক্ষা, তা হয়তো প্রতি বর্ষাতেই দিব্বি মিটিয়ে ফেলতাম।
খন্ডিত অবয়বে তোমার আমার গল্পের শেষ অংশে তবে সত্যি বলি,
যদি কোনদিন বৃষ্টি হতাম,
জানো মেঘবতী!
আমি একান্তই তোমার হতেই,
বৃষ্টি স্বরূপ বারংবার পৃথিবীপৃষ্টে নেমে আসতাম!!

