STORYMIRROR

Ayan Sarkar

Romance Tragedy Classics

3  

Ayan Sarkar

Romance Tragedy Classics

শেষ ভরসা

শেষ ভরসা

3 mins
278

কথায় বলে সম্পর্ক যত পুরোনো হয় ততই যেন বাঁধন টা আলগা হতে থাকে। এসব এ অবশ্য বিশ্বাস করতো না শ্রেয়া । তার একটাই কথা ছিল যত সময় এগোয় ভালোবাসা বাড়ে । সে তো সেদিন অবধি ভাবতে পারেনি যে কিভাবে তার জীবন টা ছাড়খাড় হয়ে যাবে । একই কলেজে পড়ত দুজন অর্ণব আর শ্রেয়া । ফার্স্ট ইয়ার পেরিয়ে যখন সেকেন্ড ইয়ারে পা দিল তখন দুজনই প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে । আর বন্ডিং টাও স্ট্রং । সব বন্ধু রা ঠাট্টা তামাশা করত বটে কিন্তু তাতে ওরা পাত্তা দিত না । কিন্তু সত্যি সত্যি সময় যত আগালো যেন সম্পর্ক র পাতায় ধুলো জমলো । অবশ্য এর জন্য ওদের কাউকেই দায়ী করা যায় না । দোষ টা ছিল শ্রেয়া র বন্ধু ঋত্বিক এর। ঔ শ্রেয়া কে ভালবেসে ফেলেছিল । তাই কিছু তেই মেনে নিতে পারেনি ওই সম্পর্ক টাকে। এইভাবেই ওদের দুজনকে দুজনের বিরুদ্ধে উস্কাতে থাকলো ঋত্বিক । এমন কিছু জিনিস করলো যাতে অর্ণব আর শ্রেয়া র সম্পর্ক টা তিক্ত হয়ে গেলো । দুজনই সিদ্ধান্ত নিল যে তারা কিছু দিন দূরে থাকবে যদি সত্যি আবার ভালোবাসা বারে । এভাবে কিছু দিন করতে করতে কেটে গেলো কিছু মাস । কত মাস প্রায় বলা যায় না । তবু দুজনেই তো দুজনকে খুব ভালোবাসত আর তাই বোধ হয় অভিমান ও করেছিল । দুজনেই জেদী হওয়ায় কেউ ই কাউকে ফোন করে sorry বলতে চায়নি। কিন্তু এই কয়েক মাসেও ভালোবাসা কমেনি বরং সত্যি বেড়েছে । আজ প্রায় ৭ মাস হয়ে গেলো । শ্রেয়া কে কি একটা জিনিস দিতে ওর বাবা তার এক অফিস কলিগের বাড়িতে পাঠালো । বাবার বাধ্য মেয়ে হওয়ায় না করতে পারলো না । চলে গেলো সেই পরিমল কাকু র বাড়িতে । বাড়ি টা কেমন নিস্তব্ধ । এরা জানে ত যে এদের বাড়িতে কেউ আসছে । দোতলা বাড়ি । বাড়ির main গেট টা খোলাই ছিল। সেই গেট দিয়ে সোজা ওপরে উঠে এলো ও। তারপর দোতলার দরজায় একটা টোকা দিল । আর ভেতর থেকে একজন মহিলার আওয়াজ এলো "আসছি " । আর কিছুক্ষণের মধ্যে দরজা খুললেন এক মাঝবয়সী মহিলা বোধ হয় বাড়ির কাজের মহিলা হবে । দরজা খুলতেই সামনের দেওয়ালে টানানো একটা ছবি দেখে বুকের রক্ত জল হয়ে গেলো ওর। সামনের দেওয়ালে টানানো তার অর্ণব এর ছবি । গলায় মালা । সেই মিষ্টি হাসি । কথা বলতে পারলো না সে । মহিলা কি বলছে কিছুই শুনতে পাচ্ছে না সে । অবশেষে হুশ ফিরলো তার । ভেতরে এসে মহিলা কে জিজ্ঞাসা করলো " আচ্ছা ইনি কে ? " মহিলা বললো " ও যে আমাদের দাদাবাবুর ছেলে গো , অর্ণব দাদা " । শ্রেয়া যেনো হতবাক এই ৭ মাসে এত কিছু হয়ে যাবে ভাবতেই পারে না সে । আর এই কয়দিনে কত না ভুল বুঝেছে সে অর্ণব কে । তার অর্ণব যে আর নেই মেনে নিতে পারছে না সে । মহিলা বললো " দাদা বড় ভালোমানুষ ছিল গো । কপাল টা সত্যিই খারাক মা মরা ছেলে টা হটাৎ ম্যালেরিয়া এ চলে গেলো , সময় দিল না গো বাঁচাবার । মরার সময় বারবার একটাই নাম নিয়েছে সে কি যেনো নাম টা হ্যা শ্রেয়া " । 

নিজেকে বড় অপরাধী মনে হলো শ্রেয়া । যখন তার উচিত ছিল তার প্রিয় মানুষ টার পাশে থাকা উচিত ছিল তখন সে দূরে চলে গেছে । অর্ণব এর শেষ ভরসা টা তো সেই ভেঙে দিয়েছে । আর কোনো কথা না বলে বেরিয়ে এলো বাড়ি থেকে । তখনও চোখ থেকে জল ঝরছে তার । সব শেষ হয়ে গেলো আজ তার ।



Rate this content
Log in

Similar bengali story from Romance