গঙ্গোত্রী
গঙ্গোত্রী
কিছু দিনের পরিচয় অর্ঘ্য আর গঙ্গোত্রী র । দুজনেই ধীরে ধীরে খুব ভালো বন্ধু হয়ে ওঠে , না শুধু বন্ধু নয় গভীর বন্ধু । বলেতে গেলে গঙ্গোত্রী কে ভালোবেসে ফেলেছিল অর্ঘ্য , কিন্তু বলার সাহস ছিল না , কিন্তু একদিন বলেই ফেললো নিজের মনের কথা ।
অর্ঘ্য: দেখ অনেক দিনই ত হলো আমরা দুজন পরস্পর কে চিনি , আমি যতটা তোকে চিনি তুই আমাকে বুঝিস , তাই এই কথাটাও বুঝবি।
গঙ্গোত্রী: অত কথা বুঝি না বাপু যা বলার সোজাসুজি বল।
অর্ঘ্য : আসলে আমি না তোকে ভালোবেসে ফেলেছি ।কাল আমার flight আছে, higher studies এর জন্য একটু বাইরে যেতে হবে । আমি কিন্তু তোর উত্তরের অপেক্ষা করবো । ......
আর কোনো কথা না শুনে আর কোনো প্রত্যুত্তর না দিয়ে গঙ্গোত্রী সেখান দিয়ে চলে গেলো । ও আসলে ভেবেছিল অর্ঘ্য খুব immature তাই ওর ওরকম মনে হচ্ছে , দূরে থাকলে নিশ্চই ওকে ভুলে যাবে অর্ঘ্য ।
তারপর আর কি দুজনের আর কথা হয়নি অনেক দিন , দুজনেই নিজের নিজের কর্মজীবনে ব্যাস্ত ।
এত দিনে লেখক হয়ে উঠেছে অর্ঘ্য , কাগজে তার লেখা বেরোয় । আর গঙ্গোত্রী তখন গায়িকা ।
তারপর হটাৎ একদিন অর্ঘ্য র একটি বই এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে special guest er invitation পায় গঙ্গোত্রী । গিয়ে হাজির ও হয় এবং যা দেখে তা তার চোখে জল এনে দেয় ।
গল্পের বইটির নাম গঙ্গা , copy হিসাবে তার হতেও একটি বই দেওয়া হয় । বাইরে বেরিয়ে অর্ঘ্য র সঙ্গে দেখা তার , অর্ঘ্য কেবল তার দিকে তাকিয়ে আলতো হাসে আর একটাই কথা তাকে বলে যায় " গল্পঃ টা পড়িস" , কিন্তু এর উত্তরে গঙ্গা কিছুই বলতে পারে না , সে তো সত্যি ভাবেনি যে অর্ঘ্য তাকে এতটা ভালোবাসে । চোখ দিয়ে জল ঝরতে থাকে , শুধু মনে হয় কি বলবে সে অর্ঘ্য কে ।
অর্ঘ্য চলে যাওয়ার পর বই ত উল্টে পাল্টে দেখতে দেখতে তার চোখে পড়ে বই এর শেষ পাতার শেষ লাইন টা
" আমি আজও তোর উত্তরের অপেক্ষা করছি "।

