রঙ
রঙ
গতকাল সকালে,আমার দিদির বউভাত অনুষ্ঠানের জন্য বাড়ির সকলে শাড়ি-জামাকাপড় বাছাবাছি করছিল
।আমার মা আমায় ডেকে বলে: "এদিকে আয়, আজকে সন্ধেতে এই নীল জামাটা পরিস কেমন?"
কিন্তু আমার একটা হালকা গোলাপি রঙের জামা পছন্দ হয়ে আর সেই জামাটাই মাকে নিতে বললাম।
সেখানে বাড়ির সকলেই উপস্থিত থেকে জামা পছন্দ করছিলেন, সেখানে মা, পিসি, জেঠি ,ঠাকুমা,আর বোন মানে জেঠির মেয়ে আর আমি ছিলাম,
আমার সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়ে আমার পিসি বললেন:"কি রে সুপ্রিয়া,তুই যেই জামাটা পছন্দ করলি আসলে বোনেরও ওটা খুব ভালো লেগেছে, তুই বরং তোর অন্য কোনো জামা দেখে নে"
আমি কিছু বলতে যাবো তার আগেই জেঠি বলতে লাগলো:" হ্যাঁ ,আমাদের বৃষ্টির গায়ে এটা ভালো ফুটবে, গায়ের রঙ দেখো না যেনো দুধে আলতা,সুপ্রিয়ার গায়ের রঙ তো একটু চাপা, ও বরং ওর মা এর পছন্দ করা জামাটাই নিক"
তারপর পিসি আমার হাত থেকে জামাটা নিয়ে বোনের গায়ের মাপ করতে করতে বলতে লাগলো:"সবাইকে কি সব মানায়? দেখে শুনে শখ রাখা উচিত "
তারপর আমি মাকে বললাম মা নীল রঙের জামাটা নিয়ে নাও,ঠাকুমা সব কথা শুনছিল বসে বসে,
তারপর ঘোরের এক কোণে খাটের ওপর থেকে আমার ঠাকুমা আমায় বললো " কি রে মা?তোর যে গোলাপি জামাটা পছন্দ হলো সেটা না নিয়ে অন্যটা নিচ্ছিস?শিগগির ওটা নে"।
তারপর মা বললো:"কিন্তু মা ওটা সুপ্রিয়ার বোনের পছন্দ হয়েছে, ওর বোন ওটা নিক সুপ্রিয়া যখন বড় হবে তখন গায়ের রং পরিষ্কার হয়ে যাবে তখন ওকে একটা হালকা রঙের জামা কিনে দেবো এখন থাক "
বাড়ির সকলের প্রশ্নের জবাব দেওয়ার সুরে ঠাকুমা বলতে লাগলো :"আমাদের সুপ্রিয়া শ্যামবর্ন বলে কি ওর পছন্দের কোনো দাম নেই? আর বৃষ্টি তো প্রায় এমন করে নিজের জামা ছেড়ে দিদির পছন্দ করা জামা পড়ে,বৃষ্টি যেই তিনটে জামা পছন্দ করেছিস সেখান থেকে পছন্দ করে পর,দিদির জামাটা দিদিকে ফিরিয়ে দে। আর তোমাদের বলি বৃষ্টি না হয় ছোটো কিন্তু তোমাদের যথেষ্ট বোধ রয়েছে ছোটো থেকেই দেখে আসছি সুপ্রিয়ার গায়ের রঙ চাপা বলে ওকে পারিবারিক সকল অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়, ওর সব অধিকার বৃষ্টিকে দেয়া হয় কারণ বৃষ্টির গায়ের রঙ উজ্জ্বল,কিন্তু আর না আমি বেঁচে থাকতে এই বাড়িতে কারোর রঙ, রূপ, উচ্চতা শারীরিক গঠনের জন্যে কাউকে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হবে না আর পরবর্তী কালেও যাতে না ঘটে, ছোটো হোক বড় হোক আর যেনো সুপ্রিয়াকে ওর গায়ের রঙের জন্যে ওর পছন্দে,স্বপ্ন, ইচ্ছা গুলোকে ত্যাগ না করতে হয় "।
*উপসংহার* : সবসময় নিজের শোনো,অনেকে অনেক কথা বলবে কিন্তু তুমি তোমার ইচ্ছা, স্বপ্ন, পছন্দে,শখ ত্যাগ করবে না, কেউ তোমায় তোমার রং, চেহারা,উচ্চতা দিয়ে বিচার করতে পারে না। তুমি যেমন তুমি তেমনই সুন্দর,নিজের অধিকারের জন্যে লড়াই করতে হবে , এই ছোটো গল্পে সুপ্রিয়ার ঠাকুমাকে সুপ্রিয়ার জন্যে বাড়ির সকালের বিরুদ্ধে গিয়ে লড়াই করতে দেখা গেছে। আমাদের জীবনেও এরকম অনেক ঘটনা ঘটে চলেছে আর এইসব ঘটনার বিরুদ্ধে সুপ্রিয়ার ঠাকুমার মতো সবার বিরুদ্ধে গিয়ে প্রতিবাদ করতে হবে ।
