Bodhayan Aich

Romance Tragedy Others


2  

Bodhayan Aich

Romance Tragedy Others


এভাবেও ফিরে আসা যায়

এভাবেও ফিরে আসা যায়

6 mins 105 6 mins 105

দ্বিতীয় পর্ব

**********

আজ সকাল থেকে খুব তোড়জোড়। কেন?? আরেহ atlast আমি ঘুরতে যাচ্ছি। কোথায়?? ওই কলেজ জীবন থেকে যেখানে যাওয়ার প্ল্যানে ছিলাম। ঠিকই ধরেছ, বাঙালিদের দিপুদা র অন্যতম "দিঘা"। দুপুর ওই তিনটে র সময় ধর্মতলা থেকে ছাড়বে। আমার আবার বদভ্যাস আছে, যেখানেই ঘুরতে যাই দরকারি জিনিস গুলোর মধ্যে কিছু না কিছু নিয়ে যেতে ভুলবই ভুলবো। কিন্তু এবারে আর সেই রিস্ক নি নি। আগে থেকে লিস্ট বানিয়ে সব গোছগাছ করেছি। বন্ধুদের সাথে যাচ্ছি, জীবনে প্রথম, so একটা আলাদাই এক্সাইটমেন্ট কাজ করছে ভেতরে। দুপুর ওই ১টার সময় একটা ক্যাব বুক করে পৌঁছেগেলাম ধর্মতলা। তখন প্রায় আড়াইটা বাজে। বাকি বন্ধুরাও এলো। মোট ৫জন যাচ্ছি। সবাই বাসে উঠে টিকিট দেখে বসে পড়লাম। কপাল খারাপ জানলার ধারের সিট টা আমি পাই নি। কিন্তু পাশের লোকটাকে পটিয়ে সেটা দখল করে নি। বাস ছাড়লো প্রায় ৩টে৩০ এ। শীতের বেলা, তাই তাড়াতাড়ি অন্ধকার হয়ে গেল, তবু ওই অন্ধকারের মতো উল্টো দিকে ছুটে চলে যাওয়া বাইরে টাকে দেখতে দেখতে যেতে লাগলাম। কখন চোখ লেগে গেছিলো মনে নেই। মাঝে বাস দাঁড়িয়েছিল কিনা সে সব ও খেয়াল নেই। ওই যে বলেছিলাম এটা আমার PHd র বিষয়। তা যখন পৌছালাম তখন প্রায় ৭টা বাজে। আগে থেকে রুম বুক ছিল, যেহেতু তিনদের সময় নিয়ে এসেছি আমরা তাই যতটা সম্ভব ঝামেলা আগে থেকেই মিটিয়ে রেখেছিলাম।


আমরা যে হোটেলে উঠেছিলাম সেটা সমুদ্র থেকে একটু দূরে ছিল। আমরা যেহেতু ৫জন তাই দুটো ঘর নিয়েছিলাম। এক ঘরে তিনজন আরেকটায় আমি আর আমার সাথে একজন। ঘরে ঢুকে লাগেজ এদিক ওদিক ছুড়ে ফেলে হাত পা ছড়িয়ে শুয়ে পড়লাম। তখন প্রায় ১০টা হবে, হোটেল চত্বর ঘুরতে বেরোলাম। ওরা বেরিয়ে শুরু করলো বায়ু দূষণ, আরে ওই ধুম্রোপন। আমি আবার এগুলোতে নেই। এমনি ঘুরছিলাম, কোথায় কাছাকাছি ভালো হোটেল আছে সব খোঁজ খবর নিয়ে এলাম। প্ল্যান হলো কাল থেকে জোরকদমে ঘোরা শুরু করবো। রাতে হোটেলের ক্যান্টিনে খেয়েই ফিরে গেছিলাম। রান্না টা সেরা ছিল। রুমে ঢুকে মোবাইল টা ঘাটতে ঘাটতে ঘুমিয়ে পড়লাম। ঘুম ভাঙল তখন সকাল ৮টা। নিজে উঠে বাকি গুলোকে খিস্তি খেউর করে তুলে হু হু করে রেডি হয়ে ১০টার মধ্যে বেরিয়ে গেলাম। ওখানে একটা গাড়ি ভাড়া করে ঘুরতে বেরোলাম তাজপুর, উদয়পুর এর উদ্দেশ্যে । হেব্বি জায়গা। তারউপর জীবনে প্রথম বন্ধুদের সাথে ঘুরতে বেরোনো, ভেতরে একটা আলাদাই থ্রিল কাজ করছিল। এদিক ওদিক ঘুরতে ঘুরতে বিকেল হয়ে গেল, আমার সমুদ্রে সূর্যাস্ত দেখার খুব শখ ছিল, এতদিন পর সেটা পূরণ হলো,। গাদা খানেক কায়দা করে ছপা ছোপ ছবি তুললাম। একটা লোক কে দিয়ে আমাদের গ্রুপ ফটোও তুললাম। আমরা যে জায়গাটায় ছিলাম ওখানে নেটওয়ার্ক প্রবলেম ছিল। হটাৎ দেখলাম ফোনে একটা মেসেজ ঢুকলো, খুলে দেখলাম লেখা "Dear Customer, You have a missed call from 916######## The last missed call was at 07:48 PM Thankyou, Team Jio." নাম্বার টা কিরকম চেনা অথচ অচেনা লাগছিল, তাই তেমন গুরুত্ব দিলাম না।


এতদিন পর বন্ধুদের সাথে ঘুরতে আসা, আমার মতন বাকিদেরও মনে পুরকি জেগে উঠেছিল, তাই ওরা ঠিক করলো সারা রাত আজ "মস্তি" করবে। এই মস্তি ক অর্থ বহন করছে সেটা আর আলাদা ভাবে বললাম না। আমার আবার এসবে অরুচি, তাই আমি ঠিক করলাম রাতের সমুদ্রের সাথে একটু সময় কাটাব। কিন্তু রাত হলে তো বীচে বসতে দেয়না, তাই ধারে একটা পাঁচিলের উপর বসেছিলাম। তখন অনেক টা রাত, সমদ্রের আওয়াজ গুনে আর ঢেউয়ের শব্দে ভালোই কাটছিল। হটাৎ একটা রিং হয়ে ফোন কেটে গেল। বের করে দেখলাম ফোনটা। সেই নম্বর। আমি call back করলাম কিন্তু not reacheble বললো। রেখে দিলাম, মাথা ঘামালাম না। সমদ্রের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে নিজের মধ্যে নিমজ্জিত হয়ে গেলাম। মনে মনে কত ছন্দ প্রতিনিয়ত তৈরি করছিলাম আর ভুলছিলাম। তখন প্রায় রাত ৩টে, আর কতক্ষন এরকম হা করে বসে একা একা থাকবো!! boaring লাগছিল। তাই ভাবলাম একটু গান শোনা যাক। ফোন বেরকরলাম। এরপর শুরু হলো হাতরানো। কেন?? আরে ওই আমার চিরাচরিত স্বভাব, কিছু না কিছু ভুলবই। এবার ভুলে গেলাম হেডফোন আনতে। নিজেকে মনে মনে গাদা খানেক খিস্তি করলাম। অগত্যা আর কি করবো লাউডেই চালালাম। প্রিয় রুপম ইসলামের গান "শাওনে বা ভাদরে তোকে রাখবো আদরে...."। হটাৎ একটা আওয়াজ ভেসে এলো কানে "এখনো রুপম ইসলাম শোনো তাহলে !। আওয়াজ টা শুনে যেন আমার মাথার উপর আকাশ ভেঙে পড়লো, সমুদ্র যেন আরো গর্জে উঠলো, মনে মনে ভাবতে লাগলাম, একি!! এটা কার গলা!! আমি যেটা ভাবছি, সেটাই কি সত্যি!!! স্বপ্নলিকা!!! ভাবতে ভাবতে মুখ ঘোরালাম, সামনে একটা ছায়া। আমি বললাম "কে?? কে আপনি??" । ওদিক থেকে উত্তর এলো "কেন?? সেটা জেনে কোন মহাভারত উদ্ধার করবেন মশাই???" আমি আর ধৈর্য্য ধরতে পারলাম না, ফোনের ফ্ল্যাশ জ্বালালাম, দেখলাম। সেই হাসি মুখ। এ যে সত্যি স্বপ্নলিকা !!! আমি নিশ্চুপ হয়ে গেলাম, শালা কাঁদবো না হাসবো না চিৎকার করবো বুঝতে পারছিলাম না। ওদিক থেকে আওয়াজ এলো "নাম্বার টা কি ডিলিট করে দেয়া হয়েছে??" ।আমি বললাম "নাম্বার!! কোন নাম্বার?? কার নাম্বার??" ও বললো " থাক আর Wh question এর সমাগম ঘটাতে হবে না, " । আমি বললাম "বুঝলাম না" ।


ও বললো "আচ্ছা ছোটলোক তো আপনি মশাই, ফোনে তিন তিনটে মিসকল দেখে কল ব্যাক করলেনই না উল্টে নম্বর টাও চিনতে পারলেন না!!"। আমি বললাম "না মানে, আসলে নাম্বার টা ডিলিট করে দিয়েছিলাম রাগে"। ও বললো "বা বা কত রাগ বাবুর" আমি বললাম "রাগব না কেন?? ওই ভাবে কে চলে যায়?? তারউপর কোন খোঁজ খবর নেই" ও বললো "কি করবো, কোনো উপায় ছিল না। বাবর আচমকা একটা ইম্পর্টেন্ট কল এলো" তারপর রাস্তায় হটাৎ আমার ফোন টা ভেঙে গেছিলো পড়ে গিয়ে। তাই আর কি!!" আমি বললাম " যা তো B#$, কথাই বলবো না। এতদিনেও নাকি উনি কন্ট্যাক্ট করতে পারেননি"। ও পাশে এসে বসলো, হাত টা ধরলো , এই প্রথম, সে এক অদ্ভুত অনুভূতি। আমি আর রাগ করে থাকতে পারলাম না। আমি বললাম " আমি ভেবেছিলাম আমি হয়তো তোমাকে হারিয়ে ফেলেছি, তুমি হয়তো আমার জীবনের ক্ষনিকের অতিথি ছিলে" । ও হো হো করে হেসে উঠলো, বললো "পাগল একটা"। তারপর নিশ্চুপ, ও বললো আজ সকালে নাকি আমাকে দেখেছে ও, ওদের পাশের হোটেল থেকে বেরোতে, তখন থেকে আমাকে ফোন ট্রাই করছে বাট কানেক্ট করে উঠতে পারেনি। আমি বললাম "বাওয়া, তা সামনে এলেই তো হতো, এত ন্যাকামো র কি দরকার ছিল???" ও বললো "আমার ইচ্ছে, বেশ করেছি"।আমি ওর ফেমিলির কথা জিজ্ঞেস করলাম, বললো ওরা হোটেলে আছে, আর ও রাতের সমুদ্র সৈকতের শোভা উপলব্ধি করতে বেরিয়েছে। আমি বললাম " সেই!! শোভাই বটে"। দুজনেই হেসে ফেললাম। তারপর সেই পুজোর সময় কার স্মৃতি চারণ করতে শুরু করলাম, আর নিজেদের কার্য কলাপ নিয়ে নিজেরা হাসতে লাগলাম। কোথায় জানলাম আমার দিদি নাকি আগে থেকে ব্যাপার টা বুথে ওকে ডিরেক্ট চার্জ করেছিল, আর ও ভয় পেয়ে বলে দিয়েছিল। মনে মনে ভাবছি কি বাজে দিদি আমার, ইচ্ছে করে ব্যাপারটা পুরো চেপে গেছিল। মাঝে দু তিনবার বন্ধুদের ফোন এসেছিল, আমি কেটে দিয়ে ফোন সুইচ অফ করে দিয়েছিলাম। এরকমই টুকটাক কথা বলতে বলতে প্রায় ৪ টে ৩০ বাজে, সুয্যিমামা পুব দিগন্তে উঁকি মারবে মারবে করছিল। ও বললো "জানো আমার কতদিনের শখ সমুদ্রের পাড়ে প্রিয় জনের সাথে সূর্য্য ওঠা দেখবো" আমি বললাম "হ্যাঁ, আমার উল্টো, আমি সূর্যাস্ত আর উনি সূর্যোদয়" ও বললো "ভালো তো, একজন সব খারাপের শেষ করবে আরেকজন নতুনের শুরু করবে"। দুজনে উঠে আসতে আসতে সমদ্রের পাড়ের দিকে এগিয়ে গেলাম, ওর কাঁধে হাত দিয়ে সূর্যদয় এর অপেক্ষা করতে লাগলাম। সূর্য আসতে আসতে উঁকি মারতে লাগলো মনে হলো যেন লুকিয়ে আমাদেরই দেখছে মেঘের আড়ালে থেকে। ফুরফুরে ঠান্ডা হওয়ায় মন জুড়িয়ে যাচ্ছিল, দুজনে এক সাথে আওড়ালাম দুজনের অতি প্রিয় একটি কবিতার কয়েক লাইন -


"পথ বেঁধে দিল বন্ধনহীন গ্রন্থি,

আমরা দুজন চলতি হওয়ার পন্থী,

রঙিন নিমেশ ধুলার দুলাল,

পরাণে ছড়ায় আবির গুলাল,

ওড়না ওড়ায় বর্ষার মেঘে দিগঙ্গনার নৃত্য,

হটাৎ আলোর ঝলকানি লেগে ঝলমল করে চিত্ত।।"



Rate this content
Log in