বর্ষা
বর্ষা
আমার জন্ম হয়েছিল এক বৃষ্টিমুখর দিনের সকালে।সেই তবে থেকে বৃষ্টি আমার সঙ্গে জড়িয়ে আছে। বর্ষা আমার প্রিয় ঋতু।আমার প্রিয় কবি রবি ঠাকুর, একটু বড় হয়ে তাঁর লেখা পড়ে জানতে পারি,কবিরও প্রিয় ঋতু বর্ষা।
বর্ষার পরই আসে আমাদের সব থেকে উৎসব দুর্গা পূজা।তখনও বৃষ্টি হয়,কিন্তু তাকে উপেক্ষা করে মানুষ বের হন মাকে দেখতে।বড় সুন্দর করে সাজানো হয় মণ্ডপ, প্রতিমা সব কিছু।মা যেন সত্যিই আবির্ভূতা হন ধরিত্রিতে।
ছোটবেলায় বৃষ্টি হলে স্কুল থেকে অঘোষিত ছুটি মিলতো।সেদিন বাড়িতে বসে বিভিন্ন গল্পের বই পড়া,খিচুড়ি,বেগুনি খাওয়া আর সঙ্গে রবিঠাকুরের গান শোনা।এই ছিল ছোটবেলায় বৃষ্টির দিনে আমাদের কাজ।
একটু বড় হয়ে কলেজে যেদিন আমার প্রথম ক্লাস ছিল সেদিন ও খুব বৃষ্টি হয়েছিল। বৃষ্টির দিনে তখন কলেজ থাকলেও যেতে হতো,বা পড়া থাকলে পড়তেও যেতে হতো।ছুটি খুব একটা মিলতো না।মনে আছে,কলেজে সঙ্গীতের ক্লাস চলাকালীন কখনো বৃষ্টি হলে তার ছন্দে আমাদের গান আরো সুন্দর হতো।
আমার সম্বন্ধ যখন দেখতে এসেছিল, সে ও ছিল এক বর্ষার দিন।শ্রাবণ মাসের শুরুতেই আমার সম্বন্ধ দেখা হয়েছিল। শ্রাবণ মাসের মাঝামাঝি আমার পাকা দেখা হয়ে যায়।আমার স্বামী তার মনের ভাব প্রকাশ করেছিল এক বর্ষার দিনে বর্ষারই গান বলে।
বর্ষা এমন করে আমার জীবনের সঙ্গে অতোপ্রত ভাবে জড়িত।আমার সুখে দুঃখে বর্ষা আমার সঙ্গী।বর্ষার জলে সব গাছপালা স্নান করে যেন চির সবুজ হয়ে ওঠে।বর্ষার প্রথম বারি বিন্দু যখন ভূমিতে পড়ে তখন যে সুন্দর গন্ধ বের হয়,তা পৃথিবীর সব নামী দামী সুগন্ধীর থেকেও সুন্দর।
কিন্তু বর্তমানে সবুজ কমে যাচ্ছে তাই বর্ষা এখন আর আগের মতো আসেনা।সূর্যদেব তাঁর করাল মূর্তি ধারন করছেন প্রতিদিন।গাছ লাগালে আবার বর্ষা আগের মতো ফিরে আসবে।আমাদের সবার উচিত একটি করে গাছ লাগানো।যাতে চারপাশ সবুজ হয়ে ওঠে।
