Tuhin's Soul

Drama Tragedy


4.5  

Tuhin's Soul

Drama Tragedy


অন্য প্রাক্তন

অন্য প্রাক্তন

7 mins 1.4K 7 mins 1.4K

পর্ব-১


 হোয়াটসঅ্যাপে ও ব্লক তাও নয় নয় করে ২ বছর হয়েছে,ফেসবুকেও আনফ্রেন্ড করা হয়ে গেছে তা ১ বছর তো হবেই...তবুও আজ সকালে ম্যাসেঞ্জারে অদিতির ম্যাসেজ খানা পেয়ে কিছুটা আশ্চর্যই হয়েছিলাম আমি।প্রসঙ্গত,অদিতি আমার প্রাক্তনী,কলেজে যখন পড়তাম ওর সাথে বছর তিনেকের একখানা সম্পর্ক হয়েছিল।কলেজের পর আমার বাইরে পড়তে চলে আসা আর তার মাঝেই সব টা যে কখন ভেঙে গেল বুঝতেও পারলাম না।সেই যে ঝগড়া হয়ে ব্লক করেছিলাম দীর্ঘ ২ বছর,হুম ২ টো বছর কেটে গেছে মাঝখানে কোনো কথা হয়নি।শুনেছিলাম ও নাকি অন্য কারোর এক সাথে সম্পর্কে গিয়েছিল তবে তা এখনো স্থায়ী কি না সেসব ব্যাপারে আমি অজ্ঞাত। তবে আজ হঠাৎ ওর ম্যাসেজ খানা দেখে ভাবছিলাম রিপ্লাই করব কি না সেটার...।ওতে লেখা ছিল, 

"তোর সাথে দেখা করতে চাই,সময় হবে"।জানিনা আমি এই ম্যাসেজ খানার রিপ্লাই হিসেবে কি বলব,হয়ত ওর জীবনে কোনো খারাপ সময় এসেছে।কিন্তু পরমুহূর্তেই ভাবছি যদি আমার জীবনে কখনো এরম সময় আসতো আর ওকে বলতাম ঠিক এভাবে দেখা কর‍তে ও কি আসতো..?

যতই হোক প্রাক্তনী তো একটা অজানা অভিমান,একটা না বোঝানো ভালোলাগা এখনো যে রয়েই গেছে সেই স্রোতে ভেসেই মনে হল না যাই দেখা করেই আসি।

রিপ্লাই দিলাম,

"হঠাৎ এতদিন পর..?".

-"খুব দরকার রে,তুই আজই পারলে আয়,আমার অনেক কথা বলার আছে আজ না বললে হয়ত শুনতেও পাবিনা আর কখনো"

-"মানে,বলছিস কি এসব,হয়েছে টা কি একটু বলবি...??"

-"দুপুর ১টা,ইলিয়ট পার্ক ওই পেছন দিক টা যেখানে বসতাম আগে আমরা..আয় ওখানে বলব সবটা..."

ঘড়ির দিকে তাকালাম,সাড়ে ১১টা বাজে, আর একমুহূর্তও সময় নষ্ট করতে পারলাম না।কেন জানিনা খালি মনে হচ্ছিল কতক্ষণে দেখব ওকে সামনে থেকে,কি হয়েছে ওর...!!


পর্ব-২


হাতঘড়িতে তাকিয়ে দেখলাম কাটাটা জানান দিচ্ছে সময় ১২ টা বেজে ৫০।ইলিয়ট পার্কের সেই জায়গা টায় পৌছে গেছি যেখানে অদিতি আসতে বলেছিল আমায়।কিন্তু ওকে দেখতে পেলাম না,হয়ত এখন এসে পৌছায় নি।একটা গাছে তাই হেলান দিয়ে অপেক্ষা করছিলাম ওর জন্য আর কি এদিক সেদিক দেখতে দেখতে মনে পড়ে গেল আমার আর অদিতির ৩ বছর আগের দিন গুলোর কথা,যখন এই জায়গা খানাই ছিল কলেজ ক্লাস কাট দিয়ে আমাদের প্রেম করার জায়গা।এই গাছ খানা না জানি আমাদের কত রাগ-অভিমান-বাচ্চামো-হাসাহাসি-কান্না এসমস্ত মুহুর্তের সাক্ষী।এসমস্ত ভাবতে ভাবতেই একটা ঠান্ডা হাত ঠেকল এসে কাধে,চমকে উঠলাম আমি।

"কককক,কে..??"

ঘুরে তাকিয়ে দেখলাম হলুদ কুর্তা পড়ে অদিতি দাঁড়িয়ে,মুখটা কালো হয়ে আছে এক্কেবারে,কিছু যে হয়েছে ওর সাথে তা স্পষ্ট,গলায় একখানা কালো মাদুলি,বা হাতে ঠিক কব্জির জায়গা খানা ড্রেসিং করা। ওটা দেখেই উত্তেজিত হয়ে জিগ্যেস করলাম

"এই তোর হাতে,হাতে কি হয়েছে..." বলেই বা হাত টা ধরতে গেলাম হাত টা কিছুটা সরিয়ে নিয়ে বললো

"এক এক করে সব বলছি,একটু সময় দে,জল এনেছিস সাথে..?"

"না রে জল তো নেই,খাবি আমি কিনে আনছি"

"না থাক,বেরিয়ে খেয়ে নেব নাহয়,তুই চল একটু বসি ওদিক টায়"

পাশে গিয়ে একটা বেঞ্চি তে বসে ওরা দুজন।

"কি হয়েছে তোর একটু বলবি,চুপচাপ,এরম ভাবে তো তোকে দেখিনি কখনো"

"এরম ভাবে,কিরকম দেখাচ্ছে আমাকে..??"

"কিরকম বলতে,কেমন যেন ভেঙে পড়েছিস তুই,চোখে লেন্স ঠোটে গাঢ় লিপস্টিক পড়া তুই আজ এতটা সাধারণ হয়ে গেছিস..!!মানতে পারছি না যেন..."

"এত বছর পর দেখা হয়েও এত কিছু মনে রেখ্ব দিয়েছিস দেখছি..."

"তুই কথা না ঘুরিয়ে বল,হয়েছে টা কি...??"

"দাড়া না বললাম তো বলব সব,বলার জন্যেই তো ডেকেছি,খালি এত তাড়াহুড়ো করিস না তুই.."

"বেশ,করছি না,কিন্তু এই হাতের ড্রেসিং এগুলো তো ভাবাচ্ছে নাকি"

"এটা,এটা খুবই সামান্য আমার ব্যাথার কাছে". একটু চুপ করে আমি তাকিয়ে থাকি ওর দিকে,ও বলে 

" সুমন মনে আছে তোর,সেই একদিন সিনেমা হলে একটা ছেলে আমার গায়ে হাত দিয়েছিল কি করেছিলি তুই..!!"

"হ্যা,তবে আজ ওসব কথা উঠছে কেন.."

"না বেশ ভালোলেগেছিল ওইদিন জানিস তো একটা ছেলে আমাকে ভালোবেসে এভাবে রুখে দাঁড়িয়েছিল,দেখে খুব ভালোলেগেছিল।"

"আচ্ছা সে নাহয় বুঝলাম,কিন্তু আজ সেসব কথা কেন,মানে সেসব আজ মনে করে কি লাভ আছে কোনো...?" 

"আছে রে আছে,সেই শেষ বারের জন্যই মনে হয় কেউ পাশে দাড়িয়েছিল রুখে।আর কেউ দাড়ায়নি সেভাবে,বাকিরা ভোগ করেছে,মজা নিয়েছে সবটার..."

"আমি না জাস্ট বুঝতে পারছি না বলছিস কি তুই,কি হয়েছে তোর সাথে..ভোগ করেছে মানে যদি বলতে হয় পুরো বল নাহলে কিছুই বলিস না"

"উফ আজও বড্ড তাড়াতাড়ি অধর্য হয়ে পড়িস তুই...এরম করলে কিভাবে বলি বল"

"আচ্ছা হবো না আর,তবে কি হয়েছে বল.."

"তোর সাথে সম্পর্ক টা ভাঙার কারণ টা যেটা আজ অব্ধি তুই জানতিস তা সত্যি ছিল না,আমি নেহাত মিথ্যে কথাই বলেছিলাম যে অন্য কোনো ছেলেকে আমার পছন্দ তাই....ওটা আমার পছন্দ ছিল না রে,আমার মা বাবা আমার জন্য ছেলে দেখছিলেন,তুই জানতিস আমার বাড়ির অবস্থা ওত ভালো ছিল না,আর তারপর বাবা রিট্যায়ার করলে আরোও খারাপ হয়ে যায়,এই সময়েই আমার গ্র‍্যাজুয়েশন টাও শেষ হয়,এম এস সি করার জন্য বাবার কাছে অনেক আবদার করেছিলাম কিন্তু বাবা সাফ জানিয়ে দিলে আর সে পারবে না।তখনই আমার বাবার সাথে কৌশিকের বাবার,কৌশিক এর সাথে বাবা আমার বিয়ে ঠিক করে,আর ঠিক তখনই আমি বাবা কে জানাই আমি পড়তে চাই বিয়ে করা সম্ভব না আমার পক্ষে।কৌশিক তখন আমার বাবা কে বলে ওর বাবা আমার পড়ার দায়িত্ব নেবে কিন্তু বিয়ে ওকেই করতে হবে।বাবা কে তোর কথা জানাই,কিচ্ছুতে রাজি হয় না বাবা,তুই ও তখন বাইরে,আমার হাতে ছিল না কিচ্ছু।কিচ্ছু করতে পারলাম না আমি,আমার অমতেই সব ঠিক হয়ে গেল,দূরে চলে গেলাম তোর থেকে,তোর কাছে বাজে মেয়ে হয়ে।আর সে জন্যই...."

"সে জন্যই...???" চুপ করে যায় অদিতি চোখের পাশে দিয়ে জল গড়ায় ওর

"সে জন্যই আজ আমার এই অবস্থা,ভগবান শাস্তি দিয়েছে আমাকেও"

"কি শাস্তি,কি হয়েছে তোর..??"

"বলছি....কৌশিক আমার সব পড়ার দায়িত্ব নেয় আমি জানাই পড়া না শেষ অবধি বিয়েও করব না।রাজি হয় ও,হঠাৎ ওর জন্মদিনের নাম করে বাড়িতে ডাকে আমায়,দেখলাম আমি বাদে বাড়িতে কেউই নেই।ওইদিন রাতেই জোরজবরদস্তি ভোগ করে আমাকে,নেশায় না জানি কতবার মারে ওদিন রাতে।চুপ করেই ছিলাম সেদিন থেকে,মা বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে পারিনি কিচ্ছু বলতে।তারপর থেকে মাঝে মাঝেই ডাকত আমায় সারারাত ধরে ভোগ করত আমার শরীর খানা,মারত,কখনো কখনো আমাকেও বাধ্য করত নেশা করতে।এসবের মাঝে বুঝিনি কখন আমার গোপন মুহুর্তের ছবি নিয়ে রেখেছে ও নিজের ফোনে..."

"কি..!!!"

"হ্যা,আর এই কদিন আগে আমার বাবা কে ফোন করে ও জানায় আমাকে বিয়ে করতে পারবে না ও,আমাকে পড়াতে


এই দুবছর যা খরচ হয়েছে ওর,ওকে তা দিয়ে দিতে নাহলে সেইসব মুহুর্তের ছবি..." বলেই কাদতে শুরু করে অদিতি। 


পর্ব-৩


 ২ বছর আগের অদিতি কে যেন আবার খুজে পেলাম।কাদতে কাদতে কাধে মাথা খানা এলিয়ে দিয়ে বলল,

"আমি তোকে ছাড়তে চাইনি সুমন,চাইনি তোকে ছাড়তে"

আমার মুখের কথা গুলো যেন আটকে গেছিল কোনোভাবে,আমিও ওর মাথাখানায় হাত বুলিয়ে বলে উঠলাম,

"আমি আছি তো...!"

কাদো কাদো গলায় বলে উঠল,

"কিন্তু সবকিছু জানার পরও তুই,জানিস আমি বাড়িতে বাস করা একটা বেশ্যার মত যার শরীরখানা বারবার ব্যবহার করেছে ওই জানোয়ারটা,আর এখন সব কিছুর পর ছুড়ে ফেলে দিচ্ছে।"

"তুই কি ওর সাথে আমাকে গুলিয়ে ফেলছিস অদিতি..??"

"মানে..?"

"মানে এই যে,তোর কি মনে হয় জানোয়ার টার মত আমিও তোকে সেভাবে ব্যবহার করব..?? তোর শরীর টাকে.?"

"জানি তো করবি না তাই তো তোর কাছে এসেছি।যে ছেলেটা ৩ বছরে আমার অমতে গায়ে ছোয় অবধি নি,কপালে চুমু খেয়ে কথা দিয়েছিল জীবনে যাই হোক না কেন সে আমাকে ছেড়ে যাবে না,আমি তাকে বিশ্বাস করব না তো আর কাকে করব বল তো..!"

আমি যেন এই কথাটায় আরোও দুর্বল হয়ে পড়লাম ওর প্রতি।ওর ভেজা চোখ গুলো যেন বলছিল একটা বার জড়িয়ে ধর আমাকে,শান্তি পাবো যেই শান্তি পাইনি বহুদিন,যেই শান্তি হারিয়ে গেছিল ওই জানোয়ার টার সাথে বিছানার কুচকে যাওয়া চাদরের ভীড়ে,সেই শান্তি খানা পেতে যেন অদিতির চোখ গুলো ডাকছিল আমায় বারবার। অদিতির হাত খানা চেপে ধরি,আশ্চর্যভাবেই বেশ ঠান্ডা ওর হাত খানা,না জানি কেন হয়ত শরীর খারাপ। তারপরই হঠাৎ মনে পড়ল বা হাতের ওই ড্রেসিং টা

"তোর হাতে কি হয়েছে,কি করেছিস.."

চোখ মুছতে মুছতে হেসে উঠল অদিতি..

"কি হলো.."

"কাল রাতে তোকে আমি ম্যাসেজ করার পর,কৌশিক আবার ফোন করেছিল বাবা কে জানিস..!!"

"তাই তা কি বলল বাল টা..??"

"বাবা ফোন টা ধরেছিল,ও বলল আর এক সপ্তাহের মধ্যে যদি সব টাকা ওকে না দেয়,তাহলে ওই ছবি আর ভিডিও গুলো...."

বলেই চুপ করে যায় অদিতি। 

আবার বলতে শুরু করে,

"আমি তখন খাচ্ছিলাম,বাবা এসে আমার কানের নীচে খুব জোড়ে একটা থাপ্পড় মারল,আমি কান ধরে প্রায় কাদতে শুরু করেছি ঠিক মত শুনতেও পারছিলাম না,বাবা বলল আমার মত মেয়ে জন্ম দিয়ে ভুল করেছে উনি,আমি নোংরা,বেচে থাকার থেকে আমার মরে যাওয়া বেশি ভালো,এরকম মেয়ে থাকার থেকে না থাকাই ভালো।বিশ্বাস কর,আর পারছিলাম না রে সহ্য করতে,আমি অনেক দিন ধরে সহ্য করেছিলাম কারণ তোর সাথে দেখা করব বলে।কাল হাতে ফোন টা পেয়েই তোকে ম্যাসেজ করেছিলাম,কিন্তু আর লড়াই করতে পারলাম না।রাত তখন ৩ টে ওরম হবে..."

অদিতির কথায় বাধা দেয় আমার ফোনের রিংটোন খানা,(তুমি যাকে ভালোবাসো স্নানের ঘরে বাষ্পে ভাসো..)স্নেহার ফোন।

"স্নেহা,এতদিন পর হঠাৎ কি জন্য ফোন করল ও...!"

আমি উঠে দাড়িয়ে ফোন টা তুললাম,ওপাশ থেকে কাপা কাপা গলায় কথা এলো...

"সু সু সুমন,আ আ আমি স্নেহা বলছি রে তাড়াতাড়ি অদিতির বাড়িতে চলে আয়.."

পিছনে একবার অদিতির দিকে তাকিয়ে বললাম

"মানে,কি বলছিস অদিতি তো আমার সাথে এখন ওর বাড়ি যাব মানে বুঝতে পারছিনা"

"অদিতি তোর সাথে আছে..!কি বলছিস ও তো কাল রাতে হাতের শিরা কেটে সুইসাইড করেছে,ওর বডি পোস্টমর্টেম এর জন্য এই মাত্র নিয়ে গেল,হলুদ কুর্তি পড়েছিল আর ওর বা হাতে ওর ফোন খানা অন ছিল,যেখানে শেষবার ম্যাসেজ ও তোকেই করেছিল..।তাই আমি তোকে ফোন করলাম,তুই প্লিজ তাড়াতাড়ি আয় রে,প্লিজ। "

কথাটা শুনে গলাখানা শুকিয়ে এল,পেছনে তাকাতেই দেখলাম অদিতি নেই...!!

'অদিতি অদিতি...!!"

এদিক সেদিন খুজলাম,কোথাও নেই।হঠাৎই পায়ে লাগল একটা কালো মাদুলি,

"এটা তো সেই মাদুলি টা যেটা ও গলায় পড়েছিল" ওটাকে হাতে আকড়ে ধরে আর নিজেকে ঠিক রাখতে পারলাম না,হাটু গেড়ে বসে কাদতে থাকলাম শুধু ওর কথা ভেবে...

"তোর সাথে কত অন্যায় হয়েছে অদিতি,কত অন্যায় হয়েছে,কেন আমি তোর এক কথায় এত দূরে চলে গেছিলাম কদিন আগেও আমি পাশে থাকলে তোর এমন অবস্থা হত না।অদিতি,আমাকে ক্ষমা করে দে অদিতি,ক্ষমা করে দে আমায়.......অদিতি...........


    ৷।সমাপ্ত।।



Rate this content
Log in

More bengali story from Tuhin's Soul

Similar bengali story from Drama