Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published
Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published

Tuhin's Soul

Inspirational


4  

Tuhin's Soul

Inspirational


A Day In a Metro

A Day In a Metro

5 mins 988 5 mins 988


"শুনছো,আমার ঝুলিখানা কই একটু দেখে দাও" 

চুল আচড়াতে আচড়াতে সজল বাবুর এই প্রশ্নখানা ঠেকল ওনার বউ এর কাছে।

মুখখানা অনেকটা বাংলার পাচ এর মত করেই ওনার বউ এলেন,আলমারির পেছন থেকে ঝুল ঝেড়ে বের করলেন ঝোলা খানা,


"এভাবে নাট্যপত্রিকা বেচে আর কদিন চলবে শুনি, সারাদিন বাইরে থাকো রাতে ফেরো আবার সকালে বেরিয়ে পড়ো, সংসারে কি হচ্ছে না হচ্ছে কিভাবে বেচে আছি সেসব খেয়াল আছে তোমার..!"


"কদিন যাবৎ সময়খানা ভালো যাচ্ছেনা এক্কেবারেই,নাটক এর শো পরপর ক্যান্সেল হয়ে পড়ছে,চিন্তায় মাথা কাজ করছে না,এই তো কাল রাতে এসব ভাবতে ভাবতে রাস্তা পেরোচ্ছিলাম একখানা গাড়ি এসে প্রায় মেরে দিত বলে কোনোমতে ব্রেক কষে সামলে নিয়েছিল আর কি.."


"সে কি,আর সেটা বলোওনি পর্যন্ত একবারও"


"কি বলব,দিনখানা যখন পুরো খারাপ যায় তখন রাতের বেলা আর সেই পরিস্থিতি

 থাকেনা কথা বলার মত,ইচ্ছে করেনা মূলত"


"সাবধানে চলা ফেরা করো রাস্তাঘাটে,মনে রেখো শরীরখানা থাকলে সব হবে,মেয়ের কাল স্কুলে পরীক্ষার ফি জমা দেওয়ার শেষ ডেট,দুহাজার টাকা লাগবে..."


"দুহাজার..!!আচ্ছা দেখছি কি করা যায়.."


"সাবধানে যেও কিন্তু,ভয় লাগছে তোমার কথাবার্তা শুনে,আমি বলতাম না তোমাকে টাকার কথা কিন্তু এখন ধার দেওয়ার মতও কেউ নেই আর বাড়িতে কোনো সোনার জিনিসও নেই..."


"আচ্ছা,আমি তো মরে যাইনি,ঠিক কোনোভাবে ব্যবস্থা করে নেব"

"সেই আজেবাজে কথা বেরোনোর সময়,দুগগা দুগগা,সাবধানে যেও আর ফোন করো মাঝেমাঝে...মেট্রোর কার্ড মানিব্যাগ সব নিয়েছো তো.."

"হ্যা গো নিয়েছি সব,আসি বুঝলে.."

"এসো."..

ঝোলা খানা কাধে নিয়ে বেরিয়ে পড়েন সজল বাবু,ঘড়িতে তখন সকাল সাড়ে ৮ টা বাজে।সজল বাবু তার নাট্যদলের একজন কে ফোন করে,

"হ্যা.হ্যা.. হ্যালো সম্রাট,হ্যা আমি সজল দা বলছি.."

"হ্যা দাদা বলো"

"বলছি একটু দরকার ছিল ভাই আমার"

"হ্যা বলো.."

"কাল আসলে আমার মেয়ের ইস্কুলে পরীক্ষার ফি জমা দিতে হবে কিন্তু হাতে এক্কেবারে টাকা নেই,কি যে করি বুঝতে পারছি না,ভাই একটু সাহায্য করতে পারবি,আমি কথা দিচ্ছি টাকা হাতে এলেই দিয়ে দেব"

"দেখো সজল দা,আমাদের শো টা হলো না তুমি জানোই,এখন আমিও বা কোথা থেকে পাই বলো...তুমি অন্য কাউকে দেখো নাহয়"

বলা মাত্রই ফোনটা কেটে দেয় সম্রাট,ওপার থেকে সজলবাবুর গলাখানা মিনমিনে হতে হতে থেমে যায়।কাল দুহাজার টাকা লাগবে যেভাবে হোক কিন্তু কিভাবে,ভাবতে ভাবতেই কসবা মোড় থেকে বাসে ওঠেন সজলবাবু।মাথা কাজ করছেনা তার,দুহাজার টাকা মুখের কথা নয়। এদিকে এমন কেউ নেইও যে এখন টাকা ধার দেবে,এসব ভাবতেই ভাবতেই কেমন যেন একটা অস্বস্তি হচ্ছে তার।হঠাৎই একখানা ফোন এলো অজানা নং থেকে,

"হ্যালো"

"হ্যালো সজলবাবু কথা বলছেন"

"হ্যা বলছি বলুন"

"আসলে আমি বিনোদন মিত্র নাট্য একাডেমী থেকে বলছি,আপনার প্রকাশিত 'একালের থিয়েটারনামা' পত্রিকাখানা পড়েই যোগাযোগ করলাম আর কি।"

"হ্যা হ্যা বলুন" খানিকটা উত্তেজিত হয়ে জবাব দেয় সজল বাবু ।

"আপনি যদি আমাদের নাট্য একাডেমী এর সাথে যুক্ত হয়ে এমন পত্রিকা প্রকাশনের ভার নেন,তাহলে খুব সাহায্য হয় আর কি.."

"সে না হয় বুঝলাম তবে.."

"তবে যা টাকা আপনি চাইবেন আমরা দেওয়ার চেষ্টা করব আপনি প্লিজ মানা করবেন না"

"না না মানা করছি না,তবে আমার আজ দুহাজার টাকার খুব দরকার কাল ইস্কুলে মেয়ের পরীক্ষার জন্য টাকাটা লাগবে.. "

"হ্যা নিশ্চয়ই আপনি আজই তবে আসুন,পার্ক স্ট্রিট এ আমাদের নাট্য একাডেমীর অফিস এসে আজই তাহলে দুপুরের মধ্যে যোগাযোগ করুন.."

"ধন্যবাদ অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে"

ফোন খানা রেখে একটা অন্য হাসি হাসেন সজলবাবু,টাকাখানা জোগাড় হয়ে যাওয়ার এই আনন্দ খানা তার হাসি দিয়েই বের হয়ে আসছিল।

দুপুরের মধ্যেই গিয়ে পৌছায় ওই অফিসে,পৌছতেই ফোন করেছিলেন যে ভদ্রলোক সে সজলবাবুর সাথে দেখা করে,সজল বাবুর সাথে ওনার কথা হয় এবং নাট্যপত্রিকার কিছু স্যাম্পেল তৈরী করে দেখান পছন্দও হয় ভদ্রলোকের,আর আগের কথা মত সজলবাবুর হাতে দেয় দুহাজার টাকা দিয়েও দেন ভদ্রলোক।সজলবাবু তখন খুব খুশি,

এদিকে সন্ধ্যে ঘনায়,সজলবাবুর স্ত্রী সজলবাবু কে ফোন ধরায় ফোন আউট অফ সার্ভিস,দু-তিন বার একই বলে যায়,বিরক্ত হয়ে ফোন টা রেখে দেন তিনি,সজলবাবুর মেয়ে মা কে এসে জানান দেয় স্যার তাকে আজ বলেছে কাল যদি পুরো টাকা না দেয় আর বসতে পারবে না তাকে পরীক্ষায়।ঘড়ির দিকে তাকায় সজলবাবুর স্ত্রী,৭ টা বেজে ৩০ মিনিট তখন।হঠাৎই টিভি তে চলতে থাকা একটা খবর নজর কাড়ে সজলবাবুর স্ত্রীর।


"মেট্রোরেলে এক বড় দুর্ঘটনা, পার্ক্সট্রীট মেট্রোয় এক বছর চল্লিশের যুবকের হাত আটকে যায় সেই অবস্থাতেই চলতে থাকে মেট্রোর রেক আর তখনই ঘটে দূর্ঘটনা। ঘঘটনাস্থলে ছিল না আর পি এফ জওয়ান,পুলিশ রা জানাচ্ছেন মৃত ব্যাক্তির নাম সজল।"

শোনামাত্রই দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থা থেকে এক বিকট চিৎকার করে লুটিয়ে পড়ে মাটিতে সজলবাবুর স্ত্রী আর তার মেয়েও কাদতে কাদতে মা কে সামলাতে ব্যস্ত হয়ে ওঠে। এক মুহুর্তের একটা খবর সবটা শেষ করে দেয় যেন সজলবাবুর স্ত্রীর জীবনের।


এদিকে আজ আর নিজের দলে না গিয়ে সজলবাবুর ইচ্ছে হয় বাড়ির দিকেই যেতে,ঘড়িতে দেখল সময় ৮টা বেজে ১০ মিনিট।পকেট থেকে ফোন টা বের করে দেখে সুইচড অফ,অন করার চেষ্টা করে তবে হয় না বুঝতে পারে চার্জ শেষ।আর দেরী না করে পা বাড়ায় মেট্রোর দিকে,সামনেই পার্ক ষ্ট্রীট মেট্রো কিন্তু এত ভীড় কেন,কিছু হয়ত হয়েছে এত পুলিশ এত ভীড়,দেখে হকচকিয়ে যায় সে,কজন কে জিগ্যেস করায় জানতে পারেন এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে মেট্রো লাইনে।সেসবে বেশি কর্ণপাত না করে বাস ধরেন সজলবাবু,ততক্ষণে রাত প্রায় ৯টা।রাতের শহরের জ্যাম কাটিয়ে বাস তপসিয়া যখন ঢোকে তখন ঘড়ির কাটা ১০টা ছুই ছুই।বাস থেকে নেমেই বাড়ির দিকে ছুটতে থাকেন সজল বাবু।বাড়ির সামনেটা অন্ধকার কিন্তু ভেতর থেকে কেমন যেন জোর কান্নার আওয়াজ আসছে...তড়িঘড়ি দরজার বেল দেন সজল বাবু,দরজা ধাক্কায় আবার বেল দেয়,তার মেয়ে দরজা খোলে।মেয়ের মুখখানা সজল বাবু কে দেখে কেমন একখানা হয়ে গেল,সজল বাবুও ঘাবড়ে গেলেন,তার মেয়ে বলে উঠল,

"মা মা এই তো বাবা,বাবার কিচ্ছু হয়নি এই তো বাবা..."

ভেতর থেকে দৌড়াতে দৌড়াতে ছুটে আসে সজলবাবুর স্ত্রী,

"কই কই তুমি ঠিক আছো এই তুমি ঠিক আছো,হয়নি তো কিছু তোমার..."বলেই অস্বাভাবিক গতিতে কাদতে থাকেন উনি

তাকে ধরে সজল বাবু বলেন," আরে কি হবে আমার কি হয়েছে টা কি বলবে"

ভেতরের ঘরে টেনে নিয়ে যায় সজলবাবুর স্ত্রী,টিভি তে চলতে থাকা খবর দেখায় 

"ওই দেখো, কি বলছে,মেট্রো তে দুর্ঘটনা আর নিহতের নাম সজল..."

"অহো....এই ব্যাপার,আরে সজল নামে কলকাতায় কি আমি একাই আছি...!!তুমি সত্যিই এতটা বোকা..!"

"বোকা না গো,আজ সকালে তুমি যেভাবে বলেছিলে আর তোমার ফোন খানাও অফ পেয়ে এটা ভেবে নেওয়া স্বাভাবিক নয় কি..?"

"আরে আমার ফোন টায় চার্জ শেষ হয়ে গেছিল গো,তাই.... আচ্ছা আমি কি এত তাড়াতাড়ি মরব নাকি,তোমাদের কি হবে তাহলে আর এই এই যে(পকেট থেকে দুহাজার টাকা বের করে)আমার মেয়ে কে কে দেখবে শুনি."

টাকা টা হাতে নেয় সজলবাবুর স্ত্রী,

"কারোর থেকে চাইলে নাকি সুদে নিলে"

"হুহ,কাজ পেলাম এক বড় নাট্য একাডেমী তে পত্রিকা প্রকাশের।আমার কাজ ওদের ভালোওলাগে টাকাও দিল তাই.."

"বাহ এত ভারী খুশির খবর গো...."


কান্না থেকে এভাবেই হাসিতে মিলিয়ে যায় সজলবাবুর পরিবার।কিন্তু তার সাথেও প্রশ্ন ওঠে মেট্রোতে দিনের পর দিন এমন অসুরক্ষার কথা,আজ এই সজল আপনাদের যে কারোর ঘরেই হতে পারে যদি সবাই সাবধান না হন।


Rate this content
Log in

More bengali story from Tuhin's Soul

Similar bengali story from Inspirational