নীরবতার খাঁচা
নীরবতার খাঁচা
ভাঙে কত স্বপ্ন, কত আশা, কত আবেগের ঘর,
ভুলে যায় এই মন আজ, কে আপন আর কে বা পর।
স্মৃতির সাগরে ডুবে যাই, হারিয়ে যাই অতীতে,
ফিরে আসি বারবার, শুধুই বর্তমানের ক্ষতিতে।
মাঝে মাঝে জানলার রেলিং ধরে চুপচাপ বসি,
নীরবতা, জীর্ণতা, একাকীত্ব নিয়ে রোজ হিসেব কষি।
সমাধানে হয় ভুল, ভুলে যাই জীবনের মূল মন্ত্র,
মানুষ রূপে বেঁচে আছি, আসলে আমি বহুরূপী যন্ত্র।
নিদ্রাহীন হয়ে কেটে যায় কতশত নীরব রাত্রি,
ভেঙে যায় নীরবতা, কোলাহল করে প্রত্যুষের যাত্রী।
গোধূলিতে সূর্য ডুবে, ঝাঁকে ঝাঁকে বাড়ি ফিরে বহুরূপীর দল,
তাদের মুখে স্পষ্ট কষ্টের ছাপ, তবুও নেই চোখের জল।
ভাঙে তাদের স্বপ্ন, তাদের আশা, তাদের আবেগের ঘর,
মানুষ হয়ে মানুষকে আপন করতে এসে আজ হয়েছে পর।
যারা হাজারো মানুষের মাঝে চিৎকার করে বলতো অনেক কথা,
তারা আজ নীরবতায় মিশেছে, এ যেন একাকীত্বের ব্যথা।
তারা এসেছিল মফস্বল বা গ্রামের কোনো কোণ থেকে উঠে,
আজ তারা হারিয়ে গেছে শহরের ব্যস্ত রুটে।
মাষ্টারমশাই বলতেন,সে কারণ ছাড়াই কথা বলে,
আজ সে একা, জরাজীর্ণ, শুধু নীরবতা নিয়ে চলে।
যে বন্ধুদের প্রতিটি কথায় দিতো সামিয়ানা,
আজ সে নিজেকেই করে তুলেছে অজানা।
সে চেয়েছিল আলাদা থাকতে,
নিজেকে সবার কাছে আড়াল করে রাখতে।
আজ সফল হয়েছে তার অতীতের সমস্ত ভাবনা,
সে পাখির মতো উড়তে চেয়েছিল, কিন্ত হারিয়ে ফেলেছে ডানা।
আকাশ থেকে পৃথিবী দেখতে চেয়েছিল সে,
হঠাৎ তাকে খাঁচায় বন্দী করল কে??
✍️ ছন্নছাড়া।
