ধূসর আকাশ
ধূসর আকাশ
চোখের সামনে আজ দিগন্ত মুছে দেওয়া এক ধূসর আকাশ।
চেনা পৃথিবীর অবিন্যস্ত চুলে নেমে এসেছে এক গভীর, বোবা স্তব্ধতা।
বাতাসে বৃষ্টিহীন আর্দ্রতা, অথচ কোথাও কোনো মেঘের ডাক নেই।
শুধু তোমার না-থাকার শূন্যতাটুকু
কার্নিশের জলের মতো টুপটাপ ঝরছে সমগ্র সত্তা জুড়ে।
ধূসর আকাশ তুমি,
বহুকাল আগে বন্ধ হয়ে যাওয়া ডাকঘরের জীর্ণ খাম।
ধূসর আকাশ তুমি,
ধুলোপড়া হারমোনিয়ামে বেজে ওঠা ভুল সুরের অভিমান।
ধূসর আকাশ তুমি,
পুরোনো ট্রাঙ্কের ভাঁজে আটকে থাকা মায়ের শাড়ির পুরোনো ঘ্রাণ।
ধূসর আকাশ তুমি,
মাঝরাতে হঠাৎ বেজে ওঠা ভুল নম্বরের টেলিফোন।
ধূসর আকাশ তুমি,
স্টেশনে না-থামা রাতের ট্রেনের নিঃসঙ্গ ছুটে চলা।
তুমি সেই অশরীরী উপস্থিতি,
যে ছোঁয়ার আগেই মিলিয়ে যায়, অথচ সমস্ত ঘর জুড়ে যার বিস্তার।
মনে পড়ে? ঠিক এমনই এক মেঘলা দুপুরে,
তোমার আঙুল ছুঁয়ে বলেছিলাম,
‘আকাশটা একদম তোমার অভিমানের মতো।’
তুমি হেসেছিলে; আর সেই অবাধ্য হাসিতে ছড়িয়ে পড়েছিল একবুক রোদ।
আজ রোদ নেই, সেই চেনা উষ্ণতাও নেই।
শহরের বুকে নিয়ন আলোগুলো একে একে জ্বলে উঠছে একা,
আর আমার ভেতরের চেনা গলিটায় অলক্ষ্যে নেমে আসছে এক বিস্তীর্ণ ধূসর প্রান্তর।
নোনা দেয়ালে শ্যাওলা জমে অবিরাম,
নিজস্ব তাড়নায় ছুটে যায় মানুষের আয়ু।
আয়নার সামনে দাঁড়ানো মানুষটি টেরও পায় না,
সে নিজেই বুকের ভেতর বয়ে বেড়াচ্ছে আস্ত একটা আকাশ!
তবু সে তাকায়।
দূরতম মেঘের গভীরে কোথাও হয়তো জেগে আছে একটি আলোর শ্বাস,
এই আশায় সে শূন্য দু'হাত বাড়ায়,
আর তার চোখের ভেতর
ধীরে ধীরে ভেসে ওঠে
এক টুকরো ধূসর আকাশ।

