মেঘবতী সন্ধ্যা
মেঘবতী সন্ধ্যা
বাতাস আজ মেঘলা।
মনে হয়, অনেক দূরের কোনো বিকেল
ধীরে ধীরে হেঁটে এসে আমাদের উঠোনের কোণে বসেছে।
শৈশবে আমাদের জামগাছটির নিচে দাঁড়িয়ে
আমি বর্ষার জল শুনতাম, টুপটাপ।
মা ডাকতেন।
সেই স্বর কোন জানালা পেরিয়ে আসত, কোন আলো ভেঙে,
আজ আর মনে নেই।
শুধু মনে আছে,
সেই ডাকেই পৃথিবীটা হঠাৎ ছোট হয়ে যেত।
মনে হতো, যত দূরেই যাই,
আমার জন্য কোথাও একটি দরজা খোলা আছে।
আজ সেই জামগাছ নেই।
সেই কণ্ঠস্বরও বহুদিন শোনা যায় না।
তবু মেঘলা সন্ধ্যায় বাতাসের ভেতর
হঠাৎ কিছু একটা কেঁপে ওঠে।
আমি পেছনে ফিরি।
কেউ থাকে না।
শুধু বাঁশপাতার ফাঁক দিয়ে সন্ধ্যার হাওয়া বয়ে যায়।
নদীর ধারে বসি।
অন্ধকার নামার আগে জলটুকু শেষ আলো ধরে রাখে।
সেই আলোয় কখনো ভেসে ওঠে একটি হাসি,
কখনো বহু বছর আগে থেমে যাওয়া একটি বিকেলের ছায়া।
আলমারির অন্ধকারে ঘুমিয়ে থাকা
পুরোনো একটি শার্টের ভাঁজ থেকে
হঠাৎ জেগে ওঠে মানুষের ঘ্রাণ।
তার হাসিটাও যেন ফিরে আসে।
রাত গভীর হয়।
দূরের বাড়িগুলোয় এক এক করে আলো জ্বলে ওঠে।
কোথাও একটি শিশু হাসে।
কোথাও কোনো বৃদ্ধ চুপচাপ বারান্দায় বসে।
হয়তো তিনিও ধীরে ধীরে ফিরে যাচ্ছেন কোনো এক প্রিয় নামের কাছে।
আকাশের মেঘগুলো অন্ধকারের সঙ্গে মিশে গেছে।
চেনা যায় না আর।
ঠিক যেমন সময়ের স্রোতে ঝাপসা হয়ে আসে প্রিয় মুখ।
কোনো কোনো নির্জন সন্ধ্যায় বাতাসে হঠাৎ একটি নাম কেঁপে ওঠে।
আমি পেছনে ফিরি।
কেউ থাকে না।
শুধু অনেক দূরের একটি জানালায় অকারণে আলো জ্বলে।
আর অনেকক্ষণ মনে হয়,
কেউ একজন এইমা
ত্র আমাকে ডেকেছিল।
শুধু,
ফিরে আসার পথটা বদলে গেছে।

