সবুজ ধ্বংসের ইশতেহার
সবুজ ধ্বংসের ইশতেহার
যেদিন প্রথম কুঠার নেমেছিল
প্রাচীন বটের গায়ে,
সেদিন কেবল একটি বৃক্ষই ভাঙেনি;
ভেঙে গিয়েছিল বিকেলের নরম ছায়া,
পাখিদের ফেরা-ফেরা ডাক,
আর বাতাসে ভেসে থাকা
অজানা এক শীতল আশ্রয়।
আমরা তখনও মানুষ ছিলাম,
শুধু আমাদের চোখে ধুলো জমছিল
ইস্পাত আর কাঁচের শহর গড়ে উঠতে উঠতে।
ধীরে ধীরে...
নদী তার জলের ভাষা হারাল,
মাঠ হারাল ঘাসের গন্ধ,
বাতাস ভুলে গেল বৃষ্টির নাম।
আমরা বললাম: উন্নয়ন।
আমরা বললাম: সময়ের দাবি।
আর পৃথিবী,
চুপচাপ সহ্য করা এক ক্লান্ত জননী,
নিজের ছেঁড়া সবুজ আঁচল
আরও একটু শক্ত করে টেনে ধরল।
কিন্তু ক্ষত কি কখনো লুকিয়ে থাকে?
এক দুপুরে
দেখলাম একটি শিশু আঁকছে একটি গাছ।
সে কাণ্ড আঁকল, ডাল আঁকল, পাতার রেখা টানল।
সব কিছু ঠিকঠাক,
যেন পৃথিবী এখনো পূর্ণ।
তারপর হঠাৎ থেমে গেল তার হাত।
রঙের বাক্সে
কোথাও সবুজ নেই।
সে কিছুক্ষণ চুপ করে রইল;
যেন বুঝতে চেষ্টা করছে,
রঙ হারায়, নাকি পৃথিবী হারায়।
সেই মুহূর্তে
মনে হলো:
এই একটুকরো নীরবতার ভেতর
লুকিয়ে আছে সমস্ত সভ্যতার প্রশ্ন।
আকাশ তখন ফ্যাকাশে,
নদী যেন নিজের নাম ভুলে যাওয়া এক স্রোত,
আর বাতাস শুধু বয়ে আনে
অদৃশ্য এক দীর্ঘশ্বাস।
তবু মাটির নিচে
কিছু বীজ এখনো জেগে থাকে;
চুপচাপ, ধৈর্যের মতো।
তারা জানে;
লোভ শেষ হয়,
বৃষ্টি ফেরে।
তারা জানে;
যা ভাঙে,
তার ভেতরেই জন্ম লুকিয়ে থাকে।
তাই প্রতিবার
একটি অঙ্কুর যখন
পাথর ভেঙে উঠে দাঁড়ায়,
মনে হয়:
সবকিছু শেষ হয়নি এখনো।
একটি পাতার জন্ম
কেবল একটি পাতার জন্ম নয়।
এটা কোনো সান্ত্বনা নয়;
এটা কোনো প্রতিশ্রুতিও নয়।
এটা শুধু এই কথা বলে,
নীরবে:
পৃথিবী এখনো পুরোপুরি হারেনি।
