Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published
Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published

Avishek Satpathi

Tragedy


3  

Avishek Satpathi

Tragedy


শহীদ

শহীদ

2 mins 953 2 mins 953



‌কয়েক মূহুর্ত আগে আমি মারা গেছি। আমি একজন শান্তিরক্ষা বাহিনীর সৈনিক। অজ্ঞাত কোনো তামিল গেরিলার বুলেট বিদীর্ণ করে গেছে আমার হৃদয়। বাকপটু রাজনৈতিক নেতার কর্মদক্ষতার মতোই আমার বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট অপারগ। আমি একজন শহীদ।"ওই সিন্ধুর টিপ সিংহল দ্বীপ" আমার বধ্যভূমি। 'কাঞ্চনময় দেশ'। দেশকে ভালোবাসি। রূপাট ব্রুক, দ্বিজেন্দ্রলাল রায় দুজনেই আমার অন্তরে। সারাবিশ্বের প্রতিটি কোণায় কোণায় দেখি 'সকল দেশের সেরা সে যে আমার জন্মভূমি।'' শহীদের সমস্ত মর্যাদা সাথে নিয়ে আমার দেহ পৌঁছে গেল নিজ গ্রামের রাস্তায়। অসংখ্য নেতা, আমলা, জনগণ ও সমস্ত জনগণমন অধিনায়ক আসবেন এই শোকসভায়। পুরোনো রাস্তায় পড়েছে মোরাম, রাজ্যসড়কের খানাখন্দে নতুন পিচের প্রলেপ!

আমি বাড়িতে ফিরে এলাম দীর্ঘ এক বছর পর। বাড়ির দেয়ালে কাস্তে হাতুড়ি তারা। দুতিন মাস বাদে ভোট। আমার নাম হয়তো কাটা যাবে না। ভূতুড়ে ভোট দিয়ে যাবে কেউ! আমার কফিন শোয়ানো তুলসী গাছের নীচে। কফিনের ওপর তেরঙ্গা। আমার পিতা মাতা স্ত্রী ভগিনীদ্বয় সমস্ত আত্মীয় স্বজনদের কান্না, শোকের সাথে "বন্দেমাতরম" এবং ভারতমাতার জয়ধ্বনি দিতে দিতে দীর্ঘ পদযাত্রার সমাপ্তি ঘটলো গভীর রাত্রিতে।

আমার স্ত্রী পূর্বার সাথে আমার বিয়ে হয়েছিলো ভালোবেসে। দীর্ঘ তিন বছর প্রেমের পর বিবাহ। আমার স্ত্রী পুরোপুরি মধ্যবিত্ত সন্তান, প্রত্যেক পাই পয়সার হিসাব ছাড়াও, বাজারে কোনো কিছু দরাদরি করে কেনার ক্ষমতা ছিল অপরিসীম। একবার কলকাতায় অটোতে ভাড়া হয় ঊনপঞ্চাশ টাকা। আমি পঞ্চাশ টাকা দিয়ে যাওয়ার জন্য পা বাড়াতেই স্ত্রী বললো "যাচ্ছো কোথায়? ফেরত তো নাও।"

অটো চালক বলেছিল "দিদি খুচরো নেই। "

"তা বললে কি করে হয়? আপনার কাছে, এক টাকা খুচরো নেই। "

ড্রাইভারের কাছে দু টাকার একটা কয়েন ছিল। সেটা নিয়ে আমার অর্ধাঙ্গিনী তাকে এক টাকা ফেরত দিয়েছিল!

কথা দিয়েছিলাম এ বছরের শেষে মালদ্বীপে ঘুরতে যাবো। vadhoo আইল্যান্ড সি অফ স্টারস এ নীল জলে তারার মেলা আর সুন্দর রাত্রি। 'কেউ কথা রাখেনি' সেটা হয়তো কবির আক্ষেপ। আমি কথা রাখতে পারলাম না। মালে আর সম্ভব হলো না। আমার ছেলে তিতাস মাত্র তিন বছরের। খুবই প্রাণচঞ্চল, মুখে সারাদিন কথার খই।

মাস দুই পর। আমার মা কোনো কোনো দিন ভাত খেতে পারে না। আঁচলে চোখের জল মুছে। দূর্গাপূজায়

ঘরে ফেরার আশায় এখনও কি বাবা রাস্তার ধারে গরু ছেড়ে বসে আছে?

স্থানীয় বিধায়কের মহৎ উদ্যোগে আমার বিশাল মূর্তির উন্মোচন হল। পঞ্চায়েতের সামনে বাগানের মধ্যে অবয়বে মাল্যদান করার সময় প্রধান বক্তা বক্তব্য রাখলেন " সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে বুজোঁয়াদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে আমাদের গ্রামের ছেলে শহীদ হলো। সে আমার গ্রামের গৌরব। সে আমাদের চে গুয়েভারো"! হয়তো কয়েকদিন পর নামের আগে কমরেড জুড়ে যাবে!

আমার স্ত্রী বাপের বাড়িতে থাকে। তিতাস ওখানেই পড়াশোনা করবে। সন্ধ্যা দেওয়ার সময় এখনও কি মনে পড়লে নীরবে কাঁদে? আমার শ্বশুরমশায় আবার পূর্বার বিয়ে দেওয়ার কথা ভাবছেন। এবার আর আর্মি পুলিশে নয়। পূর্বা এখনও না না বলে।

"ঘাসের ভিতরে নীল সাদা ফুল ফোটে হেমন্তরাগে;

সময়ের এই স্থির এক দিক,

তবু স্থিরতর নয়;

প্রতিটি দিনের নতুন জীবাণু আবার স্থাপিত হয়।"

জীবন একটা দীর্ঘ রাস্তা। ষাট সত্তর আশি অথবা নব্বই মাইল সুদীর্ঘ। আমার সাথে তুমি মাত্র চব্বিশ মাইল হাঁটলে। আরোও বাকি রয়ে গেছে অনেকটা পথ। তোমাকে তো হাঁটতেই হবে কারোর হাত ধরে? '


Rate this content
Log in

More bengali story from Avishek Satpathi

Similar bengali story from Tragedy