শেষ উঠোন
শেষ উঠোন
শহরে চাকরি নিয়ে চলে যাওয়ার পর প্রায় পনেরো বছর আর গ্রামে ফেরা হয়নি অমিতের। একদিন খবর এল—পুরোনো পৈতৃক ভিটেটা বিক্রি করে দেওয়ার কথা ভাবছেন কাকারা।
অনেক দিন পর সে গ্রামে ফিরল।
বাড়ির ভাঙা ফটক ঠেলে ভেতরে ঢুকতেই মনে হলো, সময় যেন এখানেই থেমে আছে। উঠোনের মাঝখানে সেই পুরোনো আমগাছ, বারান্দার এক কোণে দাদুর কাঠের চেয়ার, আর তুলসীতলার পাশে মায়ের লাগানো শিউলি গাছ।
ঘরের দরজা খুলতেই ধুলোর গন্ধের সঙ্গে মিশে এল শৈশব।
এই ঘরেই প্রথম হাঁটতে শিখেছিল সে। এই উঠোনেই ঘুড়ি ওড়াত। এই বারান্দাতেই দিদার মুখে রূপকথা শুনে ঘুমিয়ে পড়ত।
কাকা বললেন, — "বাড়িটা ফাঁকাই পড়ে আছে। বিক্রি করে দিলে অন্তত কেউ থাকবে।"
অমিত কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।
তারপর উঠোনের মাটি থেকে এক মুঠো ধুলো তুলে হাতে নিয়ে বলল, — "বাড়ি বিক্রি করা যায়, কিন্তু শিকড় নয়।"
শেষ পর্যন্ত বাড়ি বিক্রি হলো না। বরং সবাই মিলে ঠিক করল, বছরে অন্তত একবার সবাই এই ভিটেতে একসঙ্গে ফিরবে।
কারণ তারা বুঝেছিল—পৈতৃক ভিটে শুধু ইট-কাঠের বাড়ি নয়; এটি এমন একটি ঠিকানা, যেখানে মানুষ ফিরে এসে আবার নিজের পরিচয় খুঁজে পায়।
