হ্যাশট্যাগের বাইরে
হ্যাশট্যাগের বাইরে
ঋতম সারাক্ষণ ফোনে ব্যস্ত। রিল বানায়, ছবি তোলে, নতুন ট্রেন্ডে অংশ নেয়। বাড়ির সবাই বলে, — "আজকালকার জেন জি শুধু ফোনটাই চেনে।"
দাদু কথাটা শুনে কিছু বলতেন না।
একদিন হঠাৎ দাদু অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেন। চিকিৎসার জন্য জরুরি রক্তের প্রয়োজন।
ঋতম মাত্র পাঁচ মিনিটে একটি পোস্ট করল।
এক ঘণ্টার মধ্যে প্রায় চল্লিশ জন রক্ত দিতে হাসপাতালে হাজির।
দাদু অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, — "এরা সবাই কি তোমার বন্ধু?"
ঋতম হেসে বলল, — "কেউ বন্ধু, কেউ কখনও দেখাও হয়নি। কিন্তু মানুষ হিসেবে সবাই পাশে দাঁড়িয়েছে।"
দাদু দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, — "আমরা চিঠি লিখে মানুষ জড়ো করতাম, তোমরা একটা পোস্টে করে ফেলো। মাধ্যম বদলেছে, কিন্তু মানুষের হৃদয়টা বোধহয় এখনও একই আছে।"
ঋতম দাদুর হাত ধরে বলল, — "আমাদের বিচার করার আগে, আমাদের ভাষাটা একটু শিখে নিন।"
সেদিন দাদু প্রথমবার নাতির মোবাইল হাতে নিয়ে বললেন, — "শেখাবে?"
ঋতম উত্তর দিল, — "এক শর্তে। আপনি আমাকে আবার চিঠি লিখতে শেখাবেন।"
দু'জনেই হেসে উঠল।
সেদিন প্রজন্মের দূরত্ব কমেছিল, তর্কে নয়—শেখার ইচ্ছায়।
