বাবার হাতঘড়ি
বাবার হাতঘড়ি
বাবা চলে যাওয়ার পর আলমারির ড্রয়ারে একটি পুরোনো হাতঘড়ি খুঁজে পেল অনির্বাণ। বাদামি চামড়ার স্ট্র্যাপটা ফেটে গেছে, কাচেও হালকা আঁচড়। অনেক দিন ধরেই ঘড়িটা বন্ধ।
মা বললেন, — "ওটা ফেলে দিস না। ওটা তোর বাবার প্রথম বেতনের টাকা দিয়ে কেনা।"
অনির্বাণ ঘড়িটা মেরামত করতে নিয়ে গেল।
ঘড়িওয়ালা বৃদ্ধ ঘড়িটা হাতে নিয়ে মৃদু হেসে বললেন, — "এমন ঘড়ি এখন আর খুব একটা আসে না। একটু সময় লাগবে, কিন্তু চলবে।"
কয়েক দিন পর ঘড়িটা আবার টিকটিক করতে শুরু করল।
সেদিন অফিসে যাওয়ার আগে অনির্বাণ প্রথমবার বাবার সেই হাতঘড়ি পরে নিল। মনে হলো, কব্জিতে শুধু একটা ঘড়ি নয়, বাবার পরিশ্রম, শৃঙ্খলা আর নীরব ভালোবাসাও বেঁধে নিয়েছে।
আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে সে হঠাৎ বুঝল—সময়কে কেউ ফিরিয়ে আনতে পারে না, কিন্তু সময়ের শেখানো মূল্যবোধকে বাঁচিয়ে রাখা যায়।
ঘড়ির কাঁটা সামনে এগিয়ে চলছিল।
ঠিক বাবার শেখানো জীবনের মতো।
