শেষ চাওয়া
শেষ চাওয়া
২০৫০ সাল........... রাফি হঠাৎ ঘুম থেকে উঠল। ঘড়ির দিকে তাড়াহুরো করে তাকিয়ে দেখল ১১:০৬ বেজে গেছে। আজ মনে হয় খবর আছে রাফির। সকাল ৯:৩০ এ তাদের কোথাও যাওয়ার কথা ছিল। মায়া আর রিফাত মনে হয় রেগে আগুন হয়ে আছে। তাড়াতাড়ি করে ফোন খুজতে লাগলো রাফি। একি ২ জন মিলে ১০০+ এস.এম.এস আর ৫০+ কল! আজ আমার সত্যি খবর আছে!রাফি তারাহুরো করে রেডি হয়ে বেড়িয়ে পরল। রাফির মা সাথে সাথে ডাক দিলো-কিরে রাফি না খেয়ে বেড়িয়ে যাচ্ছিস যে, কিছু খেয়েতো যা।বাহির থেকে খেয়ে নিবো মা। আর হে আমরা একটা নতুন সফরে যাচ্ছিতো তাই আসতে প্রায় মাস খানিকের মতো লাগতে পারে। এই বলে রাফি চলে গেল। মার দিকে ফিরে একবার তাকালোও না। রাফির মা আর কি করবে, আবার রান্নায় মন দিল। রাফি ছোট থেকেই এমন। সবার সম্পর্কে এতো একটা ভাবে না। নিজের কাজ হলেই হলো, বাকি মানুষের কী হয়েছে সেটা তার দেখার বিষয় না। তাই তার মা-বাবাও এখন হয়তো এগুলো ভাবা বন্ধ করে দিয়েছে প্রায়।মায়া আর রিফাত প্রায় দের ঘন্টা ধরে দাড়িয়ে আছে। তারাতো রেগে আগুন। এমন সময় রাফি এলো।২ জনে বললো, কী কী বাহানা দিবি বলে ফেল। কারন তারপর আজ আর তোর রক্ষে নেই। রাফি একটু চালাকি করে বলল, আরে দোস্ত তোরা রাগ কেন করছিস এই দেখনা কী সুন্দর প্রকৃতি। সবজু-শ্যামল ঘাস, তার মধ্যে বয়ে যায় বাতাস। মন ছুয়ে যায় এমন প্রকৃতি আর তোরা এই আবহাওয়ায় কোথায় একটু ঠান্ডা থাকবি। না রেগে গরম লাভা হয়ে আছিস।মায়া রেগে বলল, তোর প্রকৃতি তুই তোর কাছে রাখ। কয়টা বাজে? আর আসার কথা ছিল কয়টায়?আমাদের সময়মত আসতে বলে নিজে দিব্বি ঘুম দিছে।আরে হইছে আর কত রাগ দেখাবি যেতেও তো হবে নাকি? এই দেখ তোদের জন্য গিফট এনেছি।সত্যি দোস্ত কই দেখি!ওমনি রাফি পকেট থেকে ২ টা কলম বের করে দিল।গিফট দেখে ২ জন বলল, বেদ্দপ মুড টাই খারাপ করে দিছে। দেখি, যা গাড়িতে বোস। তোর গিফট আর লাগবে না।আরে নিয়েতো দেখ, অনেক রেয়ার কলম শুধু তোদের জন্য নিজে অর্ডার দিয়ে বানিয়েছি।হইছে এমন রেয়ার কলমের অভাব নাই। এখন গাড়িতে বোস।সবাই গাড়িতে বসে পড়ল। গাড়িতে সিট চারটি। BMW কোম্পানির গাড়ি। রাফি ড্রাইভ করবে। তার পাশে মায়া বসল আর পেছনের সিটে রিফাত।রিফাত বলল, তো প্রথমে কোথায় যাবো?গাধা কাল না বললাম কুন্তলা গ্রাম যাবো, আর সেটা চাঁদপুরের একটা গ্রাম। বুঝলি।ওকে, তাহলে আর দেরি কিসের, গাড়িতো স্টার্ট কর।শুরু হলো তাদের ডকিউমেন্ট্রি তৈরির এক নতুন যাত্রা। গাড়ি ৪০ এর স্পিডে চলছে। তাদের গন্তব্যে পৌছতে সময়তো অনেক লাগবে। তবে সফর ততটা বোরিং হবে না। কারণ তাদের গন্তব্যের রাস্তা অনেক সৌন্দর্য্যে ঘেরা। যতক্ষণ তারা এই সৌন্দর্য্যরে মজা নেয় ততক্ষণে তাদের সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক।অবশ্য তিন বন্ধুর মধ্যে অনেক কিছুই কমন আছে, তার মধ্যে বয়সটা প্রায় সবার একই। বয়স তাদের ২২ বছর প্রায়। এখন জানা যাক।রাফি..... চালাক ও ইন্টেলিজেন্ট। পড়াশোনা সবার থেকে একটু কম করতো, তবুও ক্লাসে ফার্স্ট আসতো। এর আগেতো বলাই হয়েছে রাফি কেমন। নিজের কাজ হলেই হলো আরেকজনের তাতে কি হলো সেটা তার দেখার বিষয় না। শুধু রাফি না মায়া ও রিফাতও একই প্রকৃতির। শুধু নিজের সম্পর্কে ভাবে। তবে তাদের তিনজনের মধ্যে আবার মিল আছে। একজন আরেকজনের জন্য প্রায় সবকিছুই করতে পারে। তিনজনের মধ্যে কারো বিপদ আসলে বাকি দুইজন পাশে থাকবেই। হুম এটা অনেক ভালো দিক। তবে তাদের মধ্যে একজনও নিজের পরিবারের খেয়াল রাখেনা। নিজেরা নিজেদের কাজে মগ্ন থাকে। তিনজন স্কুল আর কলেজ লাইফে একসাথেই ছিল। রাফিতো সব সময় ক্লাসে ফার্স্ট আসতো। কিন্তু মায়া আর রিফাত এতোটা ভালো করতে পারতোনা। তাই মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষে যখন কলেজ এডমিশন শুরু হয় মায়া আর রিফাতের সাথে রাফির একটু নিম্নমানের কলেজে ভর্তি হতে হয়। আর যাই হোক তিন বন্ধু আলাদা হবে না। তবে কলেজ লাইফ অনেক ভালোই কেটেছে তাদের। এগুলো অনেক পুরোনো কথা। এখন তিনজনই অনার্স থার্ড ইয়ারে আছে। আর এখনতো তিনজনই অনেক সফল। ডকিউমেন্ট্রি ভালোই চলছে। দেশের মধ্যে জনপ্রিয়ও। আর কি লাগে?রাফি হঠাৎ ব্রেক মারল!.........মায়া বলে উঠল, কিরে হঠাৎ ব্রেক মারলি কেন এভাবে?আরে তোরা তো খেয়ে দেয়ে এসেছিস। বাট আমি কিছুই খাইনি। সামনে একটা হোটেল দেখলাম তাই ব্রেক মারলাম।কই তোর হোটেল? ও আচ্ছা, এটা। নাম কী? হাটাহাটি হোটেল। হা....হা...হা..।রিফাত আর মায়া হাসতে হাসতে বলল, আর হোটেল পাইলিনা। পরিবেশও তো ভালো না। একটা ভালো রেস্টুরেন্টের কাছে পার্ক করতি।এতো টাইম নেই। অনেক ক্ষুদা লাগছে। কিছুতো খেতে হবেই। যা পাই তাই সোই...যা তুই যা। আমরা যাবো না। হোটেল দেখে আমাদের যাওয়ার আসা মিটে গেছে।ওকে, বসে থাক। আমি যাই, খেয়ে আসি।ওকে, ওকে, যা যলদি করে খেয়ে আয়। এমনি আজ কম লেট করছনাই।রাফি গাড়ি থেকে বের হয়ে হোটেলের দিকে গেলো। হাটাহাটি হোটেল... রাফিরও একটু হাসি পাচ্ছে। তবে এমন নাম রাখাটা বুদ্ধিমানের কাজ। কারন আজকাল মানুষ যেই বিষয়গুলো নিয়ে মজা করে, সেই বিষয়গুলোই জনপ্রিয় হয়ে উঠে। হোটেলের মালিকের প্রসংসা করা উচিত। এইগুলো ভাবতে ভাবতে রাফি হোটেলে গিয়ে বসল। একজন লোককে ডাক দিয়ে বলল, মেনুতে কী কী আছে?লোকটি বলল, এখনতো দুপুর এতো বেশি খাবার আইটেম নেই। তবে ভাতের সাথে ফারমের মুরগি, দেশি মুরগি, গরুর মাংস আর পাঙ্গাস মাছ আছে।আচ্ছা ঠিক আছে এক কাজ করো এক প্লেট ভাত আর গরুর মাংস নিয়ে আসো।লোকটি কয়েক মিনিটের মধ্যেই রাফির অর্ডার করা খাবার নিয়ে এসে পরল।বাহ্ এই কারনেই বলে যতই রেস্টুরেন্ট থাকুক হোটেলের আগে কোন রেস্টুরেন্ট অর্ডার আনতে পারবে না।কিন্তু সমস্যা একটাই তোমরা এইগুলো আগেথেকেই বানিয়ে রাখো। সেটাই আবার গরম করে রাখো।লোকটি বলল, স্যার রেস্টুরেন্টে একই খাবারটা খেলে হাজার টাকার মত চলে যেত। কিন্তু আমাদের এখানে মাত্র দুই থেকে তিনশ টাকায় তা পেয়ে যাচ্ছেন। তাহলে এতটুকুতো মেনে নিতেই হবে তাই না।রাফি আর কিছু বলল না। খাওয়া শুরু করল। অনেক ক্ষুধা পেয়েছে। মন বলে হোটেলে যা আছে সব খেয়ে ফেলবে। রান্নাটাও খুব ভালো হয়েছে। খেয়ে মজা পাওয়া গেল। ভেবেছিল অনেকগুলো খাবে কিন্তু না, এক প্লেট খেয়েই পেট ভরে গেল।সবশেষে বিলের সাথে লোকটিকে একশ টাকা বখশিশ দিয়ে এসে পরল। গাড়িতে বসতেই মায়া বলল, কিরে কেমন খেলি।অনেক ভালোই। তোদের জন্য আফসোস হয় খুব মজা বাট তোরাতো গেলিনা।রিফাত বললো, যত মজাই হোক এই পরিবেশে আমি কিছু খেতে পারবো না।তোদের ইচ্ছা, আমার কী? আমি মজা পাইছি এতেই হবে।এই বলে আবার গাড়ি স্টার্ট করল। গাড়ি চলছে..., জানালা দিয়ে অনেক বাতাস আসছে, মজাই লাগছে সবার। আশে-পাশের সবুজ-শ্যামল প্রকৃতি দেখলে মন জুরিয়ে যায়। অনেকটা দূর এসে গেছে তারা।মায়া বলল, এর আগে কত জায়গায় আমরা গিয়েছি কিন্তু এই জায়গার মতো এত সুন্দর গন্তব্যের রাস্তা দেখিনি।রিফাতো বলল, হে তা ঠিক। কিন্তু কুন্তলা গ্রামের পরে কোথায় যাবো।আরে আগে এই জায়গায়তো যাই, তারপর ভাববো কোথায় যাওয়া যায়। রিফাত মায়ার কথা শুনে বলল, যতটুকু আমি কুন্তলা গ্রাম সম্পর্কে শুনেছি তাতে মনে হয় আমাদের আর কোথাও যাওয়া নাও লাগতে পারে। আর এটা যে সে গ্রাম না। পুরো বাংলাদেশে শুধু এই একটা গ্রাম যেখানে একটা মানুষও থাকে না।কেন?..... রিফাত মজা করে বলল, ঐখানে কি ভূত-পেত্নি আছে নাকি?জানিনা কি আছে গেলে জানতে পারবো। তবে আগে এই গ্রাম অনেক সুন্দর ছিল। কত মানুষের বাস ছিল শুনলাম। তারপর হঠাৎ কী হলো সেখানে অনেক বছর হয়েগেছে আর কেউ থাকে না শুনলাম।বাবা, এখনতো আরো আগে যেতে ইচ্ছে করছে তোর কথা শুনে।হ্যাঁ, কিছু একটা রহস্যতো আছেই। আমাদের কাজ হলো সেই রহস্যটা খুজে বের করা।তা আর বলতে, আমাদের কাজইতো রহস্যকে টেনে বের করা।তোর এই ফালতু ডাইলগে কেউ হাসবেনা জেনেও এইসব ফালতু ডাইলগ বলার কী দরকার।হইছে হইছে, একটু হালকা পাতলা ডাইলগ ইতো মারি এটাও সহ্য করতে পারিসনা তোরা।রিফাত মুড খারাপ করে ফোন টিপতে লাগল।যা তোদের সাথে আর কথা নেই। গেম খেলি এটাই ভালো।আহারে, ছোট বাচ্চা একটা। গাড়ি হঠাৎ থেমে গেল..........
