Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published
Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published

Siddhartha Singha

Romance


0.3  

Siddhartha Singha

Romance


ঋ-তানিয়া

ঋ-তানিয়া

9 mins 630 9 mins 630

না। তানিয়া কিছুতেই কথা বলছে না। ওকে কথা বলানোর জন্য গত দু’দিন ধরে আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে ঋ। তবুও একটা বর্ণও উচ্চারণ করছে না ও।

কথা বলছে না মানে যে কোনও কাজ করছে না, তা নয়। সেই অষ্টমঙ্গলার গিঁট খুলে এ বাড়িতে আসার পর থেকে ও যা যা করে, মুখ বুজে তা-ই করে যাচ্ছে।

সকালে ঘুম থেকে ওঠার আগেই ও যেমন প্রতিদিন তার খাট-লাগোয়া টেবিলে চা দিয়ে ওকে ডেকে দিয়ে যায়, পরশু দিন তেমনই চা দিয়ে গিয়েছিল। শুধু ডেকে দিয়ে যায়নি। তাই ঋও আর ওঠেনি। যেমনকার চা তেমনই পড়ে ছিল। খানিক পরে কাপ নিতে এসে তানিয়া যখন দেখল, চা-টা ঠান্ডা জল হয়ে গেছে। তখন চা-টা ফের গরম করে যেখানে রাখার সেখানে রেখে লক্ষ্মীর আসন থেকে ছোট ঘণ্টাটা এনে ঢং ঢং করে নাড়াতে শুরু করেছিল।

এত সকালে ঘণ্টা বাজাচ্ছে কে! বিরক্তির সঙ্গে চোখ খুলে ঋ দেখে, সামনে তানিয়া। বিয়ে হয়েছে আট মাসও হয়নি। চাকরিসূত্রে এখানে একটা ঘরভাড়া নিয়ে ঋ থাকত। প্রথম ক’টা দিন মা এসে এখানে ছিলেন। রান্নাবান্না করে দিতেন। কিন্তু দক্ষিণ দিনাজপুরের বুনিয়াদপুরে তাঁর ভরা সংসার। তিনি না থাকলে সব অন্ধকার। তাই ওখানটা ফেলে রেখে এই ছেলের কাছে আর কত দিন থাকা যায়! কিন্তু তা বলে তার রান্নাবান্না কিংবা ঘরের কাজের জন্য কোনও মেয়েকে রাখার ব্যাপারে তিনি ছিলেন একেবারে ঘোর বিরোধী। তার বয়স যা-ই হোক না কেন। যা দিন কাল পড়েছে! কী থেকে কী হয়, কিচ্ছু বলা যায় না। আর কোনও ছেলেকে যে ভরসা করে রেখে যাবেন, তাও পারেননি। মনের মধ্যে বারবার খচখচ করেছে, তাঁর ছেলে যে রকমটা খেতে ভালবাসে, তাকে দেখিয়ে দিয়ে গেলেও, কোনও ছেলে কি ঠিক সেই ভাবে আদৌ রান্না করে দিতে পারবে! তার থেকেও বড় কথা, সেই ছেলেটা যে ভাল, তার গ্যারান্টি কে দেবে!

তাই ছেলেকেই শিখিয়ে-পড়িয়ে দিয়ে গিয়েছিলেন, কী ভাবে সহজে পুষ্টিকর, সুস্বাদু খাবার রান্না করা যায়। বলে গিয়েছিলেন, ঘরে চিঁড়ে-মুড়ি-চানাচুর এনে রেখে দিবি। যে দিন রান্নাবান্না করতে ইচ্ছে করবে না, সে দিন ওটা দিয়েই চালিয়ে নিবি। তবু বাইরের খাবার খাস না।

কিন্তু কে শোনে কার কথা। মা চলে যাওয়ার পরেই সে বাইরে খেতে শুরু করেছিল। আর ক’দিনের মধ্যেই দেখা দিয়েছিল পেটের সমস্যা।

তখন বাড়ি থেকে শুধু মা-ই নন, বাবা আর বড়দাও ছুটে এসেছিলেন। বাবা ওর মাকে বলেছিলেন, ও যখন রান্না করে খাবেই না ঠিক করেছে, তখন ওর রান্না করার জন্য কোনও মেয়ে নয়, বিশ্বস্ত মেয়ে, মানে একটা বউয়ের ব্যবস্থা করি। কী বলো?

ঋর মা সঙ্গে সঙ্গে একেবারে লাফিয়ে উঠেছিলেন, এত বড় একটা সমস্যার সমাধান যে এত সহজে করে ফেলা যাবে, তাঁর মাথাতেই আসেনি। তিনি বলেছিলেন, খুব ভাল কথা বলেছ। এত দিনে সত্যিকারের একটা কথার মতো কথা বলেছ। করো করো। ব্যবস্থা করো।

ঋও আপত্তি করেনি। ফলে তিন মাসের মাথায় বিয়ে হয়ে গিয়েছিল ওদের। মা ক’দিন থেকে গুছিয়ে-গাছিয়ে সংসারটা নতুন বউয়ের হাতে তুলে দিয়ে গিয়েছিলেন। মা যে ক’দিন ছিলেন, কোনও অসুবিধে হয়নি। মা চলে যাওয়ার পরেও সব ঠিকঠাকই চলছিল। কিন্তু গত পরশু দিন যে কী হল, পরশু দিন! না তার আগের দিন রাত্রে! কে জানে, ও ঠিক বুঝতে পারছে না। পরশু সকাল থেকে ও যখন এ রকম করছে, তার মানে আগের দিন রাত্রেই সে কিছু একটা করেছে। কিন্তু সে যে কী করেছে! কিছুই বুঝতে পারছে না।

ছোটখাটো কোনও ব্যাপার হলে ও নিশ্চয়ই কিছু বলত। কোনও কথাই বলছে না মানে, সে বড়সড় কোনও একটা গণ্ডগোল করে ফেলেছে। কিন্তু কী!

না। কোনও কাজের লোক রাখার ব্যাপারে তার মায়ের যেমন একটাই কথা— না। তেমনি তার বউ তানিয়ারও। দু’জনের সংসার। ওই তো একটু রান্না। তার জন্য আবার লোক রাখা! না। একদম না। কোনও লোক রাখতে হবে না। 

এখন ঋর মনে হচ্ছে, মা না থাক, একটা কাজের লোক না থাক, অন্তত একটা ঠিকে কাজের লোক রাখলেও হত। তা হলে আর কিছু না হোক অন্তত লোকচক্ষুর জন্য তার সামনে ও কথা বলতে বাধ্য হত। কিন্তু সে ব্যবস্থা যখন নেই, তখন উপায়!

সে ওকে কথা বলানোর জন্য কম চেষ্টা করেনি। সকালে ও তাকে যে চা দিয়ে যায়, সে সেটা বলতে গেলে প্রায় শেষ বিন্দুটাও চেটেপুটে খায়। একটু তলানি পড়ে থাকলেই তার বউ ডাক নেয়, কী গো। চা-টা কি ভাল হয়নি?

গত কাল যখন ওর ‘কি গো। চা-টা কি ভাল হয়নি?’ শোনার জন্য ইচ্ছে না থাকলেও অর্ধেকটার উপরে চা ফেলে রেখে আবার ঘাপটি মেরে শুয়ে পড়েছিল। এবং চোখ পিটপিট করে দেখছিল, ও আসছে কি না। ও যখন এল, তার মনে হল, এ বার নির্ঘাত ও মুখ খুলবে।

কিন্তু না। কিচ্ছু বলল না। অর্ধেক চা-সমেত কাপটা নিয়ে চলে গেল। টোস্ট খেতে গিয়ে দেখল, কম মাখন দেয় দেখে, যে বউকে প্রায়ই তাকে বলতে হয়, মাখন কি ফুরিয়ে গেছে? সে বউই স্লাইজ পাউরুটির উপরে এত পুরু করে মাখন লাগিয়ে দিয়েছে যে, বলার আর কোনও মুখই নেই।

অফিস যাওয়ার আগে মাছের ঝোল দিয়ে ভাত মেখে প্রথম গ্রাস মুখে তুলে মাঝেমধ্যেই যাকে বলতে হয়, ‘বাবা, আবার সেই ঝাল?’ সে কিনা আজ ঝাল এত কম দেখে কোনও ট্যাঁ ফু-ই করতে পারল না।

বেরোবার সময় হাতে তুলে দেওয়ার জন্য যে তানিয়া হয়-পার্স, নয়-রুমাল কিংবা চশমা— একটা না একটা দেওয়ার কথা ঠিক ভুলে যায়, সেই তানিয়া আজ শুধু ওগুলোই নয়, ঋ দেখল, তার দিকে এক জোড়া ধোয়া মোজাও এগিয়ে দিয়েছে। জুতো পরতে গিয়ে আরও একবার চমকে গেল সে। দেখল, সেটাও পালিশ করা। একেবারে ঝকঝকে তকতকে।

ঋ অফিসে পৌঁছে তানিয়াকে ফোন করল। ভেবেছিল, ফোন করলে কথা না বলে তো আর পারবে না। কিন্তু একবার নয়, খানিকক্ষণ পর পর বেশ কয়েক বার ফোন করে সে দেখেছে, রিং হয়েই যাচ্ছে। তানিয়া ফোন ধরছে না। তাই বাধ্য হয়ে বেলার দিকে আর মোবাইলে নয়, বাড়ির ল্যান্ডফোনে ফোন করেছিল সে। যেহেতু তার বাড়িতে সিএলআই লাগানো নেই, ফলে কোন নম্বর থেকে ফোন করছে তা বোঝারও কোনও উপায় নেই। ফোন বাজলে ওকে ফোন তুলতেই হবে এবং আর কিছু না বলুক, অন্তত ‘হ্যালো’টা তো বলবে। আর একবার কথা বললেই ওর এই মৌনব্রতটা ভঙ্গ হয়ে যাবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা আর হল না। 

তানিয়া ফোনটা ধরেছিল ঠিকই। কিন্তু ‘হ্যালো’ তো দূরের কথা, একটা ‘হ্যাঁ’ ‘হুঁ’ও বলেনি। বাধ্য হয়ে ঋ নিজেই বলেছিল— হ্যালো। আর যে-ই সে ‘হ্যালো’ বলেছে, অমনি ঝপ করে রিসিভার নামিয়ে রেখেছে ও। দু’-তিন বার করার পর আর রিং হচ্ছিল না। শুধু কুক কুক কুক কুক হচ্ছিল। তখনই ঋ বুঝেছিল, ও ক্রেডেল থেকে রিসিভারটা নামিয়ে রেখেছে।

বাড়ি ফিরে ফ্রেশ হয়ে ঝুল-বারান্দায় গিয়ে একটু দাঁড়িয়েছিল ঋ। হঠাৎই ঢং ঢং ঢং ঢং। এ দু’দিনেই সে বুঝে গেছে, ঘণ্টার ধ্বনি মানেই তানিয়ার তলব।

তড়িঘড়ি গিয়ে দেখে টেবিলে গরম গরম লুচি, আলুর দম আর বেগুন ভাজা। যেগুলি তার ভীষণ প্রিয়। তার পরেই, না। চা নয়, কফি।

সবই করছে ও। শুধু কথা বলছে না। কিন্তু কেন? ওর হঠাৎ মনে হল, বিচারক ফাঁসির হুকুম দিয়ে দিল, অথচ অপরাধী জানতেই পারল না, তার অপরাধটা কী।

না। তাকে জানতেই হবে সে কী দোষ করেছে। কিন্তু সেটা জানতে গেলে তো তার মুখ খোলাতে হবে। মুখ খোলাতে গেলে কী করতে হবে! অনেক ভেবেচিন্তে অবশেষে সে একটা পথ বার করল।

গা গা করে টিভি চালালেই ও বলে, কী হচ্ছে কী, আস্তে করো। আস্তে। কান ঝালাপালা হয়ে যাচ্ছে। আর ওর যখন ঘুম পায়, যতক্ষণ না ও ঘুমে ঢলে পড়ে, ততক্ষণ একটাই ভাঙা রেকর্ড ক’মিনিট পরে পরেই বাজিয়ে যায়— এ বার বন্ধ করো। চোখের সামনে এত আলো থাকলে ঘুমোনো যায়! কাল আবার সকালে উঠতে হবে তো...

শুধু গা গা করে কেন, একেবারে ফুল ভলিউমে টিভি চালিয়ে ঋ দেখল, তার বউ ঝট করে তার দিকে বিরক্তির সঙ্গে এক ঝলক তাকিয়েই, দু’কানে দুটো বালিশ চাপা দিয়ে পাশ ফিরে শুল। তাই ‘চোখের সামনে এত আলো থাকলে ঘুমোনো যায়!’ বউয়ের মুখ থেকে অন্তত একবার শোনার জন্য, নিজের ঘুম পেলেও বড় বড় চোখ করে ঋ তাকিয়ে রইল টিভির দিকে। তবু তানিয়ার দিক থেকে কোনও উচ্চবাচ্য শোনা গেল না।

এ রকম পরিস্থিতিতে আদর করতে গেলে নিশ্চয়ই ও বেঁকে বসবে। জোড়াজুড়ি করতে গেলে অন্তত একবার তো বলবে, ‘ছাড়ো তো’ কিংবা ‘ভাল লাগছে না, যাও’ অথবা ‘আমার ঘুম পাচ্ছে’।

কিন্তু না। আদর করতে গিয়ে সে দেখল, ও কোনও আপত্তি করল না। তবে সেই আদরে কোনও সাড়াও দিল না। শুধু মড়ার মতো পড়ে রইল।

কেন? কেন? কেন? কেন ও এ রকম করছে? কেন? যে দিন থেকে ও কথা বলা বন্ধ করেছে, তার আগের দিন থেকে সে কী কী করেছে, তার কোনটা ওর খারাপ লাগতে পারে, ওকে আহত করতে পারে, ওর মনে লাগতে পারে, সারাক্ষণ ধরে মনে করার চেষ্টা করতে লাগল ঋ। কিন্তু না। সে রকম কিছুই তার মনে পড়ল না।

যখন বারবার ব্যর্থ হল ঋ, তখন অফিসে তার সবচেয়ে যে কাছের, যাকে অনায়াসে ভরসা করতে পারে সে, তার থেকে বয়সে একটু বড় হলেও, সেই বুদ্ধদার কাছে গিয়েই সব খুলে বলল সে।

বুদ্ধদা সব শুনে বলল, কথা বলছে না? অথচ সব কাজ মুখ বুজে করে যাচ্ছে?

— হ্যাঁ। সব সব। সব কাজ করে যাচ্ছে। অথচ...

— তুই কী করেছিস রে! একবার বল ভাই। একবার বল। যে ভাবেই হোক তুই ওটা খুঁজে বার কর।

— কী?

— কেন ও কথা বলছে না...

— চেষ্টা তো করছি। কিন্তু পারছি কই!

— পারছি না বললে হবে না বস্। খুঁজে বার করতেই হবে। আমার লাগবে।

— আমার লাগবে মানে? কী লাগবে?

— তুই কী করেছিস, যার জন্য তোর বউ তোর সঙ্গে কথা বলছে না, সেটা...

— আমার বউ আমার সঙ্গে কেন কথা বলছে না, সেটা জেনে তুমি কী করবে?

— অ্যাপ্লাই করব ভাই। অ্যাপ্লাই । শুধু আমি না। ওই ওষুধে সত্যিই যদি কাজ হয়, তা হলে দেখবি, গোটা পৃথিবীর সব বিবাহিত পুরুষই তোর নামে ধন্য ধন্য করবে... 

— ধন্য ধন্য করবে! কেন?

— আরে, বউ যদি চুপ থাকে, তা হলে তো সংসারে আর কোনও অশান্তিই থাকবে না। শুধু শান্তি আর শান্তি। শান্তির সংসার কে না চায় বল? আর তার উপরে সে যদি নিশব্দে কাজ করে যায়, তা হলে তো কোনও কথাই নেই। একেবারে সোনায় সোহাগা।


না। বউ কথা বলবে না, সে রকম শান্তির সংসার আমার দরকার নেই। আমি চাই ও কথা বলুক। কথা না বললেও গজগজ করে অন্তত একটু বিরক্তি প্রকাশ করুক। সেটুকুও তো করছে না। তা হলে উপায়!

হ্যাঁ। উপায় একটা আছে। কথা না বলাতে পারি, হাসাতে তো পারি। সামান্য হাসির কথা শুনলেই যে হো হো করে হেসে ওঠে, হাসি থামলেও ঘণ্টাখানেক ধরে চলে দমকে দমকে হাসি। থামতেই চায় না। তাকে শুনিয়ে শুনিয়ে যদি একটা পর একটা জোকস পড়ে যাই, তা হলেও কি ও হাসবে না!

রাত্রে খাটে উঠে ও আর টিভি চালাল না। মোবাইল থেকে একটার পর একটা চুটকি পড়ে যেতে লাগল। আর এক-একটা চুটকি শেষ হতে না-হতেই আড়চোখে তাকাতে লাগল তানিয়ার দিকে।

না। ও হাসছে না। বেশ কয়েকটা পড়ার পর ঋ যখন আবার ওর দিকে তাকাল, দেখল, তার বউ আঁচলের কোণ দিয়ে চোখ মুছছে। ও কাঁদছে! ঝট করে তানিয়ার দিকে ফিরল সে— কী হয়েছে? কাঁদছ কেন? আমি কী করেছি? আরে বাবা, আমাকে তো বলবে আমার দোষটা কোথায়? না জানলে আমি নিজেকে শোধরাব কী করে? আবার তো ওই একই ভুল করব…

— তুমি জানো না, তুমি কী করেছ? তিন দিনের মাথায় এই প্রথম মুখ খুলল তানিয়া।

ঋ বলল, জানলে কি জিজ্ঞেস করতাম? বলো, কী করেছি?

— পরশুর আগের দিন রাতে যখন তোমাকে বললাম, টিভিটা অফ করে দাও। দিয়েছ? একবার দু’বার না, কত বার করে বললাম। তুমি শুনেছ? তু়মি যখন আমার কোনও কথা শোনো না। তখন আমিও তোমার কোনও কথা শুনব না। শুধু শুনব না, না। তোমার সঙ্গে আমি আর কখনও কোনও কথা বলব না।

— ও… এই কথা? সেটা আগে বলবে তো... বালিশের পাশ থেকে রিমোটটা নিয়ে বউয়ের দিকে এগিয়ে দিল ঋ, এই নাও। এ বার থেকে তোমার যখন যে চ্যানেল দেখতে ইচ্ছে করবে, দেখবে। যখন ইচ্ছে করবে না, বন্ধ করে দেবে। আমি আর এটায় হাতই দেব না। নাও।

তানিয়ে বলল, থাক। লাগবে না।

— কেন?

— তোমার টিভি... তোমার রিমোট...

— আমি কি সে কথা একবারও অস্বীকার করেছি? হ্যাঁ, এটা আমার টিভি... আমার রিমোট...

এত কিছুর পরেও আবার ‘আমার’ ‘আমার’! ঋর মুখের দিকে ঝট করে তাকাল তানিয়া। ওকে ও ভাবে তাকাতে দেখে ঋ বলল, সব আমার ঠিকই, কিন্তু আমিই তো তোমার। আর আমি যখন তোমার, তখন আমার সঙ্গে সঙ্গে আমার সব কিছুই তো তোমার, তাই না? তা হলে? এই নাও, ধরো।

ঋর হাত থেকে রিমোটটা নিয়ে যে চ্যানেল দেখতে ও ভালবাসে, না। সেটা নয়, বরং যেটা চালালে ও নিজেই রেগে যায়, যেটা ওর দু’চক্ষের বিষ, অথচ ঋর খুব প্রিয়, সেই চ্যানেলটা চালিয়ে দিল তানিয়া।

তানিয়ার হাত থেকে রিমোটটা নিয়ে, তানিয়া যে চ্যানেলটা দেখতে ভালবাসে, ঋ সেটায় দিয়ে দিল।

তানিয়া ফের রিমোটটা নিয়ে আগেরটা চালিয়ে দিল।

তানিয়া মুঠো করে ধরে রাখলেও, ঋ প্রায় জোর করেই তানিয়ার হাত থেকে রিমোটটা নিয়ে আবার তানিয়ার প্রিয় চ্যানেলটা চালিয়ে দিল।

তানিয়া বলল, এটা কী হচ্ছে? রিমোটটা দাও।

— তুমি তো এই চ্যানেলটাই দেখতে ভালবাসো।

— এখন আমার এটা দেখতে ভাল লাগছে না। আমি ওটাই দেখব।

— কিন্তু তুমি তো ওটা ভালবাসো না...

— সেটা আমার ইচ্ছে। এই তো একটু আগেই বললে, এ বার থেকে তোমার যখন যে চ্যানেল দেখতে ইচ্ছে করবে, দেখবে... 

আর কোনও কথা বলল না ঋ। তানিয়ার দিকে রিমোটটা এগিয়ে দিল। তানিয়া সেটা নিয়ে চ্যানেলটা পাল্টে দিতেই ঋ ওর মুখের দিকে একবার তাকিয়ে টিভির দিকে চোখ রাখল। শুধু ঋ নয়, তানিয়াও দু’চোখ ভরে দেখতে লাগল, এই ক’দিন আগেও যেটা চালালে ও বরক্ত হত, সেই চ্যানেল। দেখতে লাগল। দেখতেই লাগল।


Rate this content
Log in

More bengali story from Siddhartha Singha

Similar bengali story from Romance