প্রিয়া ও রাজুর অসমাপ্ত প্রেম কাহিনী,,
প্রিয়া ও রাজুর অসমাপ্ত প্রেম কাহিনী,,
শহর থেকে দূরের মধুপুর নামে একটি গ্রামে প্রিয়া নামে এক সুন্দরী মেয়ে থাকত। সে ছিল তার পরিবারের আদরের এক মাত্র মেয়ে।
এক মাত্র মেয়ে হওয়ার কারনে প্রিয়া খুবি দুষ্টুছিল,
প্রিয়া ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়তো, একই ক্লাসে পড়তো রাজু,
রাজুর বাড়ি ছিল প্রিয়ার পাশের গ্রামে!
রাজু হল এক মেধাবী ও বুদ্ধিমান ছেলে,
কিন্তু রাজুর পরিবার ছিল গরিব, রাজুর বাবা ছিলেন এক জন কৃষক!
রাজুর মা ছিলনা!
রাজুর মা না থাকার কারনে তার বাবাই সব কাজ করতো!
রাজু পড়া লিখার পাশা পাশি বাবার সাথে মাঠে কাজ করতো!
আর প্রতিদিন বিকেলে মাঠে খেলতে যেতো রাজু আর প্রিয়া!
এভাবেই ওদের মধ্যে সুন্দর এক বন্ধুত্ব তৈরি হয়!
তার পর থেকেই একই সঙ্গে স্কুলে যেত!
টিফিনের সময় এক সাথে টিফিন খেতো !
কানা মাছি খেলতো!
খুবই সুন্দর ভাবে কাটছিল দিন গুলি দুজনের!
অনেকদিন পরের কথা!
প্রিয়া ও রাজু এখন দশম শ্রেণীতে পড়ে!
এর মধ্যেই প্রিয়া ও রাজুর বন্ধুত্ব ভালোবাসায় রূপ নিয়েনিছে!
একজন আর একজনকে না দেখে থাকতে পারে না!
সামনে (এস এস সি) পরীক্ষা!
পড়ার দিকে কোনো খেয়াল নেই!
সারা দিন পুরো গ্রাম ঘুরে বেড়ায়, গ্রামের সবাই জানত দুই জনের বন্ধুত্বর কথা!
এর মধ্যেই প্রিয়ার বড় কাকা আর কাকীমা আসছেন সিঙ্গাপুর থেকে!
(ও একটি কথা বলতে ভুলে গেছি প্রিয়া যখন ছোট তখন প্রিয়ার কাকা ও কাকীমা সিঙ্গাপুর চলে গেছে!)
হঠাৎ একদিন প্রিয়া ও রাজু সাইকেলে স্কুল থেকে বাড়ি ফিরছিল!
রাস্তায় প্রিয়ার কাকা দেখেনিলো!
দেখার পর প্রিয়া ও রাজু কে কিছু না বলে বাড়ী চলে গেলো!
প্রিয়ার কাকা প্রিয়ার বাবাকে বললো, তোর মেয়েকে দেখলাম এক ছেলের সাথে, তুই কোন খবর রাখিস নাকি!
প্রিয়ার বাবা বললো কোন ছেলের কথা বলছিস, তুই কি রাজুর কথা বলছিস নাকি!
প্রিয়ার কাকা বললো আমি চিনি না আমি দেখলাম এক ছেলের সাইকেলের পিছনে বসে আছে প্রিয়া!
প্রিয়ার বাবা বললো আরে এই ছেলের নাম রাজু, আমাদের পাশের গ্রামে থাকে, প্রিয়া আর রাজু ছোট বেলার বন্ধু!
প্রিয়ার কাকা বললো প্রিয়া এখন বড় হয়েছে এই ভাবে ঘোরা ফেরা করলে কিছু দিন পর মেয়েকে বিয়ে দিতে পারবি কি!
প্রিয়ার বাবা আর কিছু বললে না!
রাতে খাওয়া টেবিলে প্রিয়ার বাবা প্রিয়াকে বললো, এখন তুই বড় হয়েছিস, রাজুর সাথে মেলামেশা না করাই ভালো, গ্রামের লোকজন ভালো চোখে দেখবে না !
প্রিয়ার মা বললো ওরা দুজন ছোট বেলার বন্ধু, গ্রামের লোক কিআর বলবে!
প্রিয়ার বাবা রাগান্বিত হয়ে বলল তুমি চুপ থাকো!
এই শুনে, প্রিয়া ও তার মা, আর কোনো কথা বললেন না!
পরের দিন সকালে!
স্কুলে যাওয়ার পথে প্রিয়া ও রাজুর দেখা হয়ে যায়
রাজুকে দেখে কান্না করে দিলো প্রিয়া!
কাঁদতে কাঁদতে বললো কাল থেকে তোমার সাথে আর মনে হয় দেখা হবে না!
রাজু বললো কি হয়েছে পাগলী, কাকা কিছু বলেছে!
প্রিয়া বললো না কাকা কিছু বলেনি!
বাবা তোমার সাথে মেলামেশা করতে মানা করেছে!
এই কথা শুনে রাজু খুব চিন্তায় পড়ে গেল!
রাজু প্রিয়াকে সান্তনা দিয়ে বললো সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে!
হঠাৎ একদিন প্রিয়াকে পাত্রপক্ষ দেখতে আসলো!
প্রিয়া কারো কাছে কিছু বলতে পারতেছে না সে রাজুকে
ভালোবাসে!
প্রিয়ার স্কুল যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে প্রিয়ার বাবা!
প্রিয়ার বাবা বললো তোমার লেখাপড়া করতে হবে না!
সেদিন থেকে রাজুর সাথে প্রিয়ার কোনো যোগাযোগ নেই!
প্রিয়া কারো সাথে কথা বলেনা একা চুপচাপ বসে থাকে!
এইসব দেখে প্রিয়ার কাকীমা সবকিছু বুঝতে পারল প্রিয়া রাজুকে ভালোবাসে কিন্তু কারো কাছে মুখ ফুটে বলতে পারছেনা!
তাই প্রিয়ার কাকী প্রিয়ার কাছে আসলো এসে বললো!
তুমি রাজুকে ভালোবাসো!
প্রিয়া ভয়ে ভয়ে বলল হ্যাঁ!
প্রিয়ার কাকী বললো ঠিক আছে আমি তোমাদের দুজনকে মিলানোর ব্যবস্থা করছি!
প্রিয়া বললো কি ভাবে!
কাকী বললো আমি তোমার কাকার সাথে কথা বলে দেখি কি করা যায় বলে চলে গেল!
প্রিয়ার কাকী প্রিয়ার কাকা কে বললেন!
প্রিয়া আর রাজু, দুজন দুজনকে ভালোবাসে!
প্রিয়ার কাকা বললো কি বলছো তুমি!
প্রিয়ার কাকী বললো হ্যাঁ আমি ঠিকই বলছি আমি চাই আপনি ওদের ভালোবাসা মেনে নিন!
প্রিয়ার কাকা কোনো কথা না বলে চুপচাপ চলে গেলেন!
দুই দিন পর!
রাজুর নিথর দেহ পাওয়া গেল মধুপুর জঙ্গলে!
কে বা কারা রাজুকে হত্যা করেছে, তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি, মধুপুর থানার পুলিশ এটি নিয়ে তদন্ত করছে!
এদিকে প্রিয়া যখন জানতে পেলো রাজুকে হত্যা করা হয়েছে প্রিয়া পাগলের মতো দৌড়িয়ে মধুপুর জঙ্গলে দিকে চললো,
জঙ্গলে যাওয়ার পর দেখলো পুলিশ দেহ নিয়ে চলে গেছে
পোস্টমাটাম করার জন্য!
এইভাবে কেটে গেল এক সপ্তাহ!
রাজুর হত্যাকারীর কোনো খবর পাওয়া যায়নি এখনো!
এদিকে প্রিয়া খাওয়া দাওয়া ছেড়ে দিয়ে পাগলের মত একা একা বসে থাকে!
আর ভাবতে থাকে পুরনো সেই স্মৃতিগুলো
এভাবেই শেষ হয়ে গেল প্রিয়া ও রাজুর প্রেম কাহিনী
সমাপ্ত...

