Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published
Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published

sushmita bhowmick

Romance Fantasy Others


3.8  

sushmita bhowmick

Romance Fantasy Others


হঠাৎ বৃষ্টি

হঠাৎ বৃষ্টি

6 mins 290 6 mins 290

কাল ভোর রাতে বৃষ্টি পড়েছে I অসময়ের বৃষ্টি I জালনার বাইরের কৃষ্ণচূড়া গাছটা এই হঠাৎ আক্রমণ সামলাতে পারে নি I লাল ফুল গুলো ঝরে পড়েছে ভেজা মাটিতে I বারান্দায় বসে চা খেতে খেতে, মনটা খুশিতে ছলকে উঠলো রেণুকার I

শান্ত ভোরের এই একান্ত সময় টা তার খুব প্রিয় I আজ সকালটা কি একটু বেশি ভালো লাগছে? ঠান্ডা হাওয়া? না স্মৃতির দরজায় ধাক্কা মারা এই সোঁদা গন্ধটা? ফেলে আশা দিন গুলোর অসমাপ্ত গল্পরা ভিড় করেছে I গল্পই তো I যা সত্যি নয় তা গল্প ছাড়া কি? 


"উফফ দেরি হয়ে গেছে!! থার্ড ডে ইন এ রো .. না না ....ক্লাস এর বাইরে কিছুতেই দাঁড়ানো যাবে না..." নিজের মনেই বীর বীর করে রিঙ্কি I 

"কি বীর বীর করছিস? আজ আবার দেরি?" হন্তদন্ত হয়ে নিজের বই নিয়ে বেরিয়ে যেতে যেতে বললো ঋজু I

"এই ঋজু টা র জ্বালায় জীবন শেষ I তোকে এতো গুছুনি হতে কে বলেছে বাপু?" রিঙ্কি বিরক্ত মুখ করে বইয়ের ব্যাগ টা গুছোতে থাকে I

"যত তাড়াহুড়ো ততো সময় বেশি লাগে I রুটিন দেখার ও সময় নেই, যা ভারী হবে না আজ ব্যাগ টা I" বই গুলো কে কোনোমতে ব্যাগ এ গুঁজতে গুঁজতে রিঙ্কি ক্যালকুলেট করে, "দু মিনিট বাকি ৯ টা র ফার্স্ট বেল এর I তার মানে চার মিনিট এ ঢুকতে হবে, ইফ আই হ্যাভ টু মেক দা সেকেন্ড বেল!" 

হাত ফস্কে রে এন্ড মার্টিন তা পরে যেতে, রিঙ্কি আর চোখে বাবার দিকে তাকায়ে I বাবার মুখ খবরের কাগজে গোঁজা I সেদিকে চোখ রেখে, রিঙ্কি সন্তর্পনে বই টা তোলে I পাতার ফাঁক থেকে বেরিয়ে আসা সাদা কালো ছবিটা ঠেলে ঢুকিয়ে দায়ে I


"আজ টিকু দের বাগান এর মধ্যে দিয়ে শর্ট কাট নিতে হবে...উপায় নেই I স্পীডে যেতে হবে, নাতো দাদু দেখেলেই চেঁচাবে I" সাইকেল টা স্ট্যান্ড থেকে খুলতে খুলতে, নিজের মনেই বলে সে, "আমার ভাগ্যে এই হ্যান্ড-মি-ডাউনস গুলোই আছে I উয়িশ আই ওয়াস দা এল্ডার ওয়ান I"

চায়ের কাপ এ চুমুক দিয়ে আরেকটু আরাম করে বসলো রেণুকা I এই কেইন চেয়ার গুলো দিল্লী তে কেনা I সংসারের শুরুর দিকে I রথীন এর সাথে টেস্ট মিলতো রেণুকার I রাস্টিক ফার্নিচার, ঘরে র এদিক ওদিক একটু সবুজ I ইন ফ্যাক্ট ইফ উ থিঙ্ক অফ ইট, খারাপ কাটে নি আঠাশ টা বছর I ঝগড়া ঝাটি তো স্বামী স্ত্রী র মধ্যে হয়েই থাকে I ভালোয়ে মন্দ তে কেটেছে I শশুর বাড়ি, বাপের বাড়ি, ছেলে মেয়ে, ক্যারিয়ার, ওই আর কি, যেমন কাটে বেশি র ভাগ মানুষের I নাথিং টু কমপ্লেইন নর এনিথিং টু রাইট হোম এবাউট!


রথীন তিন বছর হলো মারা গেছে. রেণুকা মানিয়ে নিয়েছে এই নতুন জীবনে; নিজের রিসার্চ, ট্রাভেল, সেমিনার, এই সব নিয়ে থাকে I প্রথিষ্ঠিত বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে নিজের স্থান করে নিয়েছে I আজ তবে একি ছেলে মানুসি I ক্যানো বার বার পুরোনো কথা মনে পড়ছে তার?


"সব কিছুর কাল হলো ওই ইনভাইট টা," ভাবে সে I কদিন আগে টেলিভশন এর এক চ্যানেল থেকে ফোন আসে, প্যানেল মেম্বর হওয়ার জন্য I মনে এর মতো টপিক - ইনফ্লুয়েন্স অফ ওয়েস্টার্ন ক্লাসিকাল ইন্সট্রুমেন্টস এন্ড হাউ ইট হএস্ কান্ট্রিবিউটেড ট্যু মডার্ন ইন্ডিয়ান মিউসিক I'


স্বাভাবিক ভাবেই সম্মতি দেয়ার আগে, রেণুকা জানতে চায় অন্যান্য প্যানেল মেম্বার দেড় সম্মন্ধে I সবই চেনা মুখ...ফেলো একাডেমিসিয়ান্ I এক জন্ই শুধু চেনা নয়...নাকি সব চেয়ে বেশি চেনা!


"ঋজু...হ্যান প্যানেল ডিসকাশন...হ্যান ই আর 'ও' মডারেটর...আমি কি রাজি হয়ে ভুল করলাম...হ্যান হ্যান বলে দিয়েছি...খুব খুব নারভাস লাগছে... কেমন যেন লাগছে...না করে দেব?"


"মআই গুডনেস রিঙ্কি, হি ইস ষ্টীল সো মাচ ইন ইউ!"


"এটাই মুশকিল ঋজু কে নিয়ে," রেণুকা ভাবে I "ক্যান একচুয়াল্লি সই থ্রু মি!"


ছোটবেলায় মা কে বহু বার পারা প্রতিবেশী, আত্মীয় স্বজন দের কাছে বলতে হয়েছে, "এই কিছু মনে করো না গো. রিঙ্কি না খুব দুষ্টু হয়ে গাছে I আজ ওকে খুব বকবো I" বেচারা খুব একটা বকা ঝকা, শাসন করতে পারতো না I "ক্যানো রে রিঙ্কি মা, ক্যানো এরকম করিস? আমায় দুটো কথা লোকে শুনিয়ে গেলে, তোরে ভালো লাগে?"


"কে তোমায় কি বলেছে? সোনা দা মিথ্যে বলছিলো, তাই আমি প্রোটেস্ট করলাম I বাবা বলে যে যদি কেউ ভুল বলে, মিথ্যে বলে, তাহলে সেটা মেনে নিতে নেই I" ছেলে হতে হতে মেয়ে হয়ে গেছে, এমন গুজব ও ছড়িয়েছে চেনা মহলে I কি আর করা, রিঙ্কি মন কে সান্তনা দিয়েছে, "দাদা আর দিদি 'ইডিএল সন্তান,' এই এক রক্ষে I"


আজ সকালে রেণুকা একটু ভোরে উঠে পড়েছে I এতো আগে না উঠলেও চলতো I চা এর পর্ব মিটিয়ে 'নোটস' গুলো নিয়ে বসে সে I এখনো হাত এ প্রচুর সময় I সবে সকাল আঠ টা বাজে I বেরোতে হবে এগারোটা নাগাদ I কি রকম ছট ফট করছে মনটা I একটা চাপা উত্তেজনা I এতো বছর ধরে যাকে নিয়ে কল্পনার জাল বোনা, শৈশব থেকে কৈশোর এর পথ যার হাত ধরে চলা, বহু বার বহু ভাবে নানা মুহূর্তে যার সাথে মুখ মুখী হওয়ার কথা ভাবা, আজ সেই মানুষটা সামনে থাকবে I উত্তেজনা তো হবারই কথা I রেণুকা র মুখে একটা সলজ্জ আধো হাঁসি ঝিলিক মেরে যায় I


সিই ওয়াস জাস্ট থারটিন; প্রথমবার তাকে দেখা I দাদা র প্যান্ট পড়া, ছোট ছাটা চুল, সারাদিন দস্যিপনা করে বেড়ানো রিঙ্কি, কেমন যেন থমকে দাঁড়ায় I বাংলা চলচিত্রে নতুন মুখ, উঠতি নায়ক; সিনেমা হল এ মা এর পাশে বসে, অন্ধকারে চোখে চোখ রেখে লজ্জা পায়ে I সিনেমা র গল্প কিছু মনে থাকে না, তবে সারা রাত দুটো চোখ ঘুম কেড়ে নেয় I নিজের মধ্যে যে কতো ধরণের অনুভূতি আছে সেদিন সে বুঝতে পারে I


সারা আলমারি প্রায় খালি; বিছানার উপর উপচে পড়ছে শাড়ি I ভীষণ রাগ হচ্ছে নিজের ওপর I প্রথম ডেট এ যাচ্ছে যেন I সিল্ক, জর্জেট, একি পাগলামি!! ঘড়ির দিকে তাকিয়ে তাড়াতাড়ি রেডি হতে থাকে রেণুকা I সিঁড়ির ওপর থেকে, এক ফাঁকে, মুখ বাড়িয়ে বলে, "রমেন গাড়ি বার করো, ঠিক পাঁচ মিনিটে নামছি I"

থাঙ্কস টু ঋজু, মা যানলো, এবং বাবা ও I মা এক গাল হেসে বললো, "যাক নিশ্চিন্ত হলাম I" বাবা গম্ভীর গলায় বললেন, "infatuation, চলে যাবে I" হ্যান infatuation চলে গেছিলো, কিন্তু তার জায়গাতে রেখে গেছিলো স্থায়ী এক অনুভূতি I বাইশ বছরে পৌঁছে যখন সেই infatuation কে আর হেসে উড়িয়ে দেয়া গেল না, তখন সকলেই বিরক্ত হোলো I রিঙ্কি প্রতিবাদ করে নি I কি বলতো? আরো মন দিয়ে ক্যারিয়ার গড়া টাকে মুখ্য করে নিলো I পিএইচডি করতে গিয়ে আলাপ হলো রথীন এর সাথে, এবং বিয়ে I ডক্টরেট শেষ করে দেশ এ ফিরলো দুজনে I দেশে ফেরা টা দুজনেরই এজেন্ডা তে ছিল I তারপর আর কি? গতানুগতিক উচ্চ মদ্ধবিত্ত জীবন I


একটু আগেই পৌঁছে গেছিলো রেণুকা I ষ্টুডিও র গায়ে লাগানো লাউঞ্জে এ বসে কফি খেতে খেতে গল্প করছিলো দুজনে I একচুয়ালি 'ও' বলছিলো আর রেণুকা শুনছিলো I বেশি র ভাগ কোথায়ই কানে যাচ্ছিলো না I মনে পড়ছিলো কত অপরাহ্ন এই মুখ দেখেছে সে চোখ বন্ধ করে I বয়েস হয়েছে, চুলে ধরেছে রুপোলি রং, কিন্তু টোল পড়া হাসিটা এখনো সেই একই রকম I 


"আপনি হাসছেন? আমি কি কিছু ভুল বললাম?" 

"অরে না না," অপ্রস্তুত হয়ে বলে ওঠে রেণুকা I "আসলে আপনার সাথে এরকম ভাবে বসে গল্প করবো, কোনোদিন ভাবি নি I"

"কেন বলুন তো? আমি তো এই শহরেই থাকি I আলাপ তো হতেই পারতো আর গল্প ও I"


"রেণুকা, কতদিন পর! অলমোস্ট টু ইয়ার্স," হই হই করে হাজির রেণুকা র পরিচিত ড্র. মিত্র, অপর এক প্যানেলিস্ট I 


"ও' র কথা র উত্তর দেয়া হলো না I ভেবেছে তো I নানা সিনারিও; কিন্তু সেতো কল্পনা ছিল I সত্যি হবে তা তো ভাবে নি I

ডিসকাশন ভালই হোলো I নাথিং পাথ ব্রেকিং I ভালো বক্তা, কিন্তু সাবজেক্ট এক্সপার্তাইস না থাকায়, 'ও' মডারেশন টা সেফ পাথ এ রাখলো I এক দিকে খুব ডেপ্থ এ না যাওয়াতে ভালোই হয়েছে, মনে মনে ভাবে রেণুকা I খুব মুশকিল হতো এই মানুষিক অবস্থাতে প্রোডাকটিভ কান্ট্রিবিউশন করতে I


প্রোডিউসার এর অনুরোধে সকলেই ষ্টুডিও র ক্যাফেটেরিয়া তে লাঞ্চ করতে করতে চুটিয়ে আড্ডা দিচ্ছিলো I সময় শেষ হতে চলেছে. এই হঠাৎ দেখা...হয়তো আর কোনো দিন দেখা হবে না, মনে মনে ভাবছিলো রেণুকা I কথা হচ্ছিলো আফ্রিকান আমেরিকান র্সংগীত নিয়ে I 

"আচ্ছা আপনার তো একটা বই আছে, রিলেটেড টপিক এ?" প্রশ্ন টা হঠাৎ তাকে করলো 'ও.' রিঙ্কি অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলো, "আপনি পড়েছেন? আর ইউ ইন্টারেস্টেড ইন দিস্?"


"নানা আমি পড়ি নি I বাট প্যানেলিস্ট দের বেপারে একটু রিসার্চ করে আসব না?" হো হো করে হেসে বললো 'ও.' "বাট আই উল্ড লাভ টু নো মোর এবাউট ইট I ক্যান ওই মিট সাম ডে? এক কাপ কফি এন্ড মোর ফ্রম ইউ ওন ড্যাট এন্ড আদার থিংস? কি বলেন ? আপনার আপত্তি নেই তো? 

"আপত্তি ...?" রিঙ্কি হেসে কার্ড টা বাড়িয়ে দিলো ....


Rate this content
Log in

More bengali story from sushmita bhowmick

Similar bengali story from Romance