দায়িত্বের মধ্যে প্রেম
দায়িত্বের মধ্যে প্রেম
রিমির অফিসে নতুন প্রজেক্ট শুরু হয়েছে। বিভিন্ন বিভাগ থেকে দক্ষ কর্মীদের নিয়ে একটা স্পেশাল টিম গঠন করা হয়েছে। সেখানেই প্রথম দেখা অরিনের সঙ্গে।
অরিন চুপচাপ, কাজের প্রতি অদ্ভুত নিষ্ঠাবান, স্বল্পভাষী। কেউ কথা বলতে গেলেও কেবল দরকারি কথাই বলে।
প্রথমদিকে রিমি খুব অবাক হতো অরিন এতটা গম্ভীর প্রকৃতির কেন?
কিছুদিন পর জানলো, অরিনের বাবা নেই, মা শয্যাশায়ী। অফিস শেষে সে বাড়ি গিয়ে রান্না করে,নিজে হাতে মায়ের যত্ন করে,রাতের পর রাত জেগে মায়ের ঘুম না আসা পর্যন্ত পাশে বসে থাকে।
কথাগুলো শুনে রিমির চোখে ভেসে উঠল নিজের বাবার মুখ। তিনিও একা মানুষ। মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে অনেক কিছুই চেপে রাখেন।অবসর নেওয়ার পর থেকে সারাদিন কোনরকমে নিজেকে কাজে ব্যস্ত রাখলেও দিনের শেষে ফাঁকা বাড়িতে একাকীত্বে ভোগেন।
অরিন আর রিমি দুজনে একসাথে কাজ করতে করতে দুজনের মাঝে আস্তে আস্তে এক মায়াবী টান তৈরি হতে থাকে —যেখানে প্রেম ছিল না কোনো হঠাৎ উত্তাপ, বরং ছিল বোঝাপড়া, নিরব সম্মান, আর একরকম আশ্রয়।
রিমি অনুভব করলো, অরিনের প্রতি তার ভালো লাগা দিন দিন বাড়ছে। বন্ধুত্বের ওপরে ও এক আলাদা অনুভূতি কাজ করছে অরিনের প্রতি।কিন্তু সে জানে—অরিনের জীবন এতটাই দায়িত্বে ঘেরা যে সেখানে প্রেম ঢুকতে চাইলে দরজা খুঁজে পাওয়া দায়।
একদিন সন্ধ্যেতে একসঙ্গে দুজনে কাজ করতে করতে সাহস করে রিমি জিজ্ঞেস করল,
"তুমি কখনো কাউকে ভালোবাসতে চাওনি?"
অরিন একটু চুপ থেকে উওর দিলো -
"চেয়েছি, কিন্তু ভয় পাই। যদি আমার জীবনের ভার কেউ বইতে না পারে?"
রিমি কথাটা শুনে হালকা হেসে বলে উঠলো -
"তুমি জানো, প্রেম মানেই সব হালকা করে ফেলার কোনো যন্ত্র নয়। তবে দুইজন মিলে সেই ভারটাকে ভাগ করলে হয়তো জীবনটা একটু সহজ হতো।"
অরিন কিছুক্ষণ চুপ করে রিমির দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল, কিছু বলল না। কিন্তু অরিনের চোখে একটা অদ্ভুত প্রশান্তি নেমে এলো।
কয়েক মাস পর, এক সন্ধ্যায় অরিন অফিস থেকে ফিরে ছোটো ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে চায়ে চুমুক দিতে দিতে রিমিকে ফোন করলো -
"আজ একটু সময় পাবে? তোমার বাবার সঙ্গে দেখা করতে চাই।"
রিমির গলা কেঁপে উঠল, "তুমি কি প্রস্তুত অরিন? দায়িত্বের ভারে আমাদের সম্পর্কের প্রেমের ইতি হবে না তো?"
"প্রেমকে পেতে হলে দায়িত্বের পথেই হাঁটতে হয়, রিমি। আমি এখন জানি...তুমি পাশে থাকলে আমি শুধু ভার বইবো না, বুক ভরে নিঃশ্বাস নেব। তোমার সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে জীবনটা উপভোগ করবো"
সেদিন থেকেই শুরু হয় অরিন আর রিমির একসাথে পথচলা। পরিবার, কাজ, জীবন সবকিছু সামলে তারা হাতে হাত রেখে এগিয়ে যায়।
ভালোবাসা তখনই গভীর হয়, যখন সেটা শুধু আবেগ নয়—দায়িত্ব, প্রেম, ভালোবাসা,দুজনের মধ্যে বোঝা
পড়া আর সাহসের ভিত্তিতে গড়ে ওঠে।

