"অটুট প্রতিশ্রুতি"
"অটুট প্রতিশ্রুতি"
কোনো একসময় ছিল । আমি তখন আমার এখন এর মত ছিলাম না ।
-আমি ছিলাম সাধারন, বদমেজাজি, রাগী, বেপরোয়া। কিন্তু আজও আমি সেই আগের মত সাধারণ আছি , আমি নেই শুধু বদমেজাজি, রাগী, বেপরোয়া।
আজ আমি পুরোপুরি আলাদা ,সবার থেকে আলাদা , সবার সাথে থেকেও সবার থেকে আলাদা ।
একটা ভীষণ মূল্যবান কথা আছে মানুষ পরিবর্তন এর পিছনে দুটো কারণ থাকে , প্রথমতো কারোর জীবনে কোনো বিশেষ কিছু আসলে,হোক সেটা মানুষ বা কোনো জিনিস , আর দ্বিতীয়ত কারোর জীবন থেকে বিশেষ কিছু হারিয়ে গেলে।
এরকম আমারও জীবনে হয়েছে,আমারও বিশেষ কোনো একজন এসছে।
আর আমিও আজ ভীষণ খুশি ,ভীষণ পরিবর্তন তার জন্য । আমি এতই খুশি যে কোনো বাক্য দিয়ে বিশ্লেষণ করার মত নয়।
আজ আমার এগুলো লেখার সব থেকে বড় কারন সেই , আর আমার নিজের ব্যক্তিগত গোপনীয় কারণ হচ্ছে আমি আজ সবাই কেই বোঝাতে চায় ,এরকম প্রজন্মতে এত অনুগত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ মানুষ আমার জীবনে আছে, তখন কেনো আমি সবাই কে জানাবো না । আমি তার জন্য নিজেকে খুব সৌভাগ্যবান, গর্ববোধ মনে করি রোজ ,সব সময়।।
তার উপর আজও পর্যন্ত আমার এক বিন্দুও রাগ অভিমান হয়নি কারণ সে এতটাই নিখুঁত ।। আমি যদি কিছু লিখতে যাই আমার হৃদয় থেকে শুধু তার প্রশংসা বের হয়ে যায় ।।
আমি আমার বিশেষ মানুষ কে আমার লেখা লাইন গুলোর মধ্যে তাকে আমার কৃতজ্ঞতা জানাই।।
কিন্তু এত কিছু এর পরেও অনেক সময় তার অনুপস্থিতি উপভোগ করতে হয়েছিল, খুবই কষ্ট, ব্যাথা,টান নিয়ে সময় কাটিয়ে-ছিলাম ,কখনও মানতে পারি নি আমি ,তার হঠাৎ উধাও হয়ে যাওয়া।
সময় তখন রাত্রি ১:২০ এরও বেশি, সম্পূর্ণ মনোযোগ, আগ্রহ নিয়ে কথা বলতে বলতে ,হঠাৎ সে বলে বিদায়,যত্ন নিও তোমার, আমি তোমাকে মিস করব, এবং তোমাকে খুব ভালোবাসি,আর ভালবাসবো বলে সব কিছু থেকে চলে গেছিল ,আমি তখন ব্যার্থ,নিরাস হতাশ হয়ে চিন্তায় পরে যায়।।
তখন মনে হচ্ছিল আমার কোনো অস্তিত্ব নেই ,কোথায় এসে গেছি ,কে আমি এরকম মানসিকতা নিয়ে ওর অন্তিম মেসেজ গুলোর দিকে হতবাক হয়ে দেখি আর ভাবী আর নিজেকে মনে মনে দোষারোপ করতে করতে বলছিলাম আমি কোনো ভুল করলাম নাতো ? কি দোষ করে ফেললাম !! হঠাৎ করে আমি অমার্জিত ছিন্নভিন্ন কান্নায় ভেঙে পড়লাম আর তাকে বার বার মেসেজ , কল করছিলাম !! তার সমস্ত কিছু বন্ধ ছিল !!
তবুও আমি আশা ছাড়ি নি তার ফিরে আসার,হঠাৎ হঠাৎ ভাবতাম আজ আসবে, কাল আসবে ,এভাবে আমি দিন এর পর দিন তার ফিরে আসার প্রকাণ্ড অপেক্ষা করতাম ।।
কখনও কখনও তাকে মেসেজ করতাম আজ ২০ দিন হলো ,কখনও কখনও সেটা ৭০ দিনও হয়েছিল ।। এভাবে চলতে চলতে আমি মাঝে মধ্যে ভাবতাম হয়তো সে আমাকে ছাড়া এগিয়ে গেছে, আবার কখনও ভাবতাম সে আমাকে অঙ্গীকার করেছিল চিরতরে আমার সঙ্গে থাকবে ।।
কিন্তু আমি একটা কথাতে খুব বিশ্বাসী ছিলাম যে আমি যেমন আচরণ করবো,সেরকমই আমার জীবনসঙ্গী হবে , তাই আমি থাকতাম ৭০ দিনপরও তার অপেক্ষায় থাকতাম তার জন্য অনুগত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়ে।।
তার অনুপস্থিত থাকায় আমি আমার ক্যারিয়ার গড়তে পিছিয়ে গেছিলাম, কোনো কিছু তে মনোযোগ হতো না ।। এমনও হয়েছিল আমার সঙ্গে হয়তো কখনও কোনো কিছুর দিকে তাকিয়ে আছি আর ভাবছি আমি তার জন্য।।
এভাবে যত দিন যেতো তত তার উপর দ্বিধাগ্রস্ত হতাম ।। এভাবে আবার কখনও ৮০ দিনও হয়ে গেছিল তার ফিরে আসার অপেক্ষা।। আবার কখনও কখনও তার হাজারও মেসেজ স্কিপ করে করে, আমাদের প্রথম দিন থেকে করা মেসেজ গুলোতে গিয়ে পড়তাম আর তার বলা এক একটা মেসেজ এর লাইন গুলোর সঙ্গে অলীক কল্পনা করতে করতে পড়তাম । তার বার বার বলা লাভ ইউ মেসেজ গুলো খুব নিরালাবোধ করে কাঁদাতো ,কষ্ট দিত তবুও পড়তাম বার বার ।।
তার জন্য মোনাজাতে কেঁদে কেঁদে তাকে ভিক্ষা চাইতাম আমার আল্লাহ্ এর থেকে,
কখনও কখনও এমনও আসা নিয়ে তার বাবার ফোনে কল দিতাম যদি... সে একবার তার বাবার ফোনের কল গ্রহণ করে বলে বাবা বাড়ীতে নেই ,অথবা কোনো প্রয়োজনে ব্যাস্ত আছে !!
আবার কখনও তার কাকার মেয়েকে মেসেজ দিতাম অনেক আশা নিয়ে যে তার কাকার মেয়ে যেন একবার তার উচ্চারণভঙ্গি আমাকে সোনাবে !!
তবুও কোনো লাভ হয়নি ,যতবার যার কাছে গেছি শর্তহীন আসা নিয়ে ততবার ব্যার্থ হয়েছিলাম ।।
তার অনুপস্থিতি আমাকে পুরোপুরি একা একা করে দিয়েছিল ,তবুও তার উপর বিন্দু পরিমাণ রাগ , অভিমান জন্মায় নি।।
রাস্তায়,ঘাটে অনেক কিছু তার চেহারা মনে করিয়ে দিত ,তার কল্পনায় থাকতে থাকতে একবার আমার পথদুর্ঘটনাও হয়েছিল ।। তখনও আমার তার প্রতি কোনো শর্তহীন অনুরাগ বিরাগ ঘৃণা জন্মায়নি বরং তার প্রতি আকাশ পরিমাণ চাওয়া পাওয়া বেড়ে যেতো ।।
অবশেষে একদিন হঠাৎ সে ফিরে আসলো , একদিন সকাল বেলা ছিল তখনও আমি ঘুমিয়ে ছিলাম ,সে দেখি বার বার মেসেজ ,কল করছিল ।। আমার ঘুম ভেঙ্গে যায় তার মেসেজ বিজ্ঞপ্তি তে , তখন আমি একভাবে এক দৃষ্টিতে তার অবাক করে ফিরে আসার মেসেজ গুলো দেখতেই থাকি তাকে রিপ্লাই দিতে মনে ছিল না আমি , আমি এতটাই অবাক আশ্চর্য হয়েছিলাম যে আমার সব কিছু ঘনীভূত হয়ে গেছিলো।।
তার পরও আমি তাকে কোনো ভাবে কোনরকম judge না করেই এগিয়ে গেলাম তার দেওয়া আগের দিনের মতো কথপোকথনে আগের মতমানসিকতার ভাব নিয়ে ,কারণ সে একটুও পরিবর্তন ছিল না ,তার সব কিছু ,তার ভালোবাসা আমার প্রতি ,আগের মত ছিল তাই আমি তাকে কোনো প্রশ্ন না করেই ,তার চলে যাবার কারণ ও না জেনে তাকে মেনে নিলাম ।। কিন্তু আমি তাকে শুধু একটা অনুরোধ,অঙ্গীকার করিয়েছিলাম ,এবার যেন সে কখনও এরকম করে ,হঠাৎ আমার থেকে চলে না যায় ।।
আমরা আবারও আগের মত আমাদের একে অপরের প্রতি চরম আগ্রহ নিয়ে কথা বলতাম ,সব সময় সার দিন ।।
আমরা একে অপরকে জিজ্ঞেস করলাম আমরা কি কখনও আমাদের হঠাৎ অনুপস্থিতিতে আমরা কি অন্য কারোর সঙ্গে কোনো সম্পর্ক করেছিলাম কি না ।।

