STORYMIRROR

Artistic Din

Romance

3  

Artistic Din

Romance

হেই আর্টিস্ট (পর্ব:০১)

হেই আর্টিস্ট (পর্ব:০১)

4 mins
2

ঘুম থেকে উঠেই আবির এক নতুন,রোমাঞ্চকর আর চাঞ্চল্য সকাল আবিস্কার করল।অন্যান্য দিন এ সময়টা অনেক বোরিং লাগলেও আজ তার একটুও অলসতা কাজ করছে না।।কারণ আজ তার জীবনের একটা বিশেষ দিন।আজ তার জন্মদিন।।আর সেটাও ১৮ তম জন্মদিন।সে তার জীবনের আরো একটা নতুন ধাপ এ পা রাখতে যাচ্ছে।।কৈশর কাল কে বিদায় জানিয়ে যৌবন কালে পা রাখার সময় চলে এসেছে।এ জন্য তার মধ্যে আরো বেশি চাঞ্চল্যতা কাজ করছে।।।

আবির মা - বাবার একমাত্র ছেলে।ভার্সিটিতে সবে মাত্র ভর্তি হয়েছে।।বাবার বড় ব্যাবসা থাকায় কখনো অভাব এর মুখ দেখতে হয়নি তাকে।।বলতে গেলে মোটামুটি সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্ম তার।।বাবা মায়ের অগাধ আদর আর সম্পত্তি থাকা সত্তেও তার মধ্যে বিন্দুমাত্র অহংকার নেই।

ঘুম থেকে উঠে তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করে নিল আবির।তারপর রেডি হয়ে ভার্সিটির জন্য বেরিয়ে গেল।।আজ তার বন্ধুদের ট্রিট দিতে হবে।। ভার্সিটিতে পৌছে আবির রিতীমতো অবাক।কারণ গত রাতে ডিপার্টমেন্ট এর গ্রুপে আলোচনা হওয়ায় সবাই জন্ম দিন এর ব্যাপারে জানতো।।তাই ডিপার্টমেন্ট এর বড় ভাইয়েরা আর আবিরের বন্ধুরা মিলে কমন রুম এর এক কোনা সুন্দর করে সাজিয়ে কেক নিয়ে অপেক্ষা করছিল।আবির যাওয়ার সাথে সাথে সবাই তাকে উইশ করলো।।আর গিফ্ট দিলো।।ডায়েরি,টি শার্ট, পারফিউম সহ আরো অনেক কিছু পেল আবির।সবাইকে লাঞ্চ এ ট্রিট দিলো আবির।

রাতে বাসায় ও ছোট খাটো পার্টি ছিল যেখানে কেবল প্রতিবেশী ও কাছের আত্মীয়রা ছিলেন।।হাসি খুশি আর আনন্দের মধ্য দিয়ে আবিরের ১৮ তম জন্মদিন পার হয়ে গেল।।আবির পর দিন আর ভার্সিটি গেল না।কারণ সারারাত ঘুম হয়নি।।তাই আজ রেস্ট নিতে হবে।।বিকেলের দিকে সে তার পাওয়া সকল গিফ্ট খুলে খুলে দেখছিল।।এরই মধ্যে একটা পেইন্টিং ওর খুব ভালো লেগে গেল।।।।গিফ্ট কার্ড এ দেখল ভার্সিটির কোনো বড় ভাই এর দেয়া।।নাম আকাশ। ৩য় বর্ষের ছাত্র।।আবির নাম দেখে মোটেও চিনলো না।।কারণ আবির সবে মাত্র ১ম বর্ষে ভর্তি হয়েছে।।।যেহেতু ভার্সিটিতে তখন তার বন্ধুদের সাথে ডিপার্টমেন্ট এর সিনিয়র রাও অনেকে ছিল।।তাই খুব একটা অবাক হয়নি সে।।।কিন্তু আকাশ কে দেখার তার খুব ইচ্ছে হলো কারণ পেইন্টিং টা খুব দারুন লেগেছে আবিরের।।।

পরদিন ভার্সিটিতে গিয়ে আবির ওর ফ্রেন্ড দের আকাশ ভাই এর কথা বললে তারা ফ্রি পিরিয়ডে দেখা করার কথা বলে।ফ্রি পিরিয়ডে ডিপার্টমেন্ট এর কমন রুমে যেতেই ওর এক বন্ধু দেখিয়ে দেয় আকাশ ভাইকে।।আবির এগিয়ে যায় ও হাত বাড়ায়__

আবির:হ্যালো ভাইয়া,,আমি আবির

আকাশ:হেই বার্থডে বয়।।আমি আকাশ।।।কেমন আছো তুমি।।

আবির:জি ভাইয়া, অনেক ভালো।। আসলে আপনার দেয়া পেইন্টিং টা আমার অনেক পছন্দ হয়েছে।।।তার জন্য ধন্যবাদ বলতে এলাম।।।।

আকাশ:আরে আরে,,তার দরকার নেই।।।তোমার ভাল লেগেছে এটাই অনেক।।।

আবির:কোথা থেকে সংগ্রহ করেছেন ভাইয়া, জানতে পারি।।?

আকাশ:সংগ্রহ?তুমি বোধহয় নিচে আমার সাইন টা দেখোনি।।।ওটা আমার নিজের করা।।।

আবির অবাক হয়ে গেল।।।রসায়নের স্টুডেন্ট হয়ে এত সুন্দর পেইন্টিং?।।

আকাশ:আরে কি ভাবছো?

আবির: না মানে কিছুনা।।।আপনি এত সুন্দর পেইন্টিং জানেন?তাও রসায়নের স্টুডেন্ট হয়ে?..

আকাশ:ওই একটু আধটু জানি আর কি।।।শখের বশে করি।।।

ইতোমধ্যে ফ্রি পিরিয়ড শেষ।।।কথার শেষ না হতেই আবির কে ক্লাসে ফিরতে হলো।।।আবির যে কেবল আকাশ এর সাথে কথা  বলছিল তা নয়।।কেন জানি তার আকাশ কে পর্যবেক্ষণ করতে অনেক ভাল লাগছিল।।।

আকাশের চুল,কপালের মাঝে মিলে যাওয়া ভ্রু জোড়া, গভীর চোখ যেন আবিরের চোখে ভাসছিল।।।হঠাত ই সব ভাবনা ঝেড়ে আবির ক্লাসে মনযোগী হয়।।

ক্লাস শেষে বাড়ি ফেরার সময় গেট এ আকাশ এর সাথে দেখা হয় আবিরের।।।

আকাশ:আরে বার্থডে বয় যে।।।তখন পিরিয়ড শেষে এমন ভাবে গেলা যেন দেরি করলে দুনিয়া উলটে যেত।।

আবির:না মানে ভাইয়া,,কলেজের অভ্যাস যায়নি এখনো।।।

বলে মুচকি হাসে আবির।

আকাশ: আচ্ছা বাদ দাও।।।বাসায় যাও এখন।।। দেখা হবে কাল।।

আবির কি যেন বলতে গিয়ে বললো না।।কি বলতে যাচ্ছিল তা সে নিজেও জানেনা।।।পরে বিদায় জানিয়ে বাসায় ফিরে এলো।।।

বাসায় এসে রুমে ঢুকতেই দেয়ালে পেইন্টিং টা দেখে চট করে আকাশ এর কথা মনে পড়লো তার।।।আবার সে আকাশ কে মনে মনে পর্যবেক্ষণ করতে লাগলো।।।এমন কেন হচ্ছে সে বুঝতে পারছে না।।।কেবল এইটা বুঝতে পারছে যে তার আকাশ কে নিয়ে ভাবতে বেশ ভালোই লাগছে।।

আকাশ মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে।।ওরা দুই ভাই বোন।।বোন বড় ও বিয়ে হয়ে গেছে।।।বাবা গ্রামে কৃষি কাজ করে।।।আকাশ রসায়ন ডিপার্টমেন্ট এর ৩য় বর্ষের ছাত্র।।ছবি আকা তার শখ।।।শুরুর দিকে মেস ভাড়া করে থাকলেও সিনিয়র হওয়ায় ভার্সিটির হল এ সিঙ্গেল সিট পেয়েছে ৫ মাস হলো।।।

এর পর ভার্সিটি তে গিয়ে  আবির ফাক পেলেই আকাশ এর সাথে দেখা করে, কথা বলে সময় কাটায়।।এতে আকাশের ও কোনো বিরক্তিভাব প্রকাশ পায়না।।বরং সেও আবিরের সাথে কথা বলে সাচ্ছন্দ্যবোধ করে।।। এভাবেই একদিন কথা বলতে বলতে আকাশ আবির কে তার হল এ ইনভাইট করে।।

আকাশ:তোমার পেইন্টিং এর প্রতি এত আগ্রহ।।আসো একদিন আমার হলে।। আমার সব কাজ দেখবে।।

আবির:সত্যি ভাইয়া??কবে আসব বলুন।

আকাশ:এর আবার কবে কি আছে।।যখন ইচ্ছা আসতে পারো।।।এইত দুই বিল্ডিং পর যে ৪ তলা হল দেখছো।।ওখানেই ৩য় তলার ১১১ নম্বর রুম।।

আবির: ঠিক আছে ভাইয়া।।।।কিন্তু.....

আকাশ:কিন্তু কি।।

আবির : না মানে, আপনার whatsapp নম্বর টা যদি...

আকাশ: হাহা।।এতে এত কিন্তু কিন্তু করার কি আছে।।।এই নাও।।

এই বলে আকাশ আবিরের whatsapp এ জয়েন হলো।।।

 

চলবে......


Rate this content
Log in

Similar bengali story from Romance