দ্য শত্রুজিৎ ক্রনিকলস: 1 দ্য মেনধর প্রোটোকল
দ্য শত্রুজিৎ ক্রনিকলস: 1 দ্য মেনধর প্রোটোকল
দ্য শত্রুজিৎ ক্রনিকলস: 1
দ্য মেনধর প্রোটোকল
অধ্যায় ১ – আগুনের রেখা
মেনধর সেক্টর।
জানুয়ারি, ২০১৩।
রাত ২টা ১৭।
কুয়াশা যেন মাটির ওপর নেমে এসেছে—ঘন, ভেজা, শ্বাসরুদ্ধকর।
লাইন অফ কন্ট্রোলের ওপারে আর এপারে—সবকিছু একই রঙে মিশে গেছে। সাদা। মৃত সাদা।
ইন্ডিয়ান আর্মির প্যাট্রোল টিম “আলফা-থ্রি” নিঃশব্দে এগোচ্ছিল।
তাদের বুটের নিচে বরফ চূর্ণ হওয়ার ক্ষীণ শব্দ—এই নীরবতায় সেটাই সবচেয়ে বড় আওয়াজ।
“স্টপ।”
সার্জেন্ট রাঠোর হাত তুলে ইশারা করলেন।
সামনের ঝোপে কিছু একটা নড়েছে।
সবাই থেমে গেল।
রাইফেল উঠল কাঁধে।
শ্বাস আটকে গেল বুকের ভেতর।
দূরে কোথাও একটা কুকুর হাউল করল।
তারপর—
আবার নীরবতা।
“চেক কর,” রাঠোর ফিসফিস করলেন।
ল্যান্স নায়েক ইমতিয়াজ ধীরে ধীরে এগিয়ে গেল।
তার চোখে নাইট ভিশন—সবুজ দুনিয়ায় একটা কালো দাগ।
আর এক পা…
আর এক পা…
হঠাৎ—
তার পা কিছু একটা ছুঁল।
সে নিচে তাকাল।
…একটা হাত।
কাটা। জমাট বাঁধা রক্তে শক্ত হয়ে গেছে।
মাটির ওপর পড়ে আছে—যেন কেউ ইচ্ছে করে রেখে গেছে।
“স্যার…”
তার গলা কেঁপে উঠল।
রাঠোর এগিয়ে এলেন।
তার চোখ এক মুহূর্তে বদলে গেল।
কারণ এটা কোনো লড়াইয়ের চিহ্ন নয়।
এটা একটা বার্তা।
আরও কয়েক কদম সামনে—
দেহটা পাওয়া গেল।
মাথা নেই।
শরীরটা পাথরের পাশে ফেলে রাখা।
ইউনিফর্ম ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে।
বুকে একটা চিহ্ন—ছুরি দিয়ে আঁকা।
একটা বৃত্ত।
তার মধ্যে একটা রেখা।
রাঠোরের ঠোঁট শক্ত হয়ে গেল।
“ব্যাক অফ। কেউ টাচ করবে না।”
তার চোখ কুয়াশার ভেতর দিয়ে তাকিয়ে রইল—ওপারের দিকে।
কিছু একটা ভুল হচ্ছে।
খুব ভুল।
এটা কোনো সাধারণ বর্ডার ইনসিডেন্ট নয়।
এটা… স্টেজড।
ঠিক সেই সময়—
রেডিও সেটে হালকা স্ট্যাটিক।
“আলফা-থ্রি, রিপোর্ট।”
রাঠোর এক সেকেন্ড চুপ করে রইলেন।
তারপর ধীরে বললেন—
“কন্ট্রোল… আমরা একটা বডি পেয়েছি। আই রিপিট—এইটা… এইটা আলাদা।”
স্ট্যাটিক বাড়তে লাগল।
তারপর—
একটা অচেনা ভয়েস ঢুকে পড়ল লাইনে।
খুব নিচু। খুব ঠান্ডা।
“খেলা শুরু হয়েছে।”
লাইন কেটে গেল।
---
অধ্যায় ২ – সংকেত
নয়াদিল্লি।
সাউথ ব্লক।
সকাল ৯টা ৪০।
টেলিভিশন স্ক্রিনে একের পর এক ব্রেকিং নিউজ।
> “মেনধর সেক্টরে বর্বরতা!”
“ভারত-পাক উত্তেজনা চরমে!”
“সরকারের কড়া প্রতিক্রিয়া আসন্ন!”
কনফারেন্স রুমে গমগম করছে শব্দ।
মন্ত্রীরা, অফিসাররা, বিশ্লেষকরা—সবাই কথা বলছে, কিন্তু কেউ কাউকে শুনছে না।
“ডিপ্লোম্যাটিক নোট পাঠাতে হবে—”
“মিডিয়া কন্ট্রোল করতে হবে—”
“ইন্টারন্যাশনাল প্রেসার—”
এই বিশৃঙ্খলার মাঝেই, একটা স্ক্রিন নিঃশব্দে জ্বলে উঠল।
কেউ খেয়াল করল না।
একটা এনক্রিপ্টেড ফাইল খুলল নিজে থেকেই।
Subject: MENDHAR / PRIORITY BLACK
তার নিচে একটাই লাইন—
“CONVENTIONAL RESPONSE INSUFFICIENT.”
ফাইলটা আবার নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে গেল।
---
একই সময়—
সাউথ ব্লকের এক কোণায়, জানালাবিহীন একটা ঘর।
ভেতরে একজন বসে আছেন।
টেবিলে কোনো নাম নেই।
কোনো ফাইল নেই।
শুধু একটা কালো ফোল্ডার।
তিনি ধীরে সেটি খুললেন।
ভেতরে—
একটা সাদা পৃষ্ঠা।
শুধু একটাই শব্দ লেখা—
SHUNYA
তিনি অনেকক্ষণ তাকিয়ে রইলেন।
তারপর ইন্টারকম তুললেন।
“লাইন সেভেন। এনক্রিপ্টেড।”
ওপাশ থেকে শুধু একটাই উত্তর এল—
“রেডি, স্যার।”
তিনি বললেন—
“প্রোটোকল শুরু করো।”
এক সেকেন্ড থেমে—
খুব ধীরে যোগ করলেন—
“Activate Shunya.”
---
দিল্লির ওপর দিয়ে সেই মুহূর্তে একটা পাখি উড়ে গেল।
শহর স্বাভাবিক রয়ে গেল।
কেউ জানল না—
একটা ছায়া জেগে উঠেছে।
---
অধ্যায় ৩ – স্থপতি
ঘরটা অন্ধকার।
জানালা নেই।
ঘড়ি নেই।
সময় নেই।
শুধু টেবিলের ওপর একটা ল্যাম্প জ্বলছে।
আলোটা সরাসরি পড়ে আছে ফাইলের ওপর।
কালো ফোল্ডার।
কোড: S-0 / CLASSIFIED
লোকটা চুপ করে বসে আছেন।
তার মুখ দেখা যাচ্ছে না পুরোপুরি।
শুধু চোখ।
স্থির। হিসেবি।
তিনি পাতা উল্টালেন।
---
SUBJECT: UNKNOWN
STATUS: ERASED (2013)
UNIT: 1 PARA SF (RED DEVILS)
REMARK: NON-EXISTENT
---
পরের পাতা।
ছবি নেই।
শুধু একটা ফাঁকা বক্স।
তার নিচে লেখা—
> “He does not belong to the system.
The system survives because of him.”
লোকটা হালকা হাসলেন।
“অদ্ভুত…”
---
আরেকটা পাতা।
ALIASES: MULTIPLE
Ziauddin
Orlando Mazzotta
……… (Redacted)
---
তার আঙুল থামল এক লাইনে।
PSYCHOLOGICAL PROFILE:
> “Extended isolation leads to identity erosion.
Subject may forget original self.”
লোকটা চোখ বন্ধ করলেন এক মুহূর্ত।
যেন কিছু মনে পড়ছে।
---
তারপর ধীরে বললেন—
“পারফেক্ট।”
---
তিনি উঠে দাঁড়ালেন।
ঘরের অন্ধকার তাকে গিলে নিল।
দরজার সামনে এসে থামলেন।
শেষবারের মতো ফাইলের দিকে তাকালেন।
“এই দেশ তোমাকে মনে রাখবে না,”
তিনি ফিসফিস করে বললেন।
“কিন্তু তুমি এই দেশটাকে বাঁচাবে।”
দরজা খুলে গেল।
অন্ধকারের ভেতর দিয়ে তিনি বেরিয়ে গেলেন।
---
দূরে কোথাও—
বরফের মধ্যে একজন মানুষ চোখ খুলল।
তার নাম নেই।
তার অতীত নেই।
শুধু একটা শব্দ—
শূন্য।
অধ্যায় ৪ – ভূতের জাগরণ
লাদাখ।
১৭,০০০ ফুট।
ভোর ৪টা ১২।
হাওয়া এখানে শব্দ করে না—
ছুরি চালায়।
বরফের ওপর একটা ছোট, পাথরের ঘর।
কোনো চিহ্ন নেই।
কোনো পতাকা নেই।
ভেতরে—
একজন মানুষ বসে আছে।
চোখ বন্ধ।
শ্বাস এত ধীর, যেন সে বেঁচেই নেই।
তার সামনে একটা মেটাল বাটি।
ভেতরে বরফ গলছে ধীরে ধীরে।
টপ…
টপ…
এই শব্দেই সময় মাপা হয় এখানে।
হঠাৎ—
তার চোখ খুলল।
কোনো চমক নেই।
কোনো প্রশ্ন নেই।
যেন সে জানত—এই মুহূর্ত আসবে।
দরজার বাইরে পায়ের শব্দ।
সে উঠে দাঁড়াল।
একটা পুরোনো ব্যাগ তুলে নিল।
দরজা খুলল না।
দরজার দরকার নেই।
পেছনের দেয়ালের একটা অংশ সরে গেল—
গোপন পথ।
সে বেরিয়ে এল।
বাইরে সাদা দুনিয়া।
দূরে একজন দাঁড়িয়ে—মুখ ঢাকা।
দু’জনের চোখ এক মুহূর্তের জন্য মিলল।
কোনো কথা হলো না।
লোকটা একটা প্যাকেট বাড়িয়ে দিল।
সে নিল।
ভেতরে—
একটা নতুন জীবন।
---
“অর্ডার?”
লোকটা প্রথমবার জিজ্ঞেস করল।
সে একটু ভেবে বলল—
“লোকেশন।”
“মেনধর… শুরু। শেষ—অজানা।”
এক সেকেন্ড চুপ।
তারপর সে মাথা নেড়ে দিল।
লোকটা ঘুরে চলে গেল।
কোনো বিদায় নেই।
কারণ—
ভূতদের বিদায় লাগে না।
---
অধ্যায় ৫ – জিয়াউদ্দিন
ঘরটা ছোট।
আলো কম।
একটা আয়না।
সে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে।
তার নিজের মুখ—
শেষবারের মতো দেখছে।
চোখে কোনো আবেগ নেই।
ধীরে ধীরে সে একটা কাঁচি তুলল।
চুল কাটা শুরু করল।
একটা লক…
দুইটা…
মাটিতে পড়ে থাকতে লাগল পুরোনো সত্তা।
---
এরপর—
দাড়ি।
আঠা।
কালার।
টেক্সচার।
মিনিট কুড়ির মধ্যে—
অন্য একজন দাঁড়িয়ে আছে আয়নার সামনে।
---
সে কথা বলতে শুরু করল—
“মেরা নাম—”
থামল।
না।
সে মাথা নেড়ে দিল।
এই চরিত্র কথা বলে না।
---
একটা ছোট বাক্স খুলল।
ভেতরে—
ডকুমেন্টস।
পুরোনো পাস
মেডিক্যাল রিপোর্ট
ট্রাইবাল আইডেন্টিটি
একটা ভাঙা তসবিহ
সে তসবিহটা হাতে নিল।
আঙুলে ঘুরাল।
তারপর পকেটে রাখল।
---
দরজায় নক।
একজন বৃদ্ধ ঢুকল।
চোখে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি।
“তুমি প্রস্তুত?”
সে কিছু বলল না।
শুধু তাকাল।
বৃদ্ধ হেসে ফেলল।
“ভালো… কথা না বলা শিখেছ।”
সে টেবিলে একটা ম্যাপ ছড়িয়ে দিল।
কাবুল।
খাইবার পাস।
সামরকন্দ।
“এই রুট। কোনো ভুল নেই।”
বৃদ্ধ একটু ঝুঁকে এল।
খুব নিচু গলায় বলল—
“মনে রাখো… তুমি এখন কেউ না।”
এক সেকেন্ড থেমে—
“তুমি এখন জিয়াউদ্দিন।”
---
সে আবার আয়নার দিকে তাকাল।
এই মুখটা তার না।
এই জীবনটা তার না।
তবুও—
এটাই এখন তার একমাত্র সত্য।
---
অধ্যায় ৬ – ব্রিফ
অন্ধকার ঘর।
একটা টেবিল।
দু’জন মানুষ।
বৃদ্ধ আর জিয়াউদ্দিন।
টেবিলে একটা ডিভাইস প্রজেকশন চালু করল।
ডিজিটাল ম্যাপ ভেসে উঠল।
---
“টার্গেট—একটা শিপমেন্ট।”
স্ক্রিনে ছবি—
নোটের বান্ডিল।
“কাউন্টারফিট কারেন্সি।”
জিয়া তাকিয়ে রইল।
বৃদ্ধ মাথা নাড়ল।
“না… এটা শুধু উপরের স্তর।”
স্ক্রিন বদলাল।
ডাটা প্যাকেট।
কোড।
সার্ভার নোড।
---
“এইগুলো—ডাটা সিড।”
“কিসের?”
জিয়া প্রথমবার ফিসফিস করল।
বৃদ্ধ একটু থামল।
তারপর বলল—
“অরাজকতার।”
---
স্ক্রিনে ভারতীয় শহরগুলো জ্বলে উঠল।
দিল্লি।
মুম্বাই।
কলকাতা।
লাল বিন্দু।
---
“এই ডাটা ঢুকলে—”
“ফিনান্সিয়াল সিস্টেম, সোশ্যাল মিডিয়া, সিভিক রেসপন্স—সব একসাথে ক্র্যাশ করবে।”
জিয়ার চোখে হালকা পরিবর্তন।
“টাইমলাইন?”
“৭২ ঘণ্টা।”
---
এক সেকেন্ড নীরবতা।
তারপর—
“আমার কাজ?”
বৃদ্ধ ধীরে বলল—
“ইন্টারসেপ্ট। আইডেন্টিফাই। নিউট্রালাইজ।”
---
জিয়া উঠে দাঁড়াল।
তারপর থামল।
“আর যদি… কিছু মেলে না?”
বৃদ্ধ তাকাল তার দিকে।
একটু হাসল।
“তাহলে খুঁজে বের করো… কী লুকানো আছে।”
---
জিয়া মাথা নেড়ে বেরিয়ে গেল।
দরজা বন্ধ।
---
বৃদ্ধ একা বসে রইল।
ধীরে বলল—
“আশা করি… তুমি সত্যিটা সামলাতে পারবে।”
---
অধ্যায় ৭ – শূন্যের পারাপার
রাত।
লাইন অফ কন্ট্রোল।
আকাশে চাঁদ নেই।
শুধু অন্ধকার।
---
জিয়াউদ্দিন মাটির সাথে লেগে আছে।
তার শরীর যেন ছায়া।
দূরে সেন্সর।
মোশন ডিটেক্টর।
প্যাট্রোল।
সব হিসেব করা।
---
সে ধীরে এগোল।
এক ইঞ্চি…
এক ইঞ্চি…
হঠাৎ—
আলো।
একটা ফ্লেয়ার আকাশে উঠল।
সবকিছু সাদা হয়ে গেল।
---
সে থেমে গেল না।
কারণ থামা মানে—মরা।
---
দুই সেকেন্ড।
তিন সেকেন্ড।
আলো নিভে গেল।
সে ইতিমধ্যেই সামনে।
---
ওপারের মাটি।
অন্য দেশ।
অন্য নিয়ম।
---
সে উঠে দাঁড়াল না।
শুধু একবার পিছনে তাকাল।
কোনো আবেগ নেই।
কোনো দেশ নেই।
---
তারপর—
সে অদৃশ্য হয়ে গেল।
অধ্যায় ৮ – খাইবারের আবরণ
খাইবার পাস।
ভোর ৬টা ১০।
সূর্য উঠছে—কিন্তু আলো এখানে নিরাপত্তা নয়।
এখানে আলো মানে—তুমি দৃশ্যমান।
জিয়াউদ্দিন ধীরে হাঁটছে।
তার কাঁধে পুরোনো ব্যাগ।
চোখ নিচু।
ঠোঁট বন্ধ।
চারপাশে—ট্রাক, গাধা, লোকজন।
বাণিজ্য আর চোরাচালান—এখানে একই জিনিস।
একটা বাচ্চা তার সামনে এসে দাঁড়াল।
“কোথা থেকে?”
জিয়া তাকাল না।
শুধু হাত তুলে ইশারা করল—গলা নেই।
বাচ্চাটা হেসে উঠল।
“বোবা?”
পাশ থেকে একজন বৃদ্ধ বলল—
“ছেড়ে দে… নিজের কাজে যা।”
---
জিয়া এগিয়ে গেল।
তার চোখে সবকিছু ঢুকছে—
কে কার সাথে কথা বলছে
কার হাত খালি
কার চোখ বেশি ঘুরছে
সবকিছু।
---
একটা চায়ের দোকানের সামনে সে থামল।
বসলো।
চা এল।
সে কাপটা হাতে নিল।
তার আঙুলের নড়াচড়া—মেপে, নিয়ন্ত্রিত।
হঠাৎ—
তার চোখ এক মুহূর্তের জন্য থেমে গেল।
দোকানের কাঁচে প্রতিফলন।
একজন লোক দাঁড়িয়ে আছে পেছনে।
তৃতীয়বার।
একই দূরত্বে।
একই কোণে।
---
জিয়া চা খেতে থাকল।
কোনো প্রতিক্রিয়া নেই।
কিন্তু তার মাথার ভেতর—
কাউন্টডাউন শুরু।
---
অধ্যায় ৯ – প্রথম ইন্টারসেপ্ট
রাত।
একটা সরু রাস্তা।
দুই পাশে পাথর।
একটা মোটরবাইক এগিয়ে আসছে।
ড্রাইভার—একজন কুরিয়ার।
ব্যাগ ঝুলছে পাশে।
---
জিয়া ছায়ার ভেতর দাঁড়িয়ে।
তার নিশ্বাস ধীর।
তার চোখ শুধু ব্যাগে।
---
বাইকটা পাশ কাটাতে যাবে—
হঠাৎ—
একটা পাথর ছুঁড়ে মারল সে।
চাকা স্কিড করল।
বাইক পড়ে গেল।
লোকটা ওঠার আগেই—
জিয়া তার পাশে।
একটা ঘুষি।
একটা চাপ।
লোকটা নিস্তেজ।
---
জিয়া ব্যাগ খুলল।
ভেতরে—
নোট।
বান্ডিলের পর বান্ডিল।
---
সে একটা নোট তুলল।
আলোয় ধরল।
পারফেক্ট।
খুবই পারফেক্ট।
---
তারপর—
আরও একটা পকেট।
ছোট ডিভাইস।
এনক্রিপ্টেড।
---
সে সেটি চালু করল।
স্ক্রিনে কোড।
লোকেশন পিং।
---
জিয়ার চোখ সরু হয়ে এল।
“ডিকয়…”
---
সে ব্যাগটা আবার বন্ধ করল।
লোকটার দিকে তাকাল।
এক সেকেন্ড।
তারপর—
লোকটার ঘাড় ঘুরে গেল।
নীরব মৃত্যু।
---
জিয়া উঠে দাঁড়াল।
আকাশের দিকে তাকাল না।
কারণ—
এটা শুধু শুরু।
---
অধ্যায় ১০ – লিয়ারির ভূতেরা
করাচি।
লিয়ারি।
রাত ১টা ৩০।
এই শহর ঘুমোয় না।
শুধু বদলায়।
গলির পর গলি।
নোংরা। অন্ধকার। জীবন্ত।
---
জিয়া হাঁটছে।
এখানে তার অতীত আছে।
এখানে তার নাম ছিল—
অন্য কিছু।
---
একটা দরজার সামনে সে থামল।
তিনবার নক।
একবার বিরতি।
দুইবার।
---
দরজা খুলল।
একজন লোক দাঁড়িয়ে।
চোখে সন্দেহ।
“কে?”
জিয়া কিছু বলল না।
শুধু একটা কয়েন এগিয়ে দিল।
লোকটা দেখল।
তার মুখ বদলে গেল।
---
“তুই…”
“মরে গেছিলি তো।”
---
জিয়া ভেতরে ঢুকল।
ঘরটা ছোট।
দেয়ালে পুরোনো বন্দুক।
টেবিলে মদের বোতল।
---
লোকটা বসলো।
“কেন এসেছিস?”
জিয়া চুপ।
তারপর ধীরে বলল—
“রুট চাই।”
লোকটা হেসে উঠল।
“এত বছর পরে এসে—শুধু রুট?”
---
এক সেকেন্ড নীরবতা।
তারপর লোকটা সামনে ঝুঁকল।
“শুন… এই খেলা বদলে গেছে।”
---
“কে চালাচ্ছে?”
জিয়ার গলা ঠান্ডা।
লোকটা চুপ।
তারপর বলল—
“আমরা না।”
---
“তাহলে?”
লোকটা জানালার দিকে তাকাল।
অন্ধকার।
---
খুব নিচু গলায়—
“নতুন খেলোয়াড় এসেছে।”
---
জিয়ার চোখ স্থির।
“নাম।”
লোকটা মাথা নেড়ে দিল।
“নাম নেই।”
---
এক সেকেন্ড।
তারপর—
“কিন্তু… ও তোকে খুঁজছে।”
---
ঘরের ভেতর হঠাৎ নীরবতা।
ভারী।
চাপা।
---
জিয়া ধীরে উঠে দাঁড়াল।
তার চোখে কোনো ভয় নেই।
কিন্তু—
একটা নতুন হিসেব শুরু হয়েছে।
---
কারণ—
প্রথমবার—
কেউ শিকারিকে শিকার বানাতে চাইছে।
অধ্যায় ১১ – রক্তের মুদ্রা
করাচির বাইরে।
পরিত্যক্ত শিল্পাঞ্চল।
রাত ২টা ০৫।
কারখানাটা বহুদিন বন্ধ।
জং ধরা গেট।
ভাঙা জানালা।
কিন্তু—
ভেতরে আলো জ্বলছে।
---
জিয়া দূর থেকে তাকিয়ে আছে।
তার চোখে স্কোপ।
দূরত্ব—৮৫০ মিটার।
সে শুয়ে আছে একটা ভাঙা ছাদের ওপর।
রাইফেল স্থির।
শ্বাস নিয়ন্ত্রিত।
---
ভেতরে—
মেশিন চলছে।
প্রিন্টার।
কাগজ বেরোচ্ছে।
নোট।
---
সে ট্রিগারে আঙুল রাখল।
একজন সুপারভাইজার—টার্গেট।
হেডশট।
নিঃশব্দে পড়ে গেল।
---
ভেতরে হালকা বিশৃঙ্খলা।
কেউ বুঝতে পারছে না কী হলো।
---
জিয়া উঠে দাঁড়াল না।
দ্বিতীয় শট।
তৃতীয়।
সবকিছু আবার নিস্তব্ধ।
---
পাঁচ মিনিট পর—
সে ভেতরে ঢুকল।
দরজা ভাঙার দরকার হলো না।
চাবি ছিল—
যার এখন আর দরকার নেই।
---
ভেতরে মেশিনের গন্ধ।
কালি।
গরম কাগজ।
---
সে একটা বান্ডিল তুলল।
নোট।
আবার সেই একই অনুভূতি।
পারফেক্ট।
অস্বাভাবিকভাবে পারফেক্ট।
---
সে মেশিন খুলে দেখল।
কম্পোনেন্টস—
লোকাল না।
ইউরোপিয়ান।
চাইনিজ হাইব্রিড।
---
তার চোখে এক ঝলক চিন্তা।
---
হঠাৎ—
একটা শব্দ।
পেছনে।
---
সে ঘুরল না।
শুধু বলল—
“বের হয়ে এসো।”
---
ছায়া থেকে একজন বেরিয়ে এল।
মুখে অদ্ভুত হাসি।
“তুমি দ্রুত কাজ করো।”
---
জিয়ার চোখ স্থির।
“তুমি কে?”
লোকটা কাঁধ ঝাঁকাল।
“আমিও প্রশ্ন করি না।”
---
এক সেকেন্ড।
তারপর—
“এই নোটগুলো… শুধু টাকা না।”
---
জিয়া চুপ।
লোকটা এগিয়ে এল।
“এগুলো বিশ্বাস ভাঙার অস্ত্র।”
---
তারপর হঠাৎ—
লোকটা গুলি খেল।
জিয়ার রাইফেল থেকে।
---
লোকটা পড়ে যেতে যেতে হাসল।
“তুমি… দেরি করে ফেলেছ…”
---
রক্ত মাটিতে ছড়িয়ে গেল।
---
জিয়া তাকিয়ে রইল।
তার মাথায় একটাই কথা—
“দেরি?”
---
অধ্যায় ১২ – ডিজিটাল ভূত
একটা অন্ধকার ঘর।
লোকেশন—অজানা।
শুধু স্ক্রিনের আলো।
---
জিয়া বসে আছে।
তার সামনে ল্যাপটপ।
এনক্রিপ্টেড ডিভাইস কানেক্টেড।
---
সে কোড রান করল।
স্ক্রিনে নেটওয়ার্ক ম্যাপ খুলে গেল।
নোড।
লিঙ্ক।
ডাটা ফ্লো।
---
ধীরে ধীরে—
একটা প্যাটার্ন তৈরি হলো।
---
দিল্লি।
মুম্বাই।
কলকাতা।
---
প্রতিটা শহরে—
ডিজিটাল ট্রিগার পয়েন্ট।
---
সে আরও গভীরে গেল।
ফাইল খুলল।
---
সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রিপ্ট।
ফেক নিউজ টেমপ্লেট।
ব্যাংকিং অ্যালগরিদম এক্সপ্লয়েট।
---
সবকিছু প্রস্তুত।
একসাথে চালু হলে—
দেশ থেমে যাবে।
---
জিয়ার শ্বাস একটু বদলাল।
প্রথমবার।
---
সে একটা লাইন পড়ল—
> “PHASE 2: INTERNAL COLLAPSE”
---
তার চোখে অন্ধকার নেমে এল।
---
এইটা টাকা না।
এইটা যুদ্ধ।
---
হঠাৎ—
স্ক্রিনে নতুন উইন্ডো।
নিজে থেকেই।
---
একটা লাইন—
> “WELCOME, SHUNYA”
---
জিয়া থেমে গেল।
তার আঙুল কিবোর্ডে।
স্থির।
---
এরপর—
আরেকটা লাইন।
> “YOU ARE LATE.”
---
ঘরের ভেতর হঠাৎ ঠান্ডা হয়ে গেল।
---
কারণ—
কেউ তাকে দেখছে।
---
অধ্যায় ১৩ – সামরকন্দের ছায়া
সামরকন্দ।
সন্ধ্যা।
নীল গম্বুজের শহর।
ইতিহাসে ভরা।
আর—
গোপন পথেও।
---
জিয়া একটা পুরোনো বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে।
দরজা আধখোলা।
---
সে ঢুকল।
ভেতরে নিস্তব্ধতা।
---
দেয়ালে পুরোনো মানচিত্র।
মেঝেতে কার্পেট।
সবকিছু ঠিক।
---
খুবই ঠিক।
---
তার চোখ সরু হয়ে এল।
সে ধীরে এগোল।
---
হঠাৎ—
তার পা থেমে গেল।
---
মেঝেতে—
একটা দাগ।
রক্ত।
পুরোনো না।
---
সে রুমে ঢুকল।
---
ভেতরে—
তিনটা দেহ।
নিঃশব্দে পড়ে আছে।
---
তার “সেফহাউস”।
---
সব শেষ।
---
জিয়া ধীরে ঘুরল।
তার হাত অস্ত্রের কাছে।
---
তখন—
পেছন থেকে একটা গলা।
---
“তুমি দেরি করে ফেলেছ।”
---
জিয়া থামল।
ঘুরল না।
---
“তুমি কে?”
তার গলা ঠান্ডা।
---
লোকটা হাসল।
---
“আমি… তোমার আগের ভার্সন।”
---
নীরবতা।
ভারী।
---
জিয়া ধীরে ঘুরল।
---
অন্ধকারে দাঁড়িয়ে একজন।
চোখে একই শান্তি।
একই হিসেব।
---
দু’জনের মধ্যে দূরত্ব—মাত্র কয়েক ফুট।
---
লোকটা বলল—
“তুমি ভাবছো তুমি শিকারি।”
---
এক সেকেন্ড থেমে—
---
“কিন্তু এই খেলায়—”
---
সে এগিয়ে এল।
---
“তুমি শুধু আরেকটা পিস।”
---
ঘরের বাতাস জমে গেল।
---
কারণ—
প্রথমবার—
জিয়ার সামনে দাঁড়িয়ে আছে এমন কেউ… যে তাকে বোঝে।
অধ্যায় ১৪ – সাদা মানুষের ছায়া
সামরকন্দ।
রাত ৮টা ৪৫।
ঘরটা অন্ধকার।
মেঝেতে তিনটা দেহ।
রক্ত শুকিয়ে কালচে হয়ে গেছে।
আর—
সাদা পোশাক পরা একজন মানুষ।
---
সে দাঁড়িয়ে আছে জানালার পাশে।
পেছন ফিরে।
---
জিয়া স্থির।
তার আঙুল ট্রিগারের খুব কাছে।
---
“তুমি দেরি করে ফেলেছ।”
লোকটা আবার বলল।
---
“তুমি কে?”
জিয়ার গলা নিস্তরঙ্গ।
---
লোকটা ধীরে ঘুরল।
সাদা কুর্তা।
চোখে অদ্ভুত শান্তি।
---
“তুমি আমাকে অনেক নামে চিনতে পারো,”
সে বলল।
“কিন্তু আজ—”
একটু থামল।
---
“আমাকে বলো… সাদা মানুষ।”
---
নীরবতা।
---
জিয়ার চোখ তার মুখ স্ক্যান করছে।
মুভমেন্ট।
শ্বাস।
হাতের অবস্থান।
সব হিসেব।
---
“ওদের কে মেরেছে?”
জিয়া জিজ্ঞেস করল।
---
সাদা মানুষটা হালকা হাসল।
“তুমি।”
---
এক সেকেন্ডের জন্য—
সময় থেমে গেল।
---
“মিথ্যে।”
জিয়া ঠান্ডা গলায় বলল।
---
লোকটা মাথা নেড়ে দিল।
“সত্যি আর মিথ্যে—এই খেলায় আলাদা করা যায় না।”
---
সে ধীরে হাঁটতে শুরু করল।
জিয়ার দিকে।
---
“তুমি একটা গল্পে বিশ্বাস করো,”
সে বলল।
“দেশ। কর্তব্য। শত্রু।”
---
আরও কাছে।
---
“কিন্তু তুমি কি জানো—”
---
সে একদম সামনে এসে দাঁড়াল।
---
“গল্পটা কে লিখছে?”
---
জিয়ার চোখে হালকা আগুন জ্বলে উঠল।
---
অধ্যায় ১৫ – ভাঙন
একই ঘর।
দূরত্ব—দুই মানুষ।
---
জিয়া প্রথমে গুলি করল না।
সে অপেক্ষা করল।
---
কারণ—
এই মানুষটা শুধু শত্রু না।
এটা একটা প্রশ্ন।
---
“তুমি আমাকে ট্র্যাক করছ?”
জিয়া জিজ্ঞেস করল।
---
“না,”
সাদা মানুষটা বলল।
“আমি শুধু… তোমার আগে হাঁটি।”
---
“নেটওয়ার্ক?”
“আমার না।”
---
“তাহলে কার?”
---
লোকটা চুপ।
তারপর—
“তোমারই।”
---
জিয়ার চোখে এক ঝলক বিভ্রান্তি।
এক সেকেন্ডের জন্য।
---
সাদা মানুষটা সেটা দেখল।
হালকা হাসল।
---
“শুনো, শূন্য…”
---
এই নামটা শুনে—
জিয়ার শরীর টানটান হয়ে গেল।
---
“তুমি ভাবছো তুমি এই খেলা থামাতে এসেছো।”
---
একটু থামল।
---
“কিন্তু তুমি… এই খেলার অংশ।”
---
হঠাৎ—
লোকটা একটা ডিভাইস ছুঁড়ে দিল তার দিকে।
---
জিয়া ধরল।
স্ক্রিন অন।
---
ভিডিও।
---
একটা অপারেশন।
পুরোনো ফুটেজ।
---
জিয়া নিজে।
২০১৩।
---
সে একটা রুমে ঢুকছে।
গুলির শব্দ।
মানুষ পড়ছে।
---
তারপর—
একটা মুখ।
আজকের সেই তিনজনের একজন।
---
ভিডিও থেমে গেল।
---
জিয়ার চোখে অন্ধকার।
---
“তুমি তাদের আগে থেকেই মেরে ফেলেছ,”
সাদা মানুষটা বলল।
---
“আজ শুধু… রিপিট হয়েছে।”
---
নীরবতা।
---
জিয়ার মাথার ভেতর শব্দ।
স্মৃতি।
ভাঙা।
অসম্পূর্ণ।
---
“তুমি কী চাও?”
সে ধীরে বলল।
---
লোকটা উত্তর দিল না।
---
শুধু বলল—
“সত্যি।”
---
অধ্যায় ১৬ – নীরব শিকারি
শহরের বাইরে।
রাত ১টা।
ঠান্ডা হাওয়া।
---
জিয়া শুয়ে আছে।
রাইফেল সেট।
দূরত্ব—১,২০০ মিটার।
---
টার্গেট—
একটা কনভয়।
মাঝের গাড়ি।
---
তার চোখ স্কোপে।
স্থির।
---
কানে এখনো বাজছে—
> “তুমি এই খেলার অংশ…”
---
সে শ্বাস নিল।
ধীরে ছাড়ল।
---
ক্রসহেয়ার স্থির।
---
গাড়ির ভেতরে—
একজন মানুষ।
স্যুট পরা।
শান্ত।
---
জিয়া ট্রিগারে চাপ দিল না।
---
কারণ—
প্রথমবার—
সে নিশ্চিত না।
---
এই মানুষটা—
শত্রু?
নাকি—
আরেকটা পিস?
---
হঠাৎ—
রেডিওতে স্ট্যাটিক।
---
একটা ভয়েস।
পরিচিত।
---
“ডু ইট।”
---
স্থপতি।
---
“এটাই তোমার মিশন।”
---
জিয়ার চোখ শক্ত হলো।
---
তারপর—
সে ফিসফিস করে বলল—
“কেন?”
---
ওপাশে নীরবতা।
---
তারপর—
“কারণ আমরা তাই বলছি।”
---
এক সেকেন্ড।
---
জিয়ার আঙুল শক্ত হলো।
---
সে ট্রিগার টানল।
---
শট।
---
দূরে—
গাড়ির কাঁচ ভেঙে গেল।
---
মানুষটা পড়ে গেল।
---
সবকিছু আবার নিস্তব্ধ।
---
জিয়া চোখ বন্ধ করল না।
---
কারণ—
সে জানে—
এই শট…
---
সবকিছু বদলে দেবে।
অধ্যায় ১৭ – ভূত বনাম ভূত
লোকেশন: অজানা
সময়: ১৬:২০
---
জিয়া দৌড়াচ্ছে না।
সে কখনো দৌড়ায় না।
কারণ—
যখন তুমি দৌড়াও, তুমি দেখা দাও।
---
সে হাঁটছে।
কিন্তু তার মাথার ভেতর—গণনা চলছে।
---
৩ সেকেন্ড আগে—
পেছনে একটা ছায়া নড়েছে।
---
২ সেকেন্ড আগে—
ডানদিকে প্রতিফলনে একটা মুখ।
---
১ সেকেন্ড—
---
সে থামল।
হঠাৎ।
---
একটা ছুরি তার পাশ দিয়ে উড়ে গেল।
দেয়ালে ঢুকে গেল।
---
জিয়া ঘুরল না।
সে জানে—
এটা ওয়ার্নিং না।
এটা খেলা শুরু।
---
“ভালো…”
পেছন থেকে গলা।
---
“তুমি এখনো ধীর।”
---
জিয়া ধীরে ঘুরল।
---
একজন দাঁড়িয়ে।
কালো পোশাক।
চোখে ঠান্ডা হিসেব।
---
“তুমি কে?”
জিয়ার গলা শান্ত।
---
লোকটা হালকা হাসল।
---
“তুমি আমাকে অনেক নামে ডাকতে পারো।”
---
একটু থামল।
---
“কিন্তু… আজ—”
---
“আমি তোমার শেষ।”
---
নীরবতা।
---
দু’জন একে অপরকে দেখছে।
কেউ নড়ে না।
---
কারণ—
এটা লড়াই না।
এটা গণিত।
---
হঠাৎ—
দু’জন একসাথে নড়ল।
---
ঘুষি।
ব্লক।
ছুরি।
এস্কেপ।
---
কোনো শব্দ নেই।
শুধু নিঃশ্বাস।
---
৫ সেকেন্ড।
১০ সেকেন্ড।
---
তারপর—
দু’জন আলাদা হলো।
---
জিয়ার গালে রক্ত।
লোকটার কাঁধে কাটা।
---
“ইন্টারেস্টিং…”
লোকটা বলল।
---
“তুমি এখনো নিজেকে বাঁচাতে চাও।”
---
জিয়ার চোখ ঠান্ডা।
---
“তুমি না?”
---
লোকটা মাথা নেড়ে দিল।
---
“না… আমি শুধু কাজ শেষ করি।”
---
এক সেকেন্ড।
---
“আর তুমি?”
---
জিয়া উত্তর দিল না।
---
কারণ—
সে নিজেও জানে না।
---
অধ্যায় ১৮ – জালের কেন্দ্র
দুবাই।
লন্ডন।
সিঙ্গাপুর।
---
স্ক্রিনে শহরগুলো জ্বলছে।
---
জিয়া একটা পরিত্যক্ত কন্ট্রোল রুমে বসে।
তার সামনে ডাটা।
অসংখ্য।
---
সে প্যাটার্ন খুঁজছে।
---
ফিনান্সিয়াল ট্রানজ্যাকশন।
শেল কোম্পানি।
ডায়াসপোরা ফান্ড।
---
সব একসাথে জুড়ে যাচ্ছে।
---
একটা নেটওয়ার্ক।
---
কেন্দ্র—
ভারত না।
চীন না।
পাকিস্তান না।
---
কেন্দ্র… কোথাও নেই।
---
এইটাই সমস্যা।
---
“ডিসেন্ট্রালাইজড…”
সে ফিসফিস করল।
---
মানে—
এটা থামানো যাবে না।
---
হঠাৎ—
একটা ফাইল খুলল।
নিজে থেকেই।
---
PROJECT: MENDHAR PROTOCOL
---
জিয়ার চোখ স্থির।
---
সে ফাইল ওপেন করল।
---
ভেতরে—
ডকুমেন্ট।
অথরাইজেশন।
সিগনেচার।
---
তার শ্বাস থেমে গেল এক মুহূর্ত।
---
কারণ—
একটা সিগনেচার—
---
পরিচিত।
---
খুব পরিচিত।
---
অধ্যায় ১৯ – মিথ্যা পতাকা
রাত।
একটা উঁচু বিল্ডিং।
---
জিয়া দাঁড়িয়ে।
হাতে ডিভাইস।
---
স্ক্রিনে ডকুমেন্ট।
---
সে আবার পড়ছে।
বারবার।
---
“PHASE 1: BORDER ESCALATION”
“PHASE 2: ECONOMIC DISRUPTION”
“PHASE 3: INTERNAL FRACTURE”
---
সবকিছু—
প্ল্যান করা।
---
মেনধর…
---
এটা কোনো দুর্ঘটনা না।
---
এটা শুরু।
---
জিয়ার চোখে অন্ধকার।
---
কারণ—
এটা শুধু বাইরের শত্রু না।
---
ভেতরেও কেউ আছে।
---
“কেন?”
সে নিজেকে জিজ্ঞেস করল।
---
উত্তর নেই।
---
শুধু একটা উপলব্ধি—
---
রাষ্ট্র… কখনো কখনো নিজের বিরুদ্ধে খেলে।
---
হঠাৎ—
ফোনে একটা মেসেজ।
---
> “NOW YOU SEE.”
---
জিয়া তাকিয়ে রইল।
---
> “WHAT WILL YOU DO?”
---
নীরবতা।
---
দূরে শহরের আলো জ্বলছে।
সব স্বাভাবিক।
---
কেউ জানে না—
সবকিছু ভেঙে পড়তে পারে।
---
জিয়া চোখ বন্ধ করল না।
---
কারণ—
এখন তাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
---
শত্রুর জন্য না।
রাষ্ট্রের জন্য না।
---
নিজের জন্য।
অধ্যায় ২০ – স্থপতির নীরবতা
নয়াদিল্লি।
রাত ১১টা ১০।
---
ঘরটা আগের মতোই নিঃশব্দ।
টেবিল।
ল্যাম্প।
কালো ফোল্ডার।
---
“স্থপতি” বসে আছেন।
চোখ স্থির।
---
ইন্টারকম বেজে উঠল।
---
“স্যার… SHUNYA যোগাযোগ করার চেষ্টা করছে।”
---
এক সেকেন্ড।
---
তিনি কিছু বললেন না।
---
দুই সেকেন্ড।
---
“স্যার?”
---
তিনি ধীরে বললেন—
“লাইন কেটে দাও।”
---
ওপাশে নীরবতা।
---
“কিন্তু স্যার—”
---
“এটাই অর্ডার।”
---
লাইন কেটে গেল।
---
স্থপতি চুপ করে বসে রইলেন।
---
তার চোখে কোনো দ্বিধা নেই।
---
শুধু একটাই বিশ্বাস—
---
কিছু যুদ্ধ জেতার জন্য… সৈনিকদের হারাতে হয়।
---
অধ্যায় ২১ – শিকার
লোকেশন: অজানা
সময়: ০২:৩০
---
জিয়া হাঁটছে।
অন্ধকারে।
---
এবার সে জানে—
সে একা না।
---
স্ক্রিনে তার ছবি।
বিভিন্ন এজেন্সি।
বিভিন্ন দেশ।
---
স্ট্যাটাস—
ROGUE ASSET
---
সে হালকা হাসল।
---
“অবশেষে…”
---
সে থামল।
---
তার পেছনে শব্দ।
---
তিনজন।
পেশাদার।
---
সে ঘুরল না।
---
কারণ—
এটা নতুন কিছু না।
---
৩ সেকেন্ড।
---
দুইজন পড়ে গেল।
---
একজন পালাতে গেল।
---
জিয়ার গলা—
“থামো।”
---
লোকটা থামল।
---
“কে পাঠিয়েছে?”
---
নীরবতা।
---
তারপর—
“সবাই।”
---
জিয়া মাথা নেড়ে দিল।
---
কারণ—
এটাই সত্যি।
---
অধ্যায় ২২ – ১৫০০ মিটারের সিদ্ধান্ত
উচ্চতা।
বাতাস পাতলা।
---
জিয়া শুয়ে আছে।
রাইফেল সেট।
---
দূরত্ব—১৫০০ মিটার।
---
টার্গেট—
একটা মানুষ।
একটা জানালার পাশে।
---
স্ক্রিনে তার ডাটা।
---
নেটওয়ার্ক আর্কিটেক্ট।
কেন্দ্রীয় নোড।
---
জিয়া তাকিয়ে আছে।
---
এই শট—
সবকিছু থামাতে পারে।
---
অথবা—
সবকিছু শুরু করতে পারে।
---
তার মাথায় আবার সেই কথা—
> “গল্পটা কে লিখছে?”
---
তার আঙুল ট্রিগারে।
---
হাওয়া বদলাল।
---
সে শ্বাস নিল।
---
তারপর—
---
ট্রিগার।
---
অধ্যায় ২৩ – ভুল লক্ষ্য
শট।
---
দূরে—
কাঁচ ভাঙল।
---
মানুষটা পড়ে গেল।
---
সব ঠিক।
---
সব নিখুঁত।
---
কিন্তু—
---
জিয়ার চোখে কিছু একটা বদলাল।
---
স্ক্রিনে আপডেট—
---
IDENTITY MISMATCH
---
এক সেকেন্ড।
---
দুই সেকেন্ড।
---
তার শ্বাস থেমে গেল।
---
সে ভুল মানুষকে মেরেছে।
---
ইচ্ছা করে?
---
না কি—
---
কেউ তার চোখ বদলে দিয়েছে?
---
অধ্যায় ২৪ – সত্যের ফাইল
অন্ধকার ঘর।
---
জিয়া একা।
---
তার সামনে ডাটা।
---
সে খুলল।
---
ফাইল।
---
ভিডিও।
অডিও।
ডকুমেন্ট।
---
সব একসাথে।
---
একটা সত্যি।
---
এই পুরো অপারেশন—
---
কাউন্টার করা না।
---
কন্ট্রোল করা।
---
ভয়।
অরাজকতা।
অর্থনীতি।
---
সব—
ডিজাইনড।
---
জিয়ার চোখ বন্ধ হলো না।
---
কারণ—
এটা শুধু শত্রুর কাজ না।
---
এটা—
সিস্টেম।
---
অধ্যায় ২৫ – শূন্য
ভোর।
---
কোনো শহর না।
কোনো দেশ না।
---
জিয়া দাঁড়িয়ে।
---
তার সামনে একটা ডিভাইস।
---
সে সেটি ধীরে ভেঙে ফেলল।
---
তার সব আইডেন্টিটি—
শেষ।
---
সব ট্রেস—
মুছে গেল।
---
সে আকাশের দিকে তাকাল না।
---
কারণ—
সে এখন আর কারও না।
---
না রাষ্ট্রের।
না মিশনের।
না অতীতের।
---
সে হাঁটা শুরু করল।
---
অজানা দিকে।
---
তার মাথায় একটা কথা—
---
“ভূতরা সেবা করে না…”
---
একটু থামল।
---
“ভূতরা সিদ্ধান্ত নেয়।”
---
অন্ধকারে মিলিয়ে গেল সে।
