দেখ কেমন লাগে
দেখ কেমন লাগে
মফঃস্বলের ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ। একসঙ্গে বেশ কজন কমবয়সী শিক্ষক কাজে যোগদান করেছেন। সৌরভ, প্রলয়, রাজা, মলয়, স্নেহা, রজত - সবার মধ্যে বেশ বন্ধুত্বের সম্পর্ক। ক্লাশের পর কলেজ লাইফের মতোই দলবেঁধে আড্ডা মারা, খাওয়া-দাওয়া, ঘুরতে যাওয়া হয়।কলেজের প্রিন্সিপাল এন সি দাস ভীষণ কড়া।
তাঁর কড়া শাসনে ছাত্র শিক্ষক সবাই থরহরিকম্প। শৃঙ্খলার দিকে তাঁর কঠোর নজর। আবাসিক কলেজ। ক্যাম্পাসের বাইরে যেতে হলে এস্টেট অফিসে রাখা খাতায় লিখে যেতে হয়।সৌরভ এম টেক পাশ করেই কলেজে যোগ দিয়েছে। প্রেমিকা কাকলি আই টি সেক্ট্ররে আছে। ভ্যালেনটাইন্স-ডে দূরে থেকেই কেটেছে। ৩১ শে মার্চ বহুকষ্টে ছুটি ম্যানেজ করেছে দুজনেই। আবহাওয়া বেশ ভালো। দুজনে একদিনের জন্য দীঘা গেল। কিন্তু উত্তেজনায় সৌরভ স্টেশন লিভ এন্ট্রি করতে ভুলে গেল।প্রলয় তক্কে-তক্কে ছিল। রাজা আর মলয়কে দলে টানলো। পরের দিন ভীষণ ভয় পাওয়া মুখ নিয়ে সৌরভকে বললোঃ“প্রিন্সিপাল স্যার কাল তোর খোঁজ করছিলেন। তুই স্টেশন লিভ এন্ট্রি করিসনি। ভীষণ রেগে গেছেন। দশটার সময় দেখা করতে বলেছেন তোকে।“রাজা আর মলয় তালে তাল দিয়ে গেল।বেচারা সৌরভ ঘেমে নেয়ে একসা। নতুন চাকরী। প্রিন্সিপালের ঘরে ঢুকে ওনাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই ভুলস্বীকার করে সরি-টরি বলে কাঁদো-কাঁদো অবস্থা। অভিজ্ঞ রাশভারী দাস স্যার ব্যাপারটা আন্দাজ করে গোঁফের আড়ালে মুচকি হেসে বললেনঃ“আর যেন ভুল না হয়।“সৌরভ হাঁফ ছেড়ে মাথা নাড়লো। একটু থেমে স্যার বললেনঃ“আজ কত তারিখ খেয়াল আছে? প্রলয়কে বলে দেবে তোমরা আর ছাত্র নও।“হতবম্ভ সৌরভ স্যারের চেম্বার থেকে বেরিয়ে দেখে তিনমূর্তি দাঁত বের করে দাঁড়িয়ে। রাগটা হজম করে মনে মনে ভাবলো- বদলা নিতেই হবে।
ল্যাবে বসে রজত আর স্নেহার সাথে একটা জব্বর প্ল্যান বানাল।প্রলয় নারীজাতির প্রতি দুর্বল। আর একটু আলসেও বটে। তিনতলায় ওর বসার ঘর। দশটায় ওঠে আর একেবারে ছুটির পর পাঁচটায় নামে। মাঝে একদম নামতে চায় না। সাড়ে চারটে নাগাদ রজত ফোন করলোঃ"প্রলয়দা ক্যান্টিনে যাচ্ছি । চলে এস । ছোটু আজ দারুণ চিকেন পকোড়া বানিয়েছে। আমি খাওয়াচ্ছি ।"প্রলয় বললো : "এখন ভীষণ ব্যস্ত । একদম সময় নেই । পাঁচটায় সই করে নামব । তোরা থাকিস ক্যান্টিনে ।"পাঁচ মিনিট পর সৌরভ ভীষণ ব্যস্ত হয়ে ফোন লাগালো: "প্রলয়দা তুমি কোথায় ? একজন মহিলা এসেছেন । তোমাকে খুঁজছেন । রজত বললো তুমি খুব ব্যস্ত ; চলে যেতে বলি ওনাকে ! "প্রলয় হাঁ-হাঁ করে উঠল : "দাঁড়া দাঁড়া, কি নাম জিজ্ঞেস কর ।": "আপনার নামটা?"বেশ জোরে উত্তর এলো : "দেবযানী ।"প্রলয় ফোনে মহিলার গলা শুনেই জানতে চাইলো : "কোথায় আছেন উনি?"- "কলেজ গেটে ।"- "আমি এক্ষুণি আসছি ।"দু-মিনিটে লম্বা-লম্বা পায়ে তিনতলা থেকে একতলায় নেমে কলেজগেটে পৌঁছে প্রলয় দেখে সিকিউরিটি ছাড়া কেউ নেই । সিকিউরিটি জানালো গত আধঘন্টায় কোন অচেনা মহিলা বা সৌরভ ওখানে আসেনি । পিছন থেকে সৌরভ, রজত আর দেবযানীরূপী স্নেহার হো-হো হাসির আওয়াজ যেন প্রলয়কে বললো - দেখ কেমন লাগে !!
