Click Here. Romance Combo up for Grabs to Read while it Rains!
Click Here. Romance Combo up for Grabs to Read while it Rains!

Manu Baban

Romance


3  

Manu Baban

Romance


#বিয়ের_ফাঁদে

#বিয়ের_ফাঁদে

7 mins 1.0K 7 mins 1.0K

“অ্যাই টুকটুকি শোন।“ গলাটা আমার চেনা। ও আমাদের পাড়ার টুবাই দা। সিভিল ইঞ্জিনীয়র, রাজস্থানে থাকে। পূজো বলে বোধহয় বাড়ি এসেছে। যাচ্ছিলাম কোচিং ক্লাসে । টুবাই দা’র ডাকে খানিকক্ষণ দাঁড়িয়ে গেলাম-“ কি হয়েছে গো?”

-“বলছিলাম তুই তো ভালো গান করিস। এবারে উদ্বোধনী সঙ্গীতটা তুই করে দে না। চিন্তা নেই আমি তবলা বাজিয়ে দেব, তাল কাটবে না।“

মানে টা কি? আমার গানে তাল কেটে যায় ? হুট করে মাথা গেল গরম হয়ে।

-“তা আমার যখন তাল কেটে যায় অন্য কাউকে দিয়ে গানটা করিয়ে নিলেই তো পারো। এই অধমকে ডাকাডাকি কেন?”

-“আরে চটছিস কেন? আমি তো এমনি বললাম। বেশ খাসা গলা তোর। তাহলে ওই কথাই রইল তোর নামটাই রাখলাম।“

-“ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান তো ষষ্ঠীর দিন। আমার যে বন্ধুদের সাথে প্রোগ্রাম হয়ে গেছে।“ আমি হাঁউমাউ করে উঠলাম।

-“ দেখেছিস তো এই এক তোদের দোষ! গানের স্কুলগুলো রমরম করে চলছে অথচ পূজোয় উদ্বোধনী সঙ্গীত গাওয়ার জন্য পাড়ায় কোনো মেয়ে নেই। আচ্ছা তুই যা, দেখছি কি করা যায়?”

টুবাই দা’র শেষের কথাগুলোতে কি ছিল জানি না, আমি প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই বললাম –“ আচ্ছা আমি গাইব।“


 উদ্বোধনী সঙ্গীতে দুটো গান পরিবেশন করেছিলাম-‘বাজল তোমার আলোর বেণু ‘ আর ‘ওগো আমার আগমনী’। আমার সাথে তবলা সঙ্গত করেছিল টুবাই দা। লাল পাঞ্জাবী আর সাদা পাজামায় অপূর্ব দেখাচ্ছিল টুবাই দা’কে। সেদিন সত্যিই আমার তাল কেটেছিল তবে গানের নয় মনের। সেদিন থেকে কি যে হল আমার! কারো সাথে কথা বলতে ভালো লাগে না, খেতে ইচ্ছে করে না , চোখে ঘুম নেই কেমন যেন একটা বৈরাগী বৈরাগী ভাব। বন্ধুদের সাথে থেকেও আমি যেন ওদের থেকে অনেক দূরে ছিলাম। মনটা পড়ে ছিল অন্য কোথাও। রাস্তায় কোনো লাল পাঞ্জাবী পরা ছেলে দেখলে টুবাই দা বলে ভ্রম হত। অথচ এমন তো হওয়ার কথা নয়। সেই ছোটবেলা থেকে চিনি টুবাই দা’কে। হঠাৎ করে কি যে হল!! এমনটা কি শুধু আমারই হচ্ছে না কি টুবাই দা’র ও একই অবস্থা? খুব জানতে ইচ্ছে করে। এমনই বৈরাগী দশা নিয়ে পূজোটা কেটে গেল। টুবাই দা’কে আর দেখা যায় না। হয়ত নিজের কর্মস্থলে ফিরে গেছে। আবার কবে আসবে জানা নেই। সামনে সেকেন্ড সেমিস্টার , পড়াশুনায় মন বসাতেই হবে। টুবাই দা’র অধ্যায়টাকে সযত্নে মনের দেরাজে তুলে রেখে জোর করে লেখাপড়ায় মন বসালাম। তবুও কখনো রুক্ষ শীতের কুয়াশায় মোড়া সকালে বা প্রথম বসন্তের মন পাগল করা হাওয়ায় প্রথম প্রেম , প্রথম ভালোলাগার স্মৃতি ঝাঁপি খুলে বেরিয়ে যেত। ইচ্ছে করত একছুটে টুবাই দা’র কাছে গিয়ে বলি-“ আমি তোমায় খুব খুব ভালোবাসি টুবাই দা।“ কিন্তু তাকে পাবো কোথায়? সে তো এখন অনেক দূরে। তাকে একবার চোখে দেখার ও তো উপায় নেই। টুবাই দা’র বাড়ির সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় পাঁচিলের ওপারে উঁকি মারতাম টুবাই দা এসেছে কি না জানার জন্য। ও তখন আমার কাছে সিনেমার হিরো। কোনো সিনেমা দেখলে নায়কের জায়গায় আমি টুবাই দা’কেই দেখতাম।


 শীত, বসন্ত পেরিয়ে প্রকৃতি তখন প্রখর রূপ ধারণ করেছে। গ্রীষ্মের উত্তাপে ঝলছে যাচ্ছে চারিদিক। সূর্যদেবতাও প্রচণ্ড রাগে গনগনে হয়ে উঠেছেন। একটু বৃষ্টির আশায় সবাই চাতক পাখি , বরুণদেবও বিমুখ। এমনই এক তপ্ত, ঝলসানো গ্রীষ্মের দুপুরে কয়েক ফোঁটা বৃষ্টির মত শান্তি এল আমার জীবনে। টুবাই দা’র ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পেলাম। বলাই বাহুল্য যে রিকোয়েস্ট অ্যাকসেপ্ট করতে বিন্দুমাত্র কালবিলম্ব করিনি।

বেশ কয়েকদিন কেটে গেল, ফেসবুকে টুবাই দা চুপচাপ। এত যে সেজেগুজে সেলফি পোস্ট করি কমেন্ট তো দূরের কথা একটা লাইক ও দেয় না। ‘কি বাজে ছেলে রে বাবা!’ মনে মনে একটু রাগ হয় বৈকি । আবার ভয়ও হয় ‘কি জানি টুবাই দা’র কোনো গার্লফ্রেন্ড নেই তো!’ স্ট্যাটাসে তো সিঙ্গেল লেখা।


 একদিন রাতে ম্যাসেঞ্জারে এল টুবাই দা –“ কি রে কেবলি কি করছিস?”

কি ! আমাকে কেবলি বলছে? দুম করে মাথাটা গরম হয়ে গেল সাথে একটা ভালোলাগার আমেজ ছড়িয়ে গেল সারা মন জুড়ে। এরপর থেকে মাঝে মাঝেই আমাদের কথা হতে থাকে। ওর সাথে কথা বলার সময়টুকুনি বড্ড ভালো লাগে আমার। কথা হলেও কোনোরকম রোম্যান্টিক কথাবার্তা কখনো হয় নি আমাদের। পৃথিবীতে কি আর কথা বলার টপিকের অভাব আছে? আমি আশায় থাকতাম একদিন নিশ্চয় টুবাই দা আমায় প্রপোজ করবে।  

এরমধ্যেই ঘটে গেল বিপত্তি। মা একদিন সগর্বে ঘোষণা করলেন আমার সম্বন্ধ এসেছে। মনিমাসির ছেলের বিয়েতে নাকি পাত্রের আমায় দেখে ভালো লেগেছিল। খুব ভালপাত্র, কলকাতার বাইরে নাকি কোথায় খুব ভালো চাকরি করে ইত্যাদি অনেককিছু মা আমার কানের সামনে আওড়াতে লাগলেন। আমার তখন কানে কোনো কথা ঢুকছে না। কথাটা এক্ষুনি টুবাই দা’কে জানাতেই হবে।

আমিই ম্যাসেঞ্জারে নক করলাম-“ টুবাই দা আমার বিয়ে ঠিক হয়েছে। “ প্রায় ঘণ্টাখানেক বাদে রিপ্লাই এল-‘ ও তাই , খুব ভালো খবর। আমার কিন্তু মিষ্টি ডিউ রইল। তোর বিয়েতে আমাকে নেমন্তন্ন করবি তো? তোকেও একটা ভালো খবর দেওয়ার আছে আমার। জানিস তো আমার স্ট্যাটাস এখন আর সিঙ্গেল নয়। আমিও মনের মানুষ খুঁজে পেয়েছি।“

ফোনটা হাতে নিয়েই বসেছিলাম টুবাই দা’র রিপ্লাইয়ের অপেক্ষায়। টুং শব্দ হতেই দেখি টুবাই দা’র ম্যাসেজ। বুকে প্রচণ্ড ধুকপুকানি নিয়ে ম্যাসেঞ্জার ওপেন করলাম। ভেবেছিলাম এক উত্তর পাবো পেলাম আরেক উত্তর। আমার হৃদয়টাকে কেউ যেন হাতুড়ি দিয়ে ভেঙ্গে খানখান করে দিল। তার মানে টুবাই দা আমাকে কোনোদিনও ভালোবাসে নি! সবই আমার ভুল! ভালোবাসাটা ছিল আমার একতরফা! নাঃ কিচ্ছু ভাবতে পারছি না। আমার চোখে তখন অকাল বর্ষণ। টুবাই দা অন্য কোনো মেয়ের হাত ধরে প্রেম করবে ভাবলেই ব্যথায় বুকটা ফেটে যাচ্ছে।

 

অনেক কষ্টে মনকে বোঝালাম , ও যদি আমায় না ভালোবেসে থাকে তাহলে আমিই বা কেন ওকে ভালোবাসবো ? আমি কেন পারব না অন্য ছেলেকে নিয়ে সুখী হতে? পারতেই হবে আমাকে। মনে অদম্য জেদ চেপে গেল।বিয়ের পরে বরের সাথে মাখো মাখো প্রেমের ছবি পোস্ট করব।‘ দেখো আমি কেমন ভালো আছি, সুখে আছি।‘ 

বাড়িতে জানিয়ে দিলাম আমার এ বিয়েতে মত আছে, তবে সেজেগুজে পাত্রপক্ষের সামনে বসে আমি ইন্টারভিউ দিতে পারব না। একেবারে বিয়ের দিন যা হবার হবে। মা হাঁউমাউ করে উঠলেন –“ সে কি রে!! তুই একবার দেখবি না পাত্রকে? তোরও তো একটা পছন্দ অপছন্দ আছে। “ 

-“ আমার দেখার দরকার নেই মা। তোমরা তো দেখেছো তাতেই হবে।“ আমার হবু বরের চাকরি, পোস্টিং এমনকি তার নামটা জানারও ইচ্ছে হয় নি আমার। আমি শুধু জানি আমাকে বিয়ে করতে হবে।

হই হই করে বিয়ের দিন ঠিক হয়ে গেল। বিয়ের কেনাকাটা শুরু হয়ে গেল, আত্মীয়-স্বজনের আনাগোনা বেড়ে গেল। বাড়িতে রীতিমত উৎসবের মেজাজ। একমাত্র মেয়ের বিয়ে তাই বাড়িতে সবাই খুশী। শুধু খুশীর ছিটেফোঁটা চিহ্ন নেই আমার মধ্যে। যে আমাকে ভালোই বাসে না তার জন্য কেন যে আমার এত কষ্ট হচ্ছে কে জানে? যতবার ভাবছি ভুলে যাব ততবারই টুবাই দা যেন বেশী করে আমার মনের ভেতর চেপে বসছে। হয়ত বিয়ের পর স্বামীর সান্নিধ্যে এলে সব ঠিক হয়ে যাবে।


 অবশেষে এলো আমার বিয়ের দিন। এই দিনটা সব মেয়েদের জীবনেই স্পেশাল দিন। এই দিনটা নিয়ে সব মেয়েই স্বপ্নের জাল বোনে। আমিও বুনেছিলাম তবে সেই স্বপ্নের নায়ক ছিল অন্য কেউ। নায়কের পরিবর্তনটাই যেন কিছুতে মানতে পারছিলাম না । যাকে মনপ্রাণ দিয়ে ভালোবেসেছিলাম , যার গলায় বরমাল্য পরাবো ভেবেছিলাম সেই মানুষটাকেই তো নিজের করে পাবো না। চারিদিকে এত আনন্দের মাঝেও আমার চোখের জল বাঁধ মানছে না। মা, বাবা ভাবছেন দূরে চলে যাবো তাই বুঝি আমার চোখে জল ।শুধু আমিই জানি আমার মনের ভেতর কি হচ্ছে। মনের মানুষকে না পেলে যে কি হাল হয়! আমি এখানে চোখের জল ফেলছি আর টুবাই দা হয়ত ওখানে প্রেমিকারসাথে ডেটিং করছে। উফ্ফ অসহ্য লাগছে। আর ভাবতে পারছি না। 


  বিয়ের মণ্ডপে যেতে হবে। তুতো দাদারা পিঁড়ি নিয়ে এল আমায় নিতে। দুটো পানে মুখ ঢেকে বরের চারপাশে ঘুরলাম। এইবার শুভদৃষ্টির পালা। তিনি তো আমাকে দেখেই পছন্দ করেছেন। আমিতো তাকে দেখিনি, এমনকি তার নামটাও জানার চেষ্টা করিনি। পানপাতা মুখ থেকে সরালাম। এবার তাকে দেখার পালা। দেখতে তো হবেই, তার সাথেই সারা জীবন কাটাবো আর অন্যের কথা ভেবে লাভ কি? আস্তে আস্তে চোখ তুললাম তার দিকে –“ একি , টুবাই দা তুমি?” তাকে দেখে ভূত দেখার মত চমকে উঠলাম।

-“ এখনো দাদা কি রে! তুই এখন ওর বৌ । হা হা হা।“ চারদিক থেকে বন্ধুবান্ধবদের ঠাট্টা , তামাশা ভেসে আসছে। এ কি স্বপ্ন না সত্যি ! আমি যেন আমার মধ্যে নেই, একটা ঘোরের মধ্যে রয়েছি। দুজনের হাত ঘটে একসাথে বাঁধা । ও আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি মুচকি হেসেই চলেছে আর আমি আনন্দে উত্তেজনায় থরথর করে কাঁপছি। সিঁদুরদান পর্ব শেষ হল। ওর দেওয়া সিঁদুর আমার সিঁথিতে। ও আর আমি এখন একসূত্রে বাঁধা। প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ হল। আমাদের একটা ঘরে নিয়ে আরো কিছু নিয়ম আচার অনুষ্ঠান পালন করার পর বড় পিসিমার নির্দেশে সবাই ঘর খালি করে দিল। ও আর আমি এখন একা। অনেক জিজ্ঞাস্য আমার ওর কাছে। কোথা থেকে শুরু করব বুঝতে পারছি না। কিছুক্ষণ ওর মুখের দিকে হাঁ করে তাকিয়ে রইলাম। ও বোধহয় আমার অবস্থাটা আঁচ করতে পেরে বলল-“ কি রে অমন ভ্যাবলার মত তাকিয়ে আছিস কেন? কি বলবি বল?”

-“ না, মানে , মানে......... কই তুমি বলো নি তো আমার সাথে তোমার বিয়ে হবে।“ আমতা আমতা করে বললাম।

-“ এতে বলার কি আছে? তাছাড়া তুই ও তো কিছু জানতে চাস নি।“

-“ আর তোমার গার্লফ্রেন্ড?”

আমার কথা শুনে সশব্দে হেসে উঠল ও – “ সাধে কি আমি তোকে কেবলি বলি? তুই একটা নাম্বার ওয়ান ক্যাবলা, কিছুই বুঝিস না।“

আমি ফ্যালফ্যাল করে ওর দিকে তাকিয়ে থাকি। কি বুঝব? কি বোঝার কথা বলছে ও? ওর কথার মাথামুণ্ডু আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। আমার করুণ দশা দেখে ও বলে চলে- “ কবে থেকে তোকে ভালোবাসি জানিনা। হয়ত সেই কৈশোর থেকেই তোকে ভালোবাসি। অনেকবার তোকে বলার চেষ্টা করেছি। তুই বুঝিস নি। পূজোর সময় থেকে বুঝলাম আমার ভালোবাসা একতরফা নয়। এরপর ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠানো , ঘণ্টার পর ঘণ্টা চ্যাট করা তুই তাও কিছুই বুঝলি না। কিছু কথা এমন হয় যা বলার দরকার পড়ে না। আমি কিন্তু তোর মনের ভাষা ঠিক পড়তে পেরেছিলাম। সেজন্যই বাড়িতে বলেছিলাম তোর বাড়িতে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যেতে। “

-“ তাহলে সেদিন যখন তোমায় বললাম আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে , তুমি কিছু বললে না কেন? কেন বললে তোমার মনের মানুষ পেয়ে গেছো ?”

-“ তখন সব বলে দিলে আজ কি এই সারপ্রাইজটা তুই পেতি? আর মনের মানুষ সত্যিই পেয়েছি তাই বলেছি।“

-“তুমি খুব পচা। তুমি জানো তোমার জন্য আমায় কত কাঁদতে হয়েছে।“

- “ আর কাঁদতে হবে না । এই যে তোর হাতদুটো শক্ত করে ধরলাম ,সারাজীবন এমন করেই ধরে রাখব। কথা দিলাম।“

বাইরে তখন আষাঢ়ের বারিধারায় ভিজে যাচ্ছে চারপাশ। আর আমরা দুজনে ভালোবাসার উষ্ণতায় ভিজছি। সামনে রঙিন স্বপ্ন সাজানো থরে থরে । একে একে ছুঁতে হবে সব।


Rate this content
Log in

More bengali story from Manu Baban

Similar bengali story from Romance