STORYMIRROR

তাসমি. নাহ!?

Romance

3  

তাসমি. নাহ!?

Romance

ভালোবাসার শেষ ঠিকানা

ভালোবাসার শেষ ঠিকানা

4 mins
193

পর্ব - ১


সকালের রোদ কাচের জানালা ভেদ করে চোখে পড়তেই চোখ-মুখ কোচকে তাকালো তিশান। ঘুমের রেশ কেটে যাওয়ার পর ফোনটা হাতে নিয়ে নোটিফিকেশন চেক করতে লাগল। বোন এর পাগলামো মেসেজ দেখে আনমনেই হাসলো তিশান। আজ সে দেশে ফিরে যাবে। ফোন রেখেই সিলিংফ্যানের দিকে তাকিয়ে তার জীবনে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনার কথা ভাবলো। দীর্ঘ ৫ বছর পর চৌধুরী বাড়ির একমাত্র ছেলে আরিহান চৌধুরী তিশান দেশের মাটিতে পা রাখছে। অবশ্য তার এই দেশ ছেড়ে যাওয়ার পিছনে যথেষ্ট কারণ ছিল। কারণটা একটু পরে বলব। আজ এতোগুলো বছর পরে বাড়িতে ছেলে ফিরছে বলে বাড়িতে অনেক রান্না-বান্নার আয়োজন করা হচ্ছে। তিশান এর পুরো নাম আরিহান চৌধুরী তিশান। বাবা ও এক চাচা মিলে তাদের পরিবার৷ বাবার নাম আলাউদ্দিন চৌধুরী। মা, সারা চৌধুরী এবং তার একটা বোন আছে যার নাম তানজিলা চৌধুরী অদ্রিতা। ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারে পড়ে। চাচা আফযাল চৌধুরী। উনার স্ত্রী মাহিনুর চৌধুরী। একমাত্র মেয়ে "আরিবা চৌধুরী তিয়াশা। তিয়াশা এবার ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে পড়ে। ৫ বছর আগের তিশান আর এখনকার তিশানের মধ্যে আকাশ পাতাল তফাৎ। সবার সাথে মিশতে পারা তিশানের মধ্যে এক গাম্ভীর্য বিরাজ করে এখন। যদিও এর পিছনে অনেক বড় কারণ আছে৷ কি হয়েছিল ৫ বছর আগে? 


৫ বছর আগে -

তিশান এর পরিবারে টাকা পয়সার অভাব নেই। তিশানের বাবা-চাচা-র নাম করা বিজনেস আছে। সেই সুবাদে তাদের টাকা পয়সার কোনো অভাব নেই। এমনকি গ্রামে প্রচুর জায়গা জমিও আছে। তিশান একটা মেয়েকে প্রচুর ভালোবাসত। তাদের ২ বছরের সম্পর্ক ছিল। ভার্সিটিতে থাকতে তিশানের হঠাৎ কি হলো কে জানে, তার কথা ছিল সে বিয়ে করে ফেলবে। তার প্রিয়তমার নাম ছিল জেসি। সে জেসিকে জানায় সে বিয়ে করতে চায়। জেসি তখন এই ব্যপারে আপত্তি জানিয়েছিল, কিন্তু তিশান সেটা শুনেনি। তিশান এই খবর তার পরিবারে জানায়। অনেক কষ্ট করে সবাইকে রাজিও করিয়েছিল৷ তিশানের বাবার এক কথা ছিল, আগে পড়াশোনা শেষ কর, তারপর আমাদের বিজনেসের হাল ধর। এরপর বিয়ে। এখনও নিজে স্টুডেন্ট। বিয়ে করে বউকে কি খাওয়াবে? তিশান এসব কিছু উপেক্ষা করে অনেক কিছু বুঝিয়ে এক প্রকার জোর করে রাজি করিয়েছিল। এভাবেও বলেছিল যদি বিয়ে না মানে তাহলে সে এই বাড়ি ছেড়ে চলে যাবে। তিশান সব সময়ই অনেক জেদি ছিল। যার কারণে সবাই এই কথাটা শুনে ভয় পেয়েছিল। তিশান যদি একবার বলে চলে যাবে, তাহলে সত্যিই চলে যাবে। অতঃপর সবাই রাজি হয়েছিল। তার পরের দিন বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে তিশান সহ তার বাবা মা জেসির বাড়িতে যান। যাওয়ার পর জেসির বাবাকে যখন এই বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয় তখন তিনি জিজ্ঞাসা করেছিলেন তিশান কি করে? আলাউদ্দিন চৌধুরী তখন বলেছিলেন যে আপাদত কিছু করছেনা, তবে পড়া শেষ হয়ে গেলে আমাদের বিজনেস দেখা-শুনা করবে। এই কথা শুনে জেসির বাবা বলেন যে ছেলে বেকার, যতই টাকা পয়সা থাকুক, নিজের তো যোগ্যতা নেই, নিজে এখনও স্টুডেন্ট। এটা শুনে তিশান বলল

- আংকেল আমি আর জেসি প্রেমের সম্পর্কে আছি ২ বছর থেকে। আমি জেসিকে অসম্ভব ভালোবাসি। এমনকি জেসিও আমাকে অনেক ভালোবাসে। 

তখন জেসির বাবা জেসিকে বললেন 

-জেসি তুমার তো বিয়ে ঠিক হয়ে আছে, আর কিছুদিন পরই তুমার বিয়ে। তুমিও তো রাজি এই বিয়েতে। কই তুমি তো এসব কিছু বললে না?

তখনই জেসি বলেছিল,, বাবা এই ছেলে অনেক-দিন যাবৎ আমার পিছু নিয়েছে, আমাকে প্রেমের প্রস্তাবও দিয়েছে, আমি না করায় এখন ফ্যামিলি নিয়ে বিয়ের প্রস্তাব দিতে চলে এসেছে। আমাদের প্রেমের সম্পর্ক থাকা তো অনেক দূরের কথা বাবা, আমি একে ভালো মতো চিনিও না। দেখো না, নিজের মধ্যে তো যোগ্যতার "য" ও নাই আর চলে আসছে বিয়ের প্রস্তাব দিতে।

এই কথাগুলো তিশানের কান বিশ্বাস করতে পারছিল না। জেসির বিয়ে ঠিক হয়ে আছে? তাও কিছুদিন পর তার বিয়ে? তারমানে জেসি আমার সাথে এতোদিন নাটক করেছিল? কই আমার ভালোবাসাতো মিথ্যা ছিল না। সে এতোটা নিখুঁত ভাবে বেইমানি করল? 

তখন তিশানের মুখের দিকে তাকানো যাচ্ছিলো না, চোখ দিয়ে যেন আগুন বের হবে এরকম দেখাচ্ছিল। তিশান আর কিছু বলল না, বাবা মা কে নিয়ে বাড়ি ফিরে আসল। বাড়ি ফিরার পর আলাউদ্দিন চৌধুরী অনেক কঠু কথা বলেছিলেন। নিজের আত্মসম্মানে লাগায় তিনি অনেক বাজে ভাবে তিশানকে কথা শুনিয়েছিলেন। এক একটা কথা যেন তিশানের হৃদয়কে ভেঙে টুকরো টুকরো করে দিয়েছিল। সেদিন তিশান ছিল নিরব স্রোতা। সেদিন-ই নিজেকে কথা দিয়েছিলো নিজেকে এমন ভাবে প্রতিষ্ঠিত করবে যেন কেও তার যোগ্যতার দিকে আঙুল তুলতে না পারে। সেইদিন থেকে তিশানের মধ্যে যে চাঞ্চল্য দিক ছিল সেটি হারিয়ে গেছে। কারো সাথে তেমন কথা বলত না দরকার ছাড়া। বাবার সাথে সেদিন থেকে তৈরি হয় এক বিশাল দূরত্ব। তার কিছুদিন পর তিশান লন্ডনের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। যদিও কেও রাজি ছিল না তার এই লন্ডনে যাওয়ার জন্য। কিন্তু তিশান বলেছিল, আমাকে প্রতিষ্ঠিত হতে হবে, নিজেকে যোগ্য হতে হবে এই সমাজের জন্য। যেখানে ভালোবাসা যোগ্যতার কাছে হেরে যায়, সেখানে আমাকে যোগ্য হতে হবে। আতঃপর লন্ডনে পড়াশোনা কমপ্লিট করে নিজের বিজনেস দাড় করায়। এখন সে টপ বিজনেসম্যান-দের মধ্যে একজন।


বর্তমান-

বাড়িতে হৈ-চৈ লেগেছে। তিশান আসবে আজ। রান্না-বান্নার তো শেষ হওয়ার নামই নিচ্ছে না, তিশানের পছন্দের সব ধরনের রান্না হচ্ছে আজ বাড়িতে। এইদিকে রোমের মধ্যে ফোনে কিছু একটা দেখছে আর মিটমিট করে হাসছে তিয়াশা। ফোনে যে ছবিটা ভেসে আছে এই মানুষটাকে যে ভিশন ভালোবাসে অষ্টাদশী। কবে থেকে, কিভাবে সে নিজেও জানেনা। তবে তিশান ভাই দেশে থাকতে এসব অনুভূতি সে বুঝেনি। যখনি সে দেশের বাহিরে চলে গিয়েছিল, তখন থেকেই তিয়াশা তার অনুভূতিগুলো বুঝতে শুরু করল।


Rate this content
Log in

More bengali story from তাসমি. নাহ!?

Similar bengali story from Romance