ভালবাসার স্রোত ( ১ পর্ব)
ভালবাসার স্রোত ( ১ পর্ব)
পিউ,পিউ,দরজা খোল,আজ কলেজের প্রথম দিন মা,আর আজকেই এত দেরি?আমি না থাকলে তোর যে কি হবে তা ভগবান ই জানে।
ঘুমন্ত চোখ কচলাতে কচলাতে দরজা খুলল পরিবারের সবার আদরের ছোট মেয়ে পিউ।
অরবিন্দ ঘোষ এবং মিতালি ঘোষের কনিষ্ঠ কন্যা পিউ অর্থাৎ পিয়ালি ঘোষ।এগারো জন সদস্য নিয়ে গঠিত একটু যুক্ত পরিবারের সবচেয়ে ছোট সদস্য পিউ।তার পরিবারে আছে বাবা, মা, কাকা, কাকিমা, ঠাকুমা, ঠাকুরদা, দুই দিদি আর দুই কাকাতো দাদা।
পিউ:আজ অনেকটা দেরি হয়ে গেলো মা।তুমি একটু হেল্প করে দাও না।আমি তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে আসছি।
মিতালি:ঠিক আছে,তাড়াতাড়ি আসিস।আমি তোর ব্রেকফার্স্ট আর টিফিন গুছিয়ে রাখছি।পিউ:আচ্ছা (বাথরুম থেকে আওয়াজ ভেসে এলো)
প্রায় 10মিনিট পর বাথরুম থেকে বেরিয়েই ফোন খুঁজতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে পিউ।কারণ ছোটবেলার বন্ধু শ্রেয়াকে ছাড়া তার দিন শুরুই হয় না।তাই স্কুল,কোচিং থেকে শুরু করে এখন কলেজেও একসাথে এবং একই ডিপার্টমেন্ট এর স্টুডেন্ট দুজনে।কেও কাওকে ছাড়া জীবনের একটা ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতম কাজ ও করে না।
ফোনটা হাতে তোলা মাত্রই ফোনের ওপর শ্রেয়ার নাম ভেসে ওঠে।ফোনটা রিসিভ করার সাথে সাথে ওপার থেকে রাগী রাগী গলার স্বর ভেসে আসে।
শ্রেয়া:তুই কি রে?কখন থেকে ফোন করছি তোকে,কি করছিলি তুই?
পিউ:রেগে যাচ্ছিস কেনো শ্রেয়া?বাথরুমে ছিলাম।(দুঃখী দুঃখী স্বরে উত্তর মিলল)
শ্রেয়া: আহা গো,রাগ দেখালে আবার মেয়ের মুখ ফুলে যায়। ঠিক আছে,ঠিক আছে এত দুঃখ পেতে হবে না।রেডি তো তুই?
পিউ:অলমোস্ট রেডি সোনা।জাস্ট 10মিনিট বকেই হয়ে যাবে।(চুলে ক্লিপ লাগাতে লাগাতে উত্তর আদুরে গলায় উত্তর দিলো)
শ্রেয়া:ok,গুড।আমি বাসস্ট্যান্ড এ দাঁড়াচ্ছি।তাড়াতাড়ি চলে আসিস।(কাধে ব্যাগ ঝোলাতে ঝোলাতে বলল)
পিউ:আচ্ছা।(সিঁড়ি থেকে নামতে নামতে উত্তর দিলো)
শ্রেয়ার বাড়ি থেকে পিউ এর বাড়ি খুব বেশি দূরে না হলেও হাঁটা পথে 7থেকে 10মিনিট সময় লাগে।
ফোন ব্যাগ এ রেখে তাড়াতাড়ি করে ডাইনিং টেবিল এ বসলো এবং বলল,
পিউ:মা খেতে দাও please।
মিতালি:হ্যাঁ রে মা।একটু বস।আসছি এক্ষুনি।
নীল(বড়দা): কিরে,মনে হচ্ছে যা অনেক দেরি করে ফেলেছিস।কলেজে ছেড়ে দেবো তোদের? আজ প্রথম দিন একটু তাড়াতাড়ি পৌঁছনো উচিত।
পিউ:কিন্তু তোর অফিস এ দেরি হয়ে যাবে না?
নীল:একদিন একটু দেরি হলে সমস্যা হবে না।
পিউ:আচ্ছা, ঠিক আছে।তাহলে বাসস্ট্যান্ড থেকে শ্রেয়াকে পিক আপ করতে হবে।
নীল:সে ঠিক আছে।ওসব নিয়ে তুই চিন্তা করিস না।
পিউ: কিরে ছোটদা,কেমন চলছে আয়ুশির সাথে?(ধীর স্বরে জিজ্ঞেস করলো)
আকাশ(ছোটদা): যেমন চলে তেমন ই।তবে জানিস মেয়েটা খুব জেদি রে।
মিতালী খবর নিয়ে আসায় এখানে স্থগিত থাকল বিষয়টি।
মিতালি:আকাশ একটু তরকারি দেবো?
আকাশ:না গো জেম্মা।আর কিছু লাগবে না।
মিতালি রান্না ঘরের দিকে অগ্রসর হতেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হলো।
পিউ:শোন ছোটদা,আজকালকার দিনের মেয়েরা একটু এরকমই।কিন্তু মেয়েটা তোকে সত্যিই ভালবাসে।ওকে একটু বোঝার চেষ্টা কর।ও সবার থেকে একটু আলাদা গোছের।বুঝলি?
আকাশ:হ্যাঁ বুঝলাম।আর সাথে এটাও বুঝলাম যে আমার ছোট্ট বোনটা এখন অনেক কিছু বুঝতে শিখে গেছে।
পিউ:ধুর,তেমন কিছুই না।এগুলো খুব সাধারণ বিষয়।মেজদি তুই আজ কথা বলছিস না কেনো?আজকে আমার এত বিশেষ একটা দিন আর তুই এরকম চুপ করে বসে আছিস? তুই তো সবথেকে বেশি খুশি হয়েছিলি এই দিনটার জন্য।
পমেলি (মেজদি): আরে কিছু না রে।তুই সাবধানে কলেজে যা।আর শোন আজ প্রথম দিন,কারোর উপর মাথা গরম করবি না, ঠিক আছে?
পিউ:ok ম্যাডাম।কিন্তু তোর কিছু তো হয়েছে বল না কি হয়েছে?
পোমেলি:তুই তো আমার একমাত্র বন্ধু রে বোন।সব কথা তো ফকরি বলি। ঠিক আছে বলবো,তুই কলেজ থেকে বাড়ি আয়। তারপর বলবো।
পিউ:আচ্ছা।(খাওয়া শেষ করে হাত ধুতে উঠল)
বড়দা,চল।
নীল:হ্যাঁ,নে,হেলমেট পর।আর এই হেলমেট টা হাতে ধর শ্রেয়ার জন্য।
পিউ:হ্যাঁ।
সবাইকে প্রণাম করে পিউ রওনা হলো কলেজের উদ্দেশ্যে।
কিছুদূর এসে শ্রেয়াকে পিক আপ করে তিনজনে গল্প করতে করতে প্রায় আধ ঘন্টা পর কলেজের গেটের সামনে পৌঁছালো এবং পিউ আর শ্রেয়া বাইক থেকে নেমে নীলকে বাই বলে কলেজে পা দিলো দুজনে।
চলছে.....
( এটা আমার প্রথম গল্প।কেমন লাগছে জানাবেন আপনারা।ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দেবেন)

