আকাশ ও শারমিন এর পূর্নতা
আকাশ ও শারমিন এর পূর্নতা
একটি ছেলে ছিলো, নাম আকাশ। খুবই ভদ্র, শান্ত স্বভাবের একজন। তার বাড়ি ছিলো চন্ডিপুর নামক একটি গ্রামে। ছোটবেলা থেকেই সে একটু লাজুক ছিলো। স্কুলজীবনেও কখনো কোনো মেয়ের সাথে কথা বলতো না। অনেক মেয়ে তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিলেও সে সবসময় দূরত্ব বজায় রাখতো।
তারপর হঠাৎ একদিন তাদের গ্রামের স্কুলে নতুন এক মেয়ে পড়তে এলো। মেয়েটিকে দেখেই আকাশ মুগ্ধ হয়ে গেলো। সেই মায়াবী চোখ, সেই দৃষ্টি—আকাশ শুধু অপলক তাকিয়ে থাকতো। এরপর থেকে আকাশ রোজ স্কুলের মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকতো মেয়েটিকে এক ঝলক দেখার জন্য। পরে জানতে পারলো মেয়েটির নাম শারমিন।
অনেকদিন ধরে আকাশ লুকিয়ে লুকিয়ে শারমিনকে দেখতো। অনেকবার চেষ্টা করেছে মনের কথাটা বলবে, কিন্তু লজ্জা আর ভয় তাকে আটকে রাখতো। অথচ শারমিন কোনোদিন বুঝতেই পারেনি, আকাশ নামের একজন ছেলে তাকে লুকিয়ে লুকিয়ে এত ভালোবাসে।
এসময় আকাশ অনার্স ৩য় বর্ষে পড়ে। পরিবারে আর্থিক অবস্থা খারাপ থাকায় হঠাৎ মালয়েশিয়া চলে যায়। যাওয়ার আগেও সে শারমিনকে একপলক দেখতে চেয়েছিলো, কিন্তু দেখা হয়নি।
বিদেশে গিয়ে কাজের চাপে ব্যস্ত হয়ে পড়লেও আকাশ কিছুই ভোলেনি। একদিন সে হঠাৎ ফেসবুকে স্কুলের বিদায় অনুষ্ঠানের একটি ছবি দেখে খুশিতে আত্মহারা হয়ে যায়, কারণ সেই ছবিতে শারমিন ছিলো। এরপর জানতে পারে, তার ছোট ভাই মিরাজ শারমিনের ক্লাসমেট। তখন আকাশ দেরি না করে মিরাজকে সব খুলে বলে।
মিরাজ একদিন শারমিনকে বললো, “একটা ভালো ছেলে আছে, তার সাথে একটু কথা বলে দেখো।” শারমিন খুব ভদ্র মেয়ে ছিলো। সে কখনো ছেলেদের সঙ্গে প্রেম করতো না, আর প্রেমের প্রস্তাব পেলে বাবা-মাকে জানাতে বলতো। তবুও মিরাজের কথা ফেলতে পারলো না। সে ফেসবুকে আকাশকে মেসেজ করলো। আকাশের জন্য এটি ছিলো বিশাল একটি উপহার।
এরপর শারমিন আর আকাশের মধ্যে কথা হতে লাগলো। কথা বলার ধরনেই শারমিন বুঝে গেলো, আকাশ তাকে পছন্দ করে। একদিন সরাসরি বলেই দিলো, “আপনি কি আমার সাথে রিলেশনে যেতে চান? যদি চান, তবে আগে আমার পরিবারকে জানাতে হবে।” আকাশ রাজি হয়ে গেলো। এরপর শারমিন তাকে ‘ভাইয়া’ থেকে ‘বেস্টু’ বলা শুরু করলো।
তাদের মধ্যে সম্পর্ক গভীর হতে লাগলো। আকাশ প্রতিদিন তার মনের কথা শারমিনকে বলতো। শারমিন ছিলো চার বোনের একজন, সে চাইতো পড়াশোনা শেষ করে বাবার পাশে দাঁড়াবে। আকাশ বললো, “তোমার স্বপ্নের পথে আমি কাঁটা হবো না, তুমি তোমার স্বপ্ন পূরণ করো, আমি অপেক্ষা করবো।”
এই কথায় শারমিনের মন গলে গেলো। সে বললো, “আমি আপনাকে ভালোবাসি।” আকাশ শুনে খুশিতে আত্মহারা হয়ে গেলো। তাদের প্রেম ধীরে ধীরে গভীর হতে লাগলো।
কিন্তু হঠাৎ শারমিনের পরিবার তার বিয়ের উদ্যোগ নেয়। শারমিন বললো, সে আকাশ ছাড়া কাউকে বিয়ে করবে না। তাই সে সিদ্ধান্ত নেয়, আকাশের মায়ের সঙ্গে কথা বলবে।
এদিকে আকাশ মালয়েশিয়ায় বসে মনমরা হয়ে পড়েছে। প্রিয় শারমিনকে হারাবে ভাবতেই পারছে না। সে তার মাকে বললো, “শারমিনকে নিয়ে নানির বাড়ি যশোর নিয়ে যাও। সেখানে ফোনে ভিডিও কলের মাধ্যমে আমাদের বিয়ে দিয়ে দাও।” আকাশের বাবা-মা ঠিক তাই করলো। কিন্তু শারমিনের মা আর দুলাভাই খবর পেয়ে গিয়ে তাকে টেনে ফিরিয়ে নিয়ে আসে।
এরপর শারমিনকে পাঠানো হয় ফুফির বাড়ি, নজরদারিতে রাখা হয়। আকাশ একেবারে ভেঙে পড়ে। কিন্তু শারমিন ছিলো বুদ্ধিমান। সে মিরাজকে ফোন করে জানায়, “আমি অভিনয় করবো যেন আকাশকে ভুলে গেছি। সবাই যখন বিশ্বাস করবে, তখনই পালাবো। তবে এবার কোনো ভুল চলবে না।”
পরিকল্পনা অনুযায়ী একদিন শারমিন কলেজে যায়, মিরাজও পৌঁছে যায়। শারমিনকে নিয়ে তারা যশোর চলে যায় আকাশের বড় খালার কাছে। কাজি অফিসে গিয়ে, আকাশকে ফোন দিয়ে বলা হয় বর সাজতে। আকাশ গোসল করে রেডি হয়ে যায়। তারপর ভিডিও কলে বিয়ে সম্পন্ন হয়।
আলহামদুলিল্লাহ, অবশেষে তারা তাদের ভালোবাসাকে পূর্ণতা দিতে পারে। এখন তারা স্বামী-স্ত্রী।
আকাশ খুব দ্রুত দেশে ফিরে আসবে তার প্রাণপ্রিয় “ময়না”র কাছে—শারমিন, যাকে সে ভালোবেসে ময়না বলে ডাকতো। এভাবেই আকাশ আর শারমিনের ভালোবাসা পূর্ণতা পেল, এবং তারা জীবনের নতুন পথে যাত্রা শুরু করলো।

