ভ্রমনপিপাসু মন
ভ্রমনপিপাসু মন
বর্ষাকালের আকাশের মত মেয়েটির মন
ক্ষণে ক্ষণে নিজেকে পাল্টায়
আকাশের মত বিশাল মেয়েটির মন
অনেক নক্ষত্র- তারা ধারণ করে সে নিজের মনে।
মেয়েটি এক বিচিত্র মনের মানুষ
স্বাধীনতাপ্রিয় মুক্তিকামী মানুষের বুকে
গুলি ছোড়া পদোন্নতিপ্রাপ্ত বন্দুকের নলে
পুরস্কারের গোলাপকে প্রত্যাখ্যান করে সে।
মেয়েটি স্বদেশের কাছের অতীতের পথে হাঁটতে হাঁটতে ইতিহাসের সদর রাস্তায় এসে থমকে দাঁড়ায়।
রাজপথ,মিছিল,পুলিশের কাঁদানেগ্যাস,জলকামানের সামনে কতগুলো সাহসী হাত হাত বাড়ায়।
আষাঢ়ের পুকুরের রাঙা পুঁটির মত হাতগুলো উর্ধ্বে লাফায়।
বাতাসে ভাসে বুলেটের আওয়াজর মত শ্লোগান
স্বৈরাচার নিপাত যাক,গণতন্ত্র মুক্ত হোক ।
মেয়েটি প্রতিবাদের ময়দানে এসে থামে
দেখে একটি ছেলে স্বৈরাচারের লাঠিতে আহত,
নিহত কলার ধরে তাকে টেনেহেঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছে উর্দি পরা গুন্ডা।
ছত্রভঙ্গ মিছিল,রক্তাক্ত রাজপথ।
হঠাৎই একটি সাহসী প্রাণ রুখে দাঁড়াল
অবশিষ্ট একটি হতাশ শক্তি রুদ্র হয়ে উঠল
হাতে আধলা ইটের টুকরো স্বৈরাচারের নলের দিকে এগিয়ে
আসতে আসতে চিৎকার দিয়ে বলছে
হৃদয়হীন শয়তানের বাচ্চা,আইন কী তোর বাপের?
সাহসটা,গালিটা,ইটের আধলাটা মেয়েটির খুব পছন্দ হয় ওড়নার কোণায় সচতনে বেঁধে রাখে সে।
মেয়েটির ভ্রমন পিপাসু মন গ্রহ উপগ্রহ গ্যালাক্সি ঘুরে ফিরে আসে মানুষের পৃথিবীতে
মেয়েটি লড়াইয়ের দুনিয়াতে হাঁটে
বঞ্চিত মানুষের ভীড়ে হাঁটে
হাঁটে শোষিত আর অধিকার হারা মানুষের নগরে।
খোঁজে প্রতিবাদী, গোঁয়ার, একরোখা একটি যুবক
যে শয়তানের মুখের উপর একটা আস্ত ইট মেরে বলবে, ক্ষমতা ছাড় হারামজাদা।
মেয়েটির মন আকাশের মত
তার মেয়েলি মন কখন কী চায়
পাঠ করা দুরূহ
অনিশ্চয়তার রৌদ্র ও মেঘ খেলা করে অবিরত।
মেয়েটি মেয়ে বলেই অবিরাম
বুনতে পারে স্বপ্নের মাকড়সার জাল
আর পুরুষেরা কাপুরুষ হয়ে চোখ বুঝে মেনে চলে
অত্যাচারী রাজার হুকুম।
