হাটের দিনে অচেনা সংকেত
হাটের দিনে অচেনা সংকেত
দীর্ঘ পনেরোটা বছর পর আসানসোলের চেনা মাটিতে পা রাখা। পনেরো বছর বাইরে কাটিয়ে দেওয়ার পর সৌরভ বুঝতে পারল সময় যে এই শহরটাকে কতটা বদলে দিয়েছে, তা বোধহয় আসানসোলের পুরোনো হাটের মুখে না পৌঁছালে অনুধাবন করা যেত না।
আজ হাটের দিন। ছোটবেলায় বাবার হাত ধরে রবিবারের সকালে এই হাটে আসার যে টান ছিল, সেটা আজও বুকের ভেতর হালকা দোলা দেয়। কত স্মৃতি—বাবার সাইকেলের রডে বসে থাকা, মায়ের কেনা টাটকা লেবু-পুদিনার সুবাস, কিংবা স্কুলের টিফিনের বিরতিতে পাঁচিল টপকে বন্ধুদের সাথে এই হাটে এসে চুরমুর খাওয়া, গরম জিলিপির ঠোঙা নিয়ে কাড়াকাড়ি।
অথচ আজ চারপাশে তাকালে কেমন যেন অচেনা লাগে। মাটির সেই শ্যাওলা ধরা পুরোনো শেড ভেঙে তৈরি হয়েছে চওড়া রাস্তা; বাঁশের খুঁটি লাগানো চটের চালার জায়গা নিয়েছে চকমকে আলো আর ডিজিটাল ব্যানার। চিৎকার করে দরদাম করার সেই চিরচেনা হাট-বাজারের হাঁকডাককে যেন ক্রমশ গিলে খেতে এগিয়ে আসছে শপিং মলের সুব্যবস্থিত যান্ত্রিক কৃত্রিমতা।
ভাবনার সুতো ছিঁড়ে গেল ঠিক তখনই, যখন ভিড়ের মাঝে এগোতে গিয়ে উল্টোদিকের এক অ্যান্টিক জিনিসের পসরায় একজনের সাথে সৌরভের ধাক্কা লাগল। হাত থেকে ছিটকে পড়া মাটির ছোট্ট ফুলদানি কুড়াতে গিয়ে সৌরভ বলে উঠল, "আই অ্যাম এক্সট্রিমলি সরি, খেয়াল করিনি..."
সামনে দাঁড়ানো ভদ্রমহিলাও নিচু হয়ে জিনিসটা তুলছিলেন। শান্ত গলায় বললেন, "না না, ঠিক আছে। ভিড়ের ভেতর এমনটা..."
কথাটা অসমাপ্ত রেখেই ভদ্রমহিলা মুখ তুলে তাকালেন। সেই চাহনি! চোখের কোণে জমে থাকা বিষাদ আর মায়াবী টান যেন এক লহমায় স্মৃতিপটকে বিদ্যুৎবেগে পনেরো বছর আগের স্কুল ক্লাসরুমে ফিরিয়ে নিয়ে গেল। ক্লাস টেনের টেস্ট পরীক্ষার ঠিক আগে যে মেয়েটা হঠাৎ কোনো পূর্বাভাস ছাড়া হারিয়ে গিয়েছিল—সেই তিতলি! তিতলি মুখার্জী!
আসানসোলের ব্যস্ততম বস্তিন বাজারের হাটের গমগমে কোলাহল, ক্রেতা-বিক্রেতার দরদাম, ভিড়ের ধাক্কাধাক্কি—সবকিছু যেন এক লহমায় নিস্তব্ধ হয়ে গেল। চারপাশের এত বড় আসানসোল শহরটা যেন সংকুচিত হয়ে এসে থামল শুধু দুটো মানুষের মাঝে।
"তিতলি? তুই... এখানে?" সৌরভের গলার আওয়াজ কেঁপে উঠল।
তিতলির মুখে এক অদ্ভুত বিষণ্ণ হাসি খেলে গেল। ফিসফিস করে বলল, "সৌরভ... এত বছর পর? তুই এখনও আসানসোলের এই বস্তিন বাজারের হাটের পথ ভুলিসনি?"
"আমি এই বদলে যাওয়া শহরে আমার হারিয়ে যাওয়া ফেলে আসা দিনগুলোকে খুঁজছিলাম তিতলি, আর এসে পেলাম তোকে..."
সৌরভ লক্ষ্য করল তার কথা শুনে তিতলির চোখের কোণটা চিকচিক করছে।
সময়ের প্রলেপ হয়তো চেনা হাটটার চেহারা বদলে দিয়েছিল, কিন্তু সেই বদলে যাওয়া ভিড়ের বুকেই যে তার জীবনের এক অমূল্য অধ্যায় এমন করে ফিরে আসবে—কে জানত!
ওরা দুজনে হাটের কোলাহল ছাড়িয়ে পুরোনো রেলওয়ে ওভারব্রিজের নিচের শান্ত চায়ের ঠেকে গিয়ে বসল। একসাথে দুই হারানো যুগলের কত কথা হলো—হারিয়ে যাওয়া ছেলেবেলা, স্কুলজীবনের সেই মধুর দিনগুলো। তবে সৌরভ বুঝতে পারছিল যে, তিতলি ওর বর্তমান জীবন নিয়ে খুব একটা কথা বলছে না। খালি বলল, "বার্নপুরের দিকে একটা পুরোনো কোয়ার্টার্সে একা থাকি। খুব একা সৌরভ।"
বিদায় নেওয়ার সময় তিতলি নিজের একটা পুরোনো চিরকুটে ওর বাড়ির ঠিকানা লিখে পুরোনো প্রেমিক সৌরভের হাতে দিল। এক অদ্ভুত নরম শীতল হাওয়া যেন সৌরভের আঙুল ছুঁয়ে গেল। বলল, "সময় পেলে একবার আসিস।"
পরদিন বিকেলে স্মৃতি আর কৌতূহল চেপে রাখতে না পেরে সৌরভ চলে যায় তিতলির দেওয়া সেই ঠিকানায়। আসানসোলের এক জীর্ণ, আগাছায় ঘেরা পুরোনো বাংলো ধরনের বাড়ি। লোহার মরচে ধরা গেট ঠেলে ভেতরে ঢুকতেই এক বৃদ্ধ ভদ্রলোক বেরিয়ে এলেন।
"কাকে চাই বাবা?"
"আজ্ঞে, তিতলি মুখার্জী... ও কি এখানে থাকে? কাল বস্তিন বাজারের হাটে ওর সাথে দেখা হয়েছিল।"
ভদ্রলোক পাথরের মতো দাঁড়িয়ে রইলেন। তাঁর চোখের দৃষ্টি মুহূর্তে বদলে গেল তীব্র এক হাহাকারে। ভারী গলায় বললেন, "এ কেমন নিষ্ঠুর রসিকতা বাবা! তিতলি আমার একমাত্র মেয়ে ছিল। আজ থেকে পনেরো বছর আগে, ঠিক এই হাটের দিনেই এক মারাত্মক পথ দুর্ঘটনায় ও আমাদের ছেড়ে চলে যায়..."
সৌরভের পায়ের তলার মাটি যেন সরে গেল। বুকের ভেতর রক্ত হিম হয়ে জমে বরফ।
"আপনি ভুল করছেন! কালই তো হাটে ও আমার সাথে কথা বলল, এই ঠিকানাটা দিল..." পকেট থেকে হাত কাঁপতে কাঁপতে সেই চিরকুটটা বের করল সৌরভ।
চিরকুটের দিকে তাকাতেই সৌরভের শিরদাঁড়া দিয়ে এক ঠান্ডা বরফের স্রোত নেমে গেল। হলদেটে হয়ে যাওয়া সেই পুরোনো কাগজের টুকরোটির ওপর পনেরো বছর আগের স্কুলের নীল কালির হরফে কেবল একটি কথাই লেখা ছিল—
"কিছু চেনা ডাক কোনোদিন মরে যায় না সৌরভ... তোর ভালোবাসা আমি আজও ভুলতে পারিনি, তাই অন্য লোক থেকেও আমাকে তোকে একবার সাড়া দিতে ছুটে আসতে হলো..."
চারপাশের গমগমে আসানসোল শহরটা যেন নিমেষে কুয়াশার চাদরে ঢেকে গেল, আর বাতাসের কানে কানে শুধু বেজে চলল এক নিঝুম স্মৃতির দীর্ঘশ্বাস।
উন্মত্তের মতো পা ফেলে সৌরভ সেই বাড়ির সামনে থেকে নেমে এল পিচের রাস্তায়। মাথার ভেতর হাজারটা করাত একসাথে চলছে। বুকের ভেতর এক অদ্ভুত অসাড়তা। তিতলি নেই... এই সত্যিটা কোনোভাবেই তার মস্তিষ্ক গ্রহণ করতে পারছে না।
হঠাৎ করেই আসানসোলের চেনা আকাশটা গাঢ় কালির মতো মেঘে ঢেকে গেল। দূর দামোদরের দিক থেকে ধেয়ে এল কনকনে ঠান্ডা বাতাস। মুহূর্তের মধ্যে শুরু হলো ঝমঝমে মুষলধারে বৃষ্টি। বৃষ্টির বড় বড় ফোঁটা যেন সুচের মতো বিঁধছে শরীরে। আশ্রয়ের খোঁজে সৌরভ দৌড়ে গিয়ে উঠল জিটি রোডের ধারের এক পুরোনো টিনের চালের চায়ের দোকানে।
দোকানের ভেতর কেরোসিনের কুপি জ্বলছে। বাইরে শ্রাবণের ধারাপাত। উনুনে ফুটতে থাকা লিকার চায়ের ধোঁয়া দোকানের স্যাঁতসেঁতে হাওয়াকে কিছুটা উষ্ণ করে রেখেছে। সৌরভ এক কোণে বেঞ্চে গিয়ে বসল। গায়ে কোনো তাপ নেই, হাত-পা বরফের মতো ঠান্ডা।
দোকানি বয়স্ক লোকটা মাটির ভাঁড়ে ধোঁয়া ওঠা চা এগিয়ে দিতে দিতে বলল, "যা বৃষ্টি নামল বাবু, সহজে থামার লক্ষণ নেই। এমন দিনে বাইরে বেরোলেন কেন? মুখ দেখে তো মনে হচ্ছে বড় কোনো চোট পেয়েছেন।"
সৌরভ কাঁপতে কাঁপতে মাটির ভাঁড়টা হাতে নিল। চায়ের ধোঁয়া নাকে লাগতেই নিজের অজান্তেই বুকের ভেতর চেপে থাকা পাথরটা নেমে এল, "চোট নয় কাকা... বিশ্বাস করতে পারছি না। কাল বিকেলেও মেয়েটাকে রক্তমাংসের শরীরে দেখলাম। আর একটু আগে ওর বাড়িতে গিয়ে ওর বাবার মুখে শুনলাম, তিতলি নাকি পনেরো বছর আগে অ্যাক্সিডেন্টে মারা গেছে!"
দোকানি চায়ের ছাঁকনিটা নামিয়ে রেখে তীক্ষ্ণ চোখে তাকাল সৌরভের দিকে। তার কপালে চিন্তার বলিরেখা গভীর হলো। লোকটা ধীর গলায় বলল, "তিতলি? ওই মাস্টার মশায়ের মেয়ে তো? হ্যাঁ বাবু, আপনি ঠিকই শুনেছেন। তিতলি তো অনেককাল আগেই মরে গেছে। কিন্তু... আপনি এ কথা কার মুখে শুনলেন বললেন?"
"কেন, তিতলিদের বাড়ি গিয়েছিলাম। ওর বাবার মুখে!" সৌরভ উত্তেজিত হয়ে বলল।
চায়ের দোকানি এবার এক পা পিছিয়ে গেল। তার চোখেমুখে ফুটে উঠল এক অচেনা আতঙ্ক। অস্ফুটে বলল, "মাথা ঠিক আছে তো বাবু আপনার? আপনি তিতলির বাবার সাথে কথা বললেন কী করে? যে রাতে হাইওয়েতে লরি নয়, একটা বেপরোয়া প্রাইভেট গাড়ি তিতলিকে পিষে দিয়েছিল, তিতলির বাবা যে মেয়ের সাথেই বাইকে ছিলেন! তিতলি আর ওর বাবা—দুজনেই তো সেই রাতেই স্পট ডেড হয়েছিল! ওদের পুরো পরিবারটাই তো সে রাতে শেষ হয়ে গিয়েছিল!"
কথাটা বিদ্যুৎস্পৃষ্টের মতো আছড়ে পড়ল সৌরভের মাথায়। কান দিয়ে যেন গরম সীসা নামছে। তিতলির বাবাও মৃত? তবে দরজায় দাঁড়িয়ে কে কথা বলল? পুরো বাড়িটা... সেই দরজা, সেই মানুষটা... সব কি মায়া?
ভয়, পাগলামি আর এক অবর্ণনীয় হাহাকারে সৌরভ চায়ের ভাঁড়টা ফেলে দিয়ে ছিটকে বেরিয়ে এল রাস্তায়। বৃষ্টির জল তার মুখ ধুয়ে দিচ্ছে, কিন্তু সে কিছুই অনুভব করতে পারছে না। সে উন্মাদ হয়ে ছুটতে লাগল আসানসোলের ফাঁকা হাইওয়ের দিকে।
দৃষ্টি ঝাপসা। সামনে কিছুই দেখা যাচ্ছে না। ভাবনার অতল গভীরে তলিয়ে যেতে যেতে সৌরভ যখন হাইওয়ের মাঝের ডিভাইডারটা পার হতে গেল, ঠিক তখনই অন্ধকারের বুক চিরে তীব্র হর্ন বাজিয়ে ধেয়ে এল এক দানবীয় লরি। চাকার কর্কশ ঘর্ষণে বাতাস চিরে গেল। সৌরভের চোখের সামনে তীব্র হেডলাইটের আলো। পালানোর কোনো পথ ছিল না।
লরিটি সরাসরি এসে প্রচণ্ড গতিতে পিষে দিয়ে চলে গেল সৌরভের শরীরটাকে।
বাতাস স্তব্ধ। সৌরভ চোখ বুজে ফেলেছিল নিশ্চিত মৃত্যুর ভয়ে। কিন্তু কয়েক মুহূর্ত পর সে চোখ মেলল। কোনো যন্ত্রণা নেই। কোনো হাড় ভাঙেনি। শরীরে এক ফোঁটাও রক্তের দাগ নেই। এমনকী তার জামাকাপড়ে সামান্যতম একটা আঁচড়ও লাগেনি! সে অক্ষত অবস্থায় পিচঢালা রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে আছে!
এ কেমন করে সম্ভব? এত বড় একটা লরি তাকে পিষে দিয়ে চলে গেল, আর তার কিছুই হলো না? সৌরভের সমস্ত চেতনা যেন একটা হিমশীতল শূন্যতায় গিয়ে ধাক্কা খেল। সে কাঁপতে কাঁপতে নিজের দু'হাত চোখের সামনে তুলে ধরল। বৃষ্টির ফোঁটা তার হাতের ওপর পড়ছে, কিন্তু চামড়ায় কোনো আর্দ্রতা লাগছে না!
আর ঠিক সেই মুহূর্তে, পনেরো বছর ধরে অবচেতনের গভীরে চাপা পড়ে থাকা এক ভয়ংকর কালরাত্রির স্মৃতি তার স্মৃতিপটে চলচ্চিত্রের মতো ভেসে উঠল।
পনেরো বছর আগের এক ঝড়বৃষ্টির রাত...
বন্ধুদের সাথে পার্টিতে মাত্রাতিরিক্ত মদ গিলে সে নিজের নতুন স্টিয়ারিংয়ে বসেছিল। বেপরোয়া স্পিডমিটারে কাঁটা ছুঁয়েছিল একশো কুড়ি। আসানসোলের নিঝুম হাইওয়েতে মাতাল সৌরভ নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল। হঠাৎ হেডলাইটের আলোয় ভেসে উঠেছিল বাইকে চেপে ঘরে ফেরা এক বাবা আর তার স্কুলপড়ুয়া মেয়ে।
ব্রেক কষার কোনো সময় ছিল না। প্রচণ্ড ধাতব শব্দে বাইকটা দুমড়ে-মুচড়ে ছিটকে পড়েছিল পথের ধারে। সৌরভ নেশার ঘোরে টলতে টলতে গাড়ি থেকে নেমে দেখেছিল—রক্তের বন্যায় ভেসে যাচ্ছে একটা চেনা মুখ... তিতলি! আর তার পাশে নিথর পড়ে আছেন তার স্কুলমাস্টার বাবা!
সেই রক্ত দেখে মুহূর্তে নেশা ছুটে গিয়েছিল তার। কিন্তু অনুশোচনার আগেই সে দেখেছিল দূর থেকে উন্মত্ত জনতা চিৎকার করতে করতে লাঠিসোঁটা নিয়ে ছুটে আসছে তার দিকে। ভয়ে, আত্মরক্ষার পৈশাচিক তাগিদে সে আর এক মুহূর্ত দাঁড়ায়নি। ছিটকে উঠে বসেছিল গাড়ির স্টিয়ারিংয়ে। এক্সিলারেটরে চাপ দিয়ে গাড়ি ছুটিয়ে দিয়েছিল দামোদরের ব্রিজের দিকে।
পেছনে তাড়া করা মানুষের চিৎকার... ঝড়ের গর্জন... আর সেতুর বাঁকে এসে হড়কে যাওয়া সেই চাকা। রেলিং ভেঙে সৌরভের গাড়িটা সোজা গিয়ে আছড়ে পড়েছিল অতল দামোদরের জলে। তলিয়ে গিয়েছিল জলের অন্ধকার গভীরে।
চারদিন পর নদী থেকে কেবল দুমড়ে যাওয়া গাড়িটাই তোলা সম্ভব হয়েছিল। সৌরভের মৃতদেহ কোনোদিনই পাওয়া যায়নি। দামোদরের বালুচরে, চোরাবালির গভীরে চিরতরে হারিয়ে গিয়েছিল তার দেহ।
আজ পনেরো বছর পর হাইওয়ের নিঝুম অন্ধকারে দাঁড়িয়ে সৌরভ বুঝতে পারল—তিতলি তাকে খুঁজতে আসেনি। তিতলির বাবাও তাকে পথ দেখায়নি। আসলে সে নিজেই পনেরো বছর আগে মরে ভূত হয়ে গেছে।
নিজের করা সেই ক্ষমার অযোগ্য পাপ, সেই অপরাধবোধের অনন্ত নরকে বন্দি হয়ে তার অতৃপ্ত আত্মা প্রতি অমাবস্যায় এই আসানসোলের হাটে তিতলিকে খুঁজে ফেরে... আর বারবার নিজের মৃত্যুর সেই বিভীষিকা নতুন করে প্রত্যক্ষ করে।
বৃষ্টির জল সৌরভের অস্তিত্বহীন শরীর ভেদ করে পিচের রাস্তায় মিশে যেতে লাগল। দূরে, হাইওয়ের কুয়াশার ভেতর থেকে কেউ যেন ভারী গলায় ডাকল, "সৌরভ... অনেক রাত হলো... এবার দামোদরের জলে ফিরে চল..."
************
লেখকের কলম থেকে:
কিছু মৃত্যু শুধু শরীরকে কেড়ে নেয় না, সময়ের ঘড়িতে আটকে রেখে দেয় এক অনন্ত অনুশোচনার শাস্তি। সৌরভের এই অতিলৌকিক উপলব্ধি আসলে কোনো সাধারণ ভূতের গল্প নয়—বরং নিজের অতীতের ক্ষমার অযোগ্য পাপের সামনে দাঁড়িয়ে এক অতৃপ্ত আত্মার চরম স্বীকারোক্তি।
আসানসোলের চেনা পথের ভিড়ে দাঁড়িয়ে সৌরভের এই ট্র্যাজিক পরিণতি আপনাদের কেমন লাগল? গল্পের শেষ মোড়টা কি মন ছুঁতে পারল? কমেন্টে আপনাদের মূল্যবান মতামত পেলে পরবর্তী লেখার অনুপ্রেরণা পাব।
— সুপ্রিয় নীল

